দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা এর প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও ব্যর্থতার কারণ

দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন, Learn more about dual system. দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বলতে কি বুঝ?এর প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও ব্যর্থতার কারণ। What
Join our Telegram Channel!


দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। Learn more about dual system. দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বলতে কি বুঝ? এর প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও ব্যর্থতার কারণ।

What is meant by dualism? Its nature, characteristics and causes of failure.

দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা এর প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও ব্যর্থতার কারণ


ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন (২২১৯০১) 

১৯১৯ সালে ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলোতে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলোর মধ্যে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল সরকারের বিভিন্ন বিভাগকে দুই ভাগে ভাগ করে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করা। 

দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা : 

১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ বাংলার নবাব থেকে দেওয়ানি সনদ প্রাপ্ত হলে যে শাসন প্রণালীর উদ্ভব হয়, তা ইতিহাসে দ্বৈত শাসন নামে পরিচিত। ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন ব্যবস্থাকে এক অভিনব শাসনব্যবস্থা বলে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী এ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। 


এ শাসনব্যবস্থার মূলকথা হলো সরকারের বিভিন্ন বিষয়কে দুইভাগে ভাগ করে শাসনকার্য পরিচালনা করা। যথা- (ক) সংরক্ষিত বিষয়সমূহ এবং (খ) হস্তান্তরিত বিষয়সমূহ। সংরক্ষিত বিষয়সমূহের মধ্যে ছিল পুলিশ, বিচার বিভাগ, অর্থ বিভাগ। এ বিষয়সমূহ পরিচালনা করতেন প্রাদেশিক গভর্নর। আর হস্তান্তরিত বিষয় যেমন- শিক্ষা কৃষি, জনস্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয় মন্ত্রীদের সহায়তার প্রাদেশিক গভর্নর পরিচালনা করতেন। 

দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার প্রকৃতি : 

অভিনব শাসনব্যবস্থা নামে পরিচিত দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার প্রকৃতি ছিল নিম্নরূপ :

১. গভর্নরের আজ্ঞাবহ মন্ত্রিপরিষদ : হস্তান্তরিত বিষয়গুলো পরিচালনা করার জন্য গভর্নর কর্তৃক মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ নির্বাচিত হতো বিধায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণের কোনো বাড়তি ক্ষমতা থাকতো না। তারা থাকতো গভর্ননের আজ্ঞাবহ হয়ে।

২. দুই কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি : কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রাদেশিক প্রশাসনের আওতাধীন বিষয়সমূহকে দু'ভাগে ভাগ করে দুটি ভিন্ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। আর এ দুটি ভাগ হলো সংরক্ষিত ভাগ ও হস্তান্তরিত ভাগ । 

৩. দায়িত্ব পালনে প্রশাসনিক ভিন্নতা : সংরক্ষিত বিষয়সমূহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না। অপরদিকে, হস্তান্তরিত বিষয়গুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ আইন পরিষদ ও গভর্নরের নিকট দায়ী ছিল। ফলে প্রশাসনিক দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ ও শাসন পরিষদের মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

৪. গভর্নরের একচ্ছত্র ক্ষমতা : গভর্নর ও শাসনপরিষদ আইন পরিষদের কর্তৃত্বমুক্ত ছিল। প্রাদেশিক বিষয়গুলোর সংরক্ষিত বিষয়সমূহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের কোনো কর্তৃত্ব না থাকায় গভর্নর তার কার্যাবলির জন্য আইন পরিষদের নিকট দায়ী ছিলেন না।

দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণসমূহ : 

গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতার যে কারণগুলো সামনে আসে সেগুলো হলো:

১. সুশৃঙ্খলা দলীয় ব্যবস্থার অভাব : রাজনৈতিক যেকোনো আইন বা সংস্কারের মধ্য থেকে সুফল পেতে হলে প্রয়োজন একটি সুগঠিত ও সুশৃঙ্খল দলীয় ব্যবস্থা। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় এটা ব্যাপক অনুপস্থিতি লক্ষ করা যায়। 

স্থানীয় পর্যায়ে মন্ত্রীদের সমর্থন করার মতো প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দারুণ অভাব ছিল। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার প্রভাবও লক্ষ করা যায়। কিছু কিছু মন্ত্রী কেন্দ্রের সহযোগিতা না পাবার দরুন দুর্নীতির আশ্রয় নিতে থাকে।

২. শাসন পরিষদ ও মন্ত্রিপরিষদের দ্বন্দ্ব : প্রশাসনিক সাহায্য চাইলে শাসন পরিষদ সেটা সবসময় দিতো না। অথচ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার সফলতার জন্য এ জিনিসটার প্রয়োজন ছিল সবচেয়ে বেশি।

৩. গভর্নরের অবাধ ক্ষমতা : দ্বৈতশাসনের মূল বিষয়ই ছিল সরকারের অধীনে থাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিষয়সমূহকে দু'ভাগে ভাগ করে শাসন করা। এজন্য বিষয়সমূহকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরযোগ্য এ দু'ভাগে ভাগ করে যার যার দায়িত্ব ও কর্তব্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়। 

কিন্তু সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গভর্নর। প্রত্যেকটা বিভাগে অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে কোনো আমলাই তার সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। যেহেতু গভর্নর তার কাজের জন্য কারো নিকট দায়বদ্ধ ছিল না, সেহেতু তার হস্তক্ষেপ করাটাই সাধারণ ব্যাপার ছিল।

৪. নিয়ন্ত্রণহীন মন্ত্রিপরিষদ: দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শাসন পরিষদের অসহযোগিতা ও গভর্নরের হস্তক্ষেপের কারণে মন্ত্রীগণ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। ফলে শাসনব্যবস্থায় কোনো Chain of Command ছিল না। 

৫. সাম্প্রদায়িক বিরোধ : হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব ও বিরোধ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দেয়। তৎকালীন ভারতে পরিচালিত বিভিন্ন কমিশনের রিপোর্টেও সাম্প্রদায়িক বিরোধকে এ শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হয়। 

উপসংহার : 

আলোচনার দ্বারপ্রান্তে এসে আমরা বলতে পারি যে, উপরোল্লিখিত কারণসমূহ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতার অন্যতম কারণ ছিল। শাসনকার্যকে সহজীকরণের জন্য প্রবর্তিত দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে তেমন সুফল বয়ে আনতে পারেনি। যার ফলে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত টিকে থাকা এ ব্যবস্থা অন্য একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে বিলুপ্তি ঘোষণা করতে হয়।


English Version

Introduction:

In 1919, through the Rule of India Act, the system of dual rule was established in the provinces of British India at that time. Dualism was also important among other important reforms brought about by the Government of India Act. The main aim of the dual system of government was to divide the various departments of the government into two parts to run the administration.

Dual system:

The dual system of governance introduced by the British government is termed as a novel system of governance. This system was introduced under the Government of India Act, 1919. 
The main idea of ​​this governance system is to divide the various affairs of the government into two parts and manage the governance. namely- (a) reserved matters and (b) transferred matters. Among the reserved subjects were Police, Judiciary, Finance Department. 
These affairs were managed by the provincial governor. And the devolved subjects like education, agriculture, public health etc. were managed by the provincial governor with the assistance of the ministers.

Nature of Dual System:

The nature of the dual system known as Abhinav regime was as follows:

1. Governor's Cabinet: The members of the cabinet were appointed by the governor to manage the devolved affairs and hence the cabinet members had no additional powers. They were obedient to the government.

2. Presence of two authorities: The subjects under the provincial administration were divided into two by the central government and administered by two different authorities. And these two parts are reserved part and transferred part.

3. Administrative differences in performance of duties: Cabinet members had no authority in reserved matters. On the other hand, the Cabinet was responsible to the Legislative Council and the Governor in the management of devolved affairs. As a result, differences are observed between the Cabinet and the Governing Council in terms of administrative responsibility.

4. Absolute Power of the Governor: The Governor and the Governing Council were independent of the authority of the Legislative Council. As the Cabinet had no authority in matters reserved for provincial affairs, the Governor was not responsible to the Legislative Council for his functions.

Reasons for failure of dual system:

A closer look reveals the reasons for the failure of the dual system:

1. Lack of disciplined party system: A well-structured and disciplined party system is necessary to reap the benefits of any political law or reform. It is widely absent in the dual system. There was a great lack of administrative transparency to support ministers at the local level. 
Moreover, the effect of communalism can also be observed among the political parties. Some ministers resorted to corruption due to lack of cooperation from the Centre.

2. Conflict between the ruling council and the cabinet: When administrative help was sought, the ruling council did not always give it. But this thing was most needed for the success of the dual system.

3. Unfettered Power of the Governor: The essence of dualism was to divide the various ministries and affairs under the government into two divisions. For this reason, the matters are divided into reserved and transferable, whose responsibilities and duties are explained. 

But the governor became an obstacle in carrying out his duties properly. No bureaucrat could perform his proper duties due to undue interference in every department. Since the governor was accountable to no one for his actions, it was common for him to intervene.

4. Unruly Cabinet: Non-cooperation of the Governing Council and interference of the Governor in the discharge of duties led the Ministers to indulge in various misdeeds. As a result there was no chain of command in the governance system.

5. Communal Conflict: Hindu-Muslim conflict and conflict emerged as one of the reasons for the failure of the dual system. The reports of various commissions conducted in India at that time also blamed communal strife for the failure of this regime.

Conclusion:

Coming to the end of the discussion, we can say that the above reasons were one of the reasons for the failure of the dual system. The system of dual rule introduced to simplify governance did not bring much benefit to British India at that time. As a result, this system, which lasted until 1935, had to be abolished by taking another step.

বৈশিষ্ট্য ও ব্যর্থতার কারণ, বৈশিষ্ট্য ও ব্যর্থতার কারণ, বৈশিষ্ট্য ও ব্যর্থতার কারণ, বৈশিষ্ট্য ও ব্যর্থতার কারণ, বৈশিষ্ট্য ও ব্যর্থতার কারণ, বৈশিষ্ট্য ও ব্যর্থতার কারণ,

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.
close