বাংলায় সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের রাজত্বকাল

0
ফেইসবুকে আমাদের সকল আপডেট পেতে Follow বাটনে ক্লিক করুন।




প্রশ্ন : সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের রাজত্বকাল পর্যালোচনা কর। অথবা, গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের রাজত্বকালের একটি বর্ণনা দাও। অথবা, সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের শাসনকাল সম্বন্ধে আলোচনা কর।


গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের

উপস্থাপনা : 

গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ বাংলার স্বাধীন ইলিয়াস শাহী বংশের একজন সুযোগ্য সুলতান ছিলেন। তাঁর রাজত্বকাল বাংলার ইতিহাসে এক বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করে। বিদ্যোৎসাহী ও ন্যায়বিচারক হিসেবে তিনি ইলিয়াস শাহী বংশের একজন অন্যতম শাসকের ভূমিকা পালন করেন। 

তাঁর রাজত্বকালে কিছু কিছু ঘটনা এতই বৈচিত্র্যময় ছিল তাঁকে একজন রূপকথার নায়ক বললেও অত্যুক্তি হবে না। গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ ছিলেন তাঁর পিতা ও পিতামহের মতো দক্ষ সুলতান। যুদ্ধবিগ্রহের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব ছাড়াও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্যই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন ।

গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের সিংহাসনারোহণ : 

পিতা সুলতান সিকান্দার শাহকে হত্যা করে তদীয় পুত্র গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ উপাধি ধারণ করে ১৩৯২ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। কথিত আছে, সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্যে 

তিনি তাঁর ১৭ জন বৈমাত্রেয় ভাইয়ের চক্ষু উৎপাটন করে অন্ধ করে দেন। সিংহাসনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের চক্ষু উৎপাটনপূর্বক অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করেন। 

পোস্তজল পান করিয়ে বুদ্ধির বিকৃতি ঘটানো কিংবা বিষ প্রয়োগে ধীরে ধীরে হত্যা করা কনস্টান্টিনোপলের তুর্কিদের মধ্যেই অধিক প্রচলিত ছিল। সেখানে একটি প্রবাদ প্রচলিত ছিল, 'রাজার কোনো আত্মীয় নেই'। 

বাংলার সিংহাসন নিষ্কণ্টক করার জন্য ভাইদের চক্ষু বিনষ্ট করে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ সে দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু বুকাননের বিবরণী হতে জানা যায়

সুলতান গিয়াসউদ্দিন তাঁর ভ্রাতাদের অন্ধ করেননি, হত্যা করেছিলেন। তবে বিমাতার চক্রান্ত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য তিনি এরূপ নিষ্ঠুরতার আশ্রয় নিয়েছিলেন।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের রাজত্বকাল/শাসনকাল: 

রাজ্য বিজয় ও সম্প্রসারণে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ খ্যাতি লাভ না করলেও চরিত্রবান, সুযোগ্য, বিদ্যোৎসাহী, ন্যায়বিচারক ও সুশাসকরূপে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। নিম্নে তাঁর রাজত্বকাল সম্বন্ধে বিশেষ ঘটনাসমূহ উল্লেখ করা হলো

১. কামরূপ অভিযান : 

কামরূপ অভিযান সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের রাজত্বকালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনি তাঁর শাসনকালের শেষদিকে কামরূপ অভিযান করেছিলেন। সুলতান ইলিয়াস শাহের রাজত্বকালের শেষদিকে কামরূপ বিজিত হয়েছিল। 

সম্ভবত সিকান্দার শাহের রাজত্বকালে কামরূপে মুসলিম আধিপত্য বিলুপ্ত হয়েছিল এবং গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ মুসলিম আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ‘যোগিনীতন্ত্র' নামক একখানি গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ১৩১৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানগণ কামরূপ অভিযান করে এবং ১২ বছর যাবত কামরূপ অধিকারে রাখেন।

২. আসাম অভিযান : 

‘আসাম বুরঞ্জীতে' গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ কর্তৃক আসাম অভিযানের ইতিহাস বিবৃত হয়েছে। অহোমরাজ সুধাঙ ফা কামতা রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরণ করেন। কারণ কামতারাজ তাও সুলাই' নামক একজন অহোম বিদ্রোহীকে তাঁর দরবারে আশ্রয় প্রদান করেছিলেন। 

এ দু প্রতিবেশী রাজ্যের বিরোধের সুযোগে গিয়াসউদ্দিন কামতা রাজ্য আক্রমণ করেন। কামতারাজ মুসলিম আক্রমণ প্রতিরোধকল্পে অহোমরাজের সঙ্গে স্বীয় কন্যা ভাজনীয়কে বিয়ে দিয়ে তাঁর সঙ্গে সন্ধি করেন 

এবং সুধাঙ ফার সঙ্গে মিলে গিয়াসউদ্দিনের সৈন্যদলকে আক্রমণ করেন। গিয়াসউদ্দিন সসৈন্যে করতোয়া নদীর অপর তীরে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

৩. কূটনৈতিক সম্পর্ক : 

বহির্বিশ্বের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের রাজত্বকাল বিশেষ প্রসিদ্ধি অর্জন করে। এ সময় বাংলা বহির্ভারতের সঙ্গেও বন্ধুত্ব রক্ষা করে চলত। 

গিয়াসউদ্দিন চীন সম্রাটের নিকট বহু উপহার সামগ্রী প্রেরণ করেন। এ উপহার বিনিময় পরবর্তীকালেও অব্যাহত ছিল। চীনা গ্রন্থের বর্ণনা মতে, আযম শাহ চীন সম্রাটের নিকট ১৪০৫-১৪০৮ এবং ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দে দূত ও উপহার প্রেরণ করেছিলেন। 

তারপর প্রায় প্রত্যেক বছর উভয় দেশের মধ্যে দূত ও উপহার বিনিময় চলত । চীনা প্রতিনিধি দলের সাথে দোভাষী হিসেবে মাহুয়ান বাংলায় আগমন করেছিলেন। তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করে তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে 

তৎকালীন বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা লিপিবদ্ধ করে বাংলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পারস্য ও আরবদেশের সাথেও গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ।

৪. জৌনপুরের শাসনকর্তার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন : 

ঐতিহাসিক ফিরিশতার মতে, গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ জৌনপুরের শাসনকর্তা খাজা জাহান উপাধিধারী মালিক সরওয়ারের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে জৌনপুরে কয়েকটি হস্তীসহ অন্যান্য উপহারসামগ্রী প্রেরণ করেন। জৌনপুরের সাথে বাংলার সীমানা মিলিত ছিল। ই

তোপূর্বে কয়েকবার দিল্লির সেনাবাহিনী জৌনপুরের ভেতর দিয়ে বাংলা আক্রমণ করেছিল। জৌনপুরের সাথে মৈত্রী সম্পর্ক স্থাপনের ফলে দিল্লির সেনাবাহিনীর বাংলা আক্রমণের আশঙ্কা তিরোহিত হয়ে যায়।

৫. শিক্ষা সংস্কৃতির উন্নয়ন : 

শিক্ষা সংস্কৃতির বিস্তার ও বাংলা সাহিত্যের বিকাশে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের রাজত্বকাল বাংলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে। এ সময় সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। তাঁর রাজত্বকালেই প্রথম বাঙালি মুসলিম কবি শাহ মুহাম্মদ সগীর ‘ইউসুফ জুলেখা' রচনা করেন। 

ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, শাহ মুহাম্মদ সগীর সুলতানের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন। সুলতান নিজেও কাব্যপ্রিয় ছিলেন। তিনি হেরেমের মেয়েদের সাথে রসিকতা করে কবিতার একটি চরণ রচনা করেন। কিন্তু কবিতার দ্বিতীয় চরণ লিখতে না পেরে দ্বিতীয় চরণটি লেখার অনুরোধ জানিয়ে দূত মারফত ইরানের কবি হাফিজের নিকট প্রেরণ করেন।

 কবি হাফিজ কবিতার দ্বিতীয় চরণটি লিখেন এবং অন্য একটি গজল রচনা করে সুলতানকে উপহার দেন। এ থেকেই তাঁর কাব্যপ্রীতির পরিচয় পাওয়া যায়।

৬. মাদরাসা ও সরাইখানা নির্মাণ : 

গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ মক্কা ও মদিনায় বহু অর্থ ব্যয়ে মাদরাসা ও সরাইখানা প্রতিষ্ঠা করেন। শহর দুটির অধিবাসীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে তিনি বহু অর্থও প্রেরণ করেন। সমসাময়িক আরব দেশীয় এবং ভারতীয় অনেক ঐতিহাসিকের বর্ণনায় বিবরণ পাওয়া যায়। 

মাদরাসার নিকট দুখণ্ড জমি এবং চারটি জলাধার কিনে মাদরাসাকে দান করা হয়। এ সম্পত্তির আয়ের এক পঞ্চমাংশ থেকে শিক্ষকদের বেতন ও সম্মানি ভাতা প্রদান করা হতো, তিন পঞ্চমাংশ দ্বারা ছাত্রদের ব্যয় নির্বাহ করা হতো

বাকি এক পঞ্চমাংশের দুই তৃতীয়াংশ দিয়ে মাদরাসার অন্যান্য কর্মচারীদের ব্যয় বহন করা হতো এবং এক তৃতীয়াংশ দ্বারা মাদরাসার প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংগ্রহ করা হতো। 

মাদরাসা ভবনের সম্মুখে অবস্থিত একটি বাড়ি চারশ স্বর্ণমুদ্রায় ক্রয় করে মাদরাসার জন্যে ওয়াকফ করা হয়। গোলাম আলী আজাদ বিলগ্রামী মাদরাসা, খাল খনন এবং সরাইখানা নিজে প্রত্যক্ষ করেন। 

এতে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের বিদ্যোৎসাহিতা এবং পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও ভক্তির প্রমাণ মিলে ।

৭. সুফী সাধকদের সমাবেশ : 

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ পিতা ও পিতামহের মতো মুসলিম সুফীদের অত্যন্ত ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন। তাঁর সমসাময়িক সুফীদের সঙ্গে শায়খ আলাউল হকের পুত্র ও শিষ্য শায়খ নূর কুতুবুল আলম প্রসিদ্ধ ছিলেন। 

আযম শাহ শায়খ নূর কুতুবুল আলমের সহপাঠী ছিলেন এবং উভয়ে হামিদউদ্দিন কুনজনশীন নাগৌরীর নিকট জ্ঞানার্জন করেন। কথিত আছে, কুতুবুল আলমের ভাই আযম খান সুলতানের উজির ছিলেন। 

সুলতান প্রায়ই শায়খ নূর কুতুবুল আলমের কাছে পরামর্শ ও উপদেশ চাইতেন। বিহারের মুজাফফর শামস বলখি নামক আর একজন দরবেশকেও তিনি অত্যন্ত ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন।

৮. ন্যায়নিষ্ঠ বিচারব্যবস্থা : 

তাঁর রাজত্বকাল ন্যায়বিচারের জন্য খ্যাতি অর্জন করে। 'রিয়াজ-উস সালাতীন' গ্রন্থে গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। 

একদিন তীর ছোঁড়ার সময় সুলতানের তীর আকস্মিকভাবে এক বিধবার পুত্রকে আঘাত করে। বিধবা কাযী সিরাজউদ্দিনের বিচারালয়ে এর বিচার প্রার্থনা করেন। কাযী সুলতানকে আদালতে ডেকে পাঠান এবং আসনের নিচে একটি চাবুক রেখে দেন। 

সুলতান আদালতে হাজির হলে কাযী বিধবাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দেন। সুলতান কাযীর রায় মেনে নিয়ে বিধবাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করেন। অতঃপর কাযী আনন্দচিত্তে উঠে দাঁড়ান এবং সুলতানকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে মসনদে বসান। 

তখন সুলতান বগল থেকে একটি তরবারি বের করে বলেন, কাযী সাহেব, আজ যদি আমি আপনাকে আইনের নির্দেশের প্রতি নিষ্ঠা থেকে একচুল পরিমাণ বিচ্যুত দেখতে পেতাম তাহলে এ তরবারি দিয়ে আপনার শিরশ্ছেদ করতাম। 

কাযীও মসনদের নিচ থেকে চাবুক বের করে বলেন, “হুজুর, যদি আপনাকে আজ আমি পবিত্র আইনের সামান্যতম লঙ্ঘন করতে দেখতাম তাহলে আল্লাহর দোহাই, এ চাবুক দিয়ে আমি আপনার পিঠ ক্ষত বিক্ষত করে দিতাম।" এ কাহিনী থেকে গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের ন্যায়নিষ্ঠার পরিচয় প্রতিভাত হয়।

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের চরিত্র : 

গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ প্রতিকূল পরিবেশে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে অতি অল্পকালের মধ্যে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। তাঁর এ সাফল্যের পিছনে কারণ ছিল তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সাহসিকতা। 

তিনি ছিলেন একাধারে ধর্মপরায়ণ, প্রজাতিতৈষী ও দয়ালু শাসক। তিনি সর্বদাই প্রজাসাধারণের সুখ শান্তি ও কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। তিনি হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি বজায় রাখতেন। তিনি গরিব দুঃখীদের উদারহস্তে দান করতেন। বিদ্যানুরাগী শাসক হিসেবে তিনি ছিলেন কাব্যপ্রেমিক। 

তিনি অনেক কবিতা রচনা করেন। পারস্যের কবি হাফিজের সাথে তাঁর কবিতা বিনিময় হতো। তাছাড়া ন্যায়পরায়ণতা ছিল তাঁর চরিত্রের অনন্য সাধারণ গুণ ।

মৃত্যু : 

সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে প্রায় ১৮ বছর রাজ্য শাসন করে ১৪১০ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালের পরপরই ইলিয়াস শাহী বংশের এক গৌরবোজ্জ্বল শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটে।

উপসংহার : 

বিদ্যোৎসাহী ও ন্যায়বিচারক সুলতান হিসেবে গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ ইতিহাসে সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে বহির্বিশ্বের সম্পর্কের নবদিগন্ত উন্মোচন করেন। 

অধ্যাপক সুখময় মুখোপাধ্যায় তাঁর বাংলার ইতিহাসের দুশো বছর স্বাধীন সুলতানদের আমল গ্রন্থে বলেন, “বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মধ্যে তাঁর মতো আকর্ষণীয় চরিত্র বোধ হয় আর কারো নেই।” প্রজারঞ্জক শাসক হিসেবে তাঁর তুলনা হয় না। 

তাঁর চরিত্রে নানা গুণ বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটেছিল। এ সুলতানের যে সমস্ত কার্যকলাপের বিবরণ পাওয়া যায় তার প্রায় প্রত্যেকটির মধ্যে একটি উন্নত বৈচিত্র্য ও বিদগ্ধ মনের পরিচয় পাওয়া যায়। 

তাঁর জীবনের কোনো কোনো ঘটনা এতই বিচিত্র চিত্তাকর্ষক ছিল যে, সেগুলো থেকে তাঁর রাজত্বকালকে রূপকথার সমপর্যায়ভুক্ত বলে মনে করা হয়।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)