খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন?

0
ফেইসবুকে আমাদের সকল আপডেট পেতে Follow বাটনে ক্লিক করুন।




প্ৰশ্ন : ৭১ ৷৷ খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? এতে কি গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুসৃত হয়েছিল? (How did the Rashedins come to power?) 

অথবা, খোলাফায়ে রাশেদীন কীভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন? খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুসৃত হয়েছিল কি? আলোচনা কর। 


খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন?

উপস্থাপনা : 

মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (স)-এর ওফাতের পর যে চারজন সাহাবী হজরত (স)-এর প্রতিনিধিরূপে আরব রাষ্ট্র ও মুসলিম জাহানের সর্বাধিনায়ক হিসেবে শাসন করে গেছেন, ইসলামের ইতিহাসে তাঁরাই 'খোলাফায়ে রাশেদীন' নামে পরিচিত। 

'খোলাফায়ে রাশেদীন'-এর শাসনামল ইসলামের ইতিহাসে এক স্বর্ণযুগের সূচনা হয়। চারজন খলিফা ত্রিশ বছর (৬৩২-৬১ খ্রি) মুসলিম জাহানের খেলাফতের পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। 

আরব রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তাঁরা কখনো ত্যাগ, ন্যায়নিষ্ঠা, সরলতা, সততা এবং জনসেবা ও জনকল্যাণের আদর্শ ও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি।

খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচিত হওয়ার পদ্ধতি: 

খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে দুটি প্রক্রিয়ায় চারজন খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ চারজন খলিফা খেলাফতকে সঠিক ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছিলেন। নিম্নে তাদের খেলাফতে আসীন হওয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

১. হজরত আবুবকর (রা)-এর খেলাফত লাভ : 

খলিফা নির্বাচন নিয়ে প্রত্যেক দলই যখন নিজ নিজ দাবির প্রতি জোরালো যুক্তি পেশ করতে থাকেন সে মুহূর্তে হজরত আবুবকর (রা) সকল দলের উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 

ইসলামের ঘোর দুর্দিনে মুহাজির ও আনসারদের উদারতা ও সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কুরাইশ বংশোদ্ভূত কোনো ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো নেতৃত্ব আরবের লোকেরা মানবে না।

 এতে আনসারগণ উভয় পক্ষ থেকে একজন করে খলিফা নির্বাচনের প্রস্তাব দেয়। তখন হজরত ওমর (রা) চিৎকার করে উঠেন এবং ঘোষণা করেন যে, এক খাপে দুই তরবারির স্থান হতে পারে না। 

পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে হজরত আবুবকর (রা) হজরত ওমর (রা) অথবা আবু উবায়দাকে খলিফা নির্বাচন করার প্রস্তাব দেন। 

হজরত ওমর (রা) বয়স, পদমর্যাদা, সম্মান ইত্যাদি বিবেচনা করে হজরত আবুবকর (রা)-কে খলিফা বলে ঘোষণা করেন। তখন অন্যরাও তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেন। এভাবে প্রথম খলিফার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 

হজরত আবুবকর (রা)-এর নির্বাচনের তাৎপর্য : 

হজরত আবুবকর (রা)-এর নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের প্রথম মারাত্মক সংকট দূরীভূত হয়। প্রত্যক্ষ নির্দেশ না থাকলেও আবুবকর (রা)-এর খেলাফতের প্রতি নবী করীম (স)-এর পরোক্ষ ইঙ্গিত ছিল। 

এছাড়া খলিফা পদপ্রার্থী ব্যক্তিদের মধ্যে হজরত আবুবকর (রা)-ই ছিলেন সর্বাপেক্ষা যোগ্য। রাসূল (স) একদা সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে প্রেমভক্তিতে আবুবকর (রা) কে শ্রেষ্ঠ মনে করি।” 

রাসূল (স)-এর এরূপ পরোক্ষ ইঙ্গিত এবং বয়োজ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, স্থিরমতিত্ব ও আকর্ষণীয় ধর্মপরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ব্যক্তিত্বের প্রেক্ষিতে হজরত আবুবকর (রা) খলিফা নির্বাচিত হন।

২. হজরত ওমর (রা)-এর খেলাফত লাভ : 

দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা) এর খেলাফতে অধিষ্ঠিত হওয়া নিয়ে কোনো ঝামেলা সৃষ্টি হয়নি। ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা আবুবকর (রা) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর উত্তরাধিকারী নির্বাচনের জন্য বিশিষ্ট মুসলমানদের আহ্বান করেন।

 খলিফা নির্বাচনে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাকে দূরীভূত করার জন্য এবং ইসলামের ঐক্য, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য হজরত আবুবকর (রা) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে হজরত ওসমান (রা), হজরত আলী (রা),

এবং আব্দুর রহমান (রা) প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবীর সাথে পরামর্শ করে হজরত ওমর (রা)-কে খলিফা মনোনীত করে যান। খলিফা আবুবকরের অন্তিম ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে পরবর্তীতে সকলেই এ মনোনয়নকে সমর্থন দেন।

হজরত ওমর (রা)-এর নির্বাচনের তাৎপর্য : 

খোলাফায়ে রাশেদীনের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা)-এর নির্বাচন ছিল মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সার্বিক যোগ্যতা বিবেচনায় খলিফা হজরত আবুবকর (রা)-এর পর হজরত ওমর (রা) ছিলেন খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তি। 

যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার দিক থেকে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম এক চরিত্র। মনোনয়ন সম্পাদনের পর খলিফা হজরত আবু বকর (রা) উপস্থিত জনতাকে সম্বোধন করে বললেন,

আমার কোনো আত্মীয়স্বজনকে খলিফা মনোনীত করি নি; বরং হজরত ওমর (রা)-কে মনোনীত করেছি, যাতে আপনারা সন্তুষ্ট হন। 

একথা শুনে উপস্থিত জনগণ সমবেত কণ্ঠে বলে উঠল, আমরা আপনার কথা শুনলাম এবং তার মনোনয়ন মেনে নিলাম। তাই খলিফা হজরত ওমর (রা)-এর নির্বাচন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যময়।

Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 


৩. হজরত ওসমান (রা)-এর খেলাফত লাভ : 

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা) মৃত্যুর পূর্বে খলিফা নির্বাচনের জন্য ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি নির্বাচনি পরিষদ গঠন করে যান। হজরত ওসমান (রা), হজরত আলী (রা), হজরত তালহা (রা), হজরত যুবাইর (রা), 

হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা) এবং হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা) এ নির্বাচন পরিষদের সদস্য ছিলেন। তাঁরা সকলেই ছিলেন রাসূল (স)-এর অত্যন্ত প্রিয়পাত্র এবং ইসলামের একনিষ্ঠ সেবক। 

খলিফা ওমর (রা)-এর ইন্তেকালের পর তালহা (রা) ব্যতীত বাকি পাঁচজন খলিফা নির্বাচনের ব্যাপারে হজরত আয়েশা (রা)-এর সাথে পরামর্শ করেন। হজরত আবুবকর (রা) ও হজরত ওমর (রা) অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিলেন বলে,

 ইতঃপূর্বে তাঁদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার মতানৈক্য সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু তৃতীয় খলিফা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীরা সকলেই সমমর্যাদাসম্পন্ন ও প্রভাবশালী হওয়ায় নির্বাচন একটি জটিল আকার ধারণ করে। 

এমতাবস্থায় অনৈক্য দূরীভূত করার জন্য আবদুর রহমান একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌছানোর চেষ্টা করেন। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর যুবাইর (রা) হজরত ওসমান (রা) ও হজরত আলী (রা) উভয়কেই সমর্থন করলেন। 

এভাবে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস হজরত ওসমান (রা)-কে খলিফা মনোনয়নের জন্য অভিমত পোষণ করেন। 

বয়োজ্যেষ্ঠতায়, ইসলামের সেবায় নিঃসংকোচে অর্থদান এবং রাসূল (স)-এর দুই কন্যাকে বিয়ে করে 'যুন্নুরাইন' খেতাব লাভের কারণে হজরত ওসমান (রা)-কে ইসলামের তৃতীয় খলিফা বলে ঘোষণা করেন ।

হজরত ওসমান (রা)-এর নির্বাচনের তাৎপর্য ইসলামের তৃতীয় খলিফা : 

হজরত ওসমান (রা) ছিলেন খলিফা হজরত আবুবকর (রা) ও হজরত ওমর (রা)-এর পরেই ইসলামের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তিনি রাসূল (স)-এরও অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। 

এ সুবাদে তিনি রাসূল (স)-এর দু'কন্যাকে বিবাহের সুযোগ লাভ করেন। এছাড়া ইসলামের জন্য তাঁর ত্যাগতিতিক্ষা, দুঃখ-কষ্ট সহ্য, অপরিমেয় দান, 

পরবর্তীতে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনকে বিশুদ্ধ রূপদান এবং তাকওয়ায় পরিপূর্ণতার জন্য তাঁকে খলিফা নির্বাচন করার তাৎপর্য অপরিসীম।

Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 

৪. হজরত আলী (রা)-এর খেলাফত লাভ : 

খলিফা হজরত ওসমান (রা)-এর শাহাদাতের পর খেলাফতের সম্মান, পবিত্রতা ও মর্যাদা বিনষ্ট হওয়া ছাড়াও খেলাফতের সর্বত্র অরাজকতা, অশান্তি ও বিদ্রোহ দেখা দেয়। 

এ সময় বিদ্রোহিগণ তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে নিজ নিজ দলের মনোনীত ব্যক্তিকে খলিফা পদে অধিষ্ঠিত করতে তৎপর হয়ে ওঠে। বিদ্রোহী কুফাবাসীরা যুবাইর (রা), বসরাবাসীরা তালহা (রা) এবং মিসরবাসীরা

ইবনে সাবাহ'র নেতৃত্বে হজরত আলী (রা)-কে সমর্থন করেন। ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন মদিনায় প্রভাবশালী নাগরিকবৃন্দের অনুরোধে হজরত আলী (রা) খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে সম্মত হন।

এভাবে চতুর্থ খলিফা হজরত আলী (রা)-এর নির্বাচন সম্পন্ন হয়। 

হজরত আলী (রা)-এর নির্বাচনের তাৎপর্য : 

হজরত আলী (রা) ছিলেন সমসাময়িকদের মধ্যে সৎ, দক্ষ, নির্ভীক, যোগ্য এবং সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। 

খলিফা হওয়ার জন্য যেসব অনন্য গুণ থাকা প্রয়োজন সে সবই তাঁর মধ্যে ছিল। তাঁর ভদ্রতা, নম্রতা ও উদারতার দৃষ্টান্ত বিরল। মূলত সহনশীলতা ও উদারতার কারণেই ইবনে সাবাহ, অন্যান্য বিদ্রোহী দল, বিশেষ করে কুফা দলসহ অনেকেই, 

তাকে খলিফা নির্বাচিত করার প্রস্তাব দিলেও তিনি তালহা কিংবা যুবাইরের নিকট আনুগত্যের শপথ নেয়ার প্রস্তাব দেন। 

তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে বলা যায় হজরত আলী (রা)-কে ইসলামের চতুর্থ খলিফা নির্বাচন করা অত্যন্ত যৌক্তিক ও সার্থক হয়েছে।

Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 

খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুসৃত হয়েছিল কি না:

খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতি বিচার-বিশ্লেষণ করলে তৎকালীন গণতান্ত্রিক নীতিমালা সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানতে পারি। 

খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুসৃত হয়েছিল কিনা নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

১. প্রচলিত প্রথা : 

খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়ে আরবে গণতান্ত্রিক নিয়মে শেখ বা গোত্রপতি নির্বাচনের প্রথা প্রচলিত ছিল। আরবের গোত্রগুলো প্রজ্ঞাশীল, 

বুদ্ধিমান, বয়স্ক ও সর্বদিকে মর্যাদার অধিকারী ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিকে তাদের নেতা নির্বাচন করতো। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, আবুবকর (রা)-এর খলিফা নির্বাচন পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই হয়েছিল।

২. সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন :

খেলাফতের উন্নতির জন্য খোলাফায়ে রাশেদীনের চার খলিফাই সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। তাঁরা সবসময় অন্যের কল্যাণ ও উন্নতিকল্পে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেছিলেন। 

ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে ইসলামের উন্নয়নকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেও তাঁরা সুন্দরভাবে তাদের শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন। 

বলা যায় সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাত্রার মাধ্যমে তাঁরা গণতান্ত্রিক নীতিমালাকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।

৩. যোগ্যতা যাচাই :

প্রাচীন কালে আরবের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো যোগ্যতার ভিত্তিতে খলিফা নির্বাচন করা। আর তাদের চারিত্রিক গুণাবলি বিচার করলে দেখা যায় যে, খলিফাগণ সকলেই সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন। 

আল-কুরআন ও হাদীসের দৃষ্টিতে তাঁদের মধ্যে সর্বগুণ বা বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল। যেমন— মুহাজির হওয়া, হোদায়বিয়া, বদর ও তাবুকের যুদ্ধে শরীক থাকা, সিদ্দিক, শহীদ প্রভৃতি হওয়া। 

সুতরাং চার খলিফার কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, চার খলিফাই খলিফা হওয়ার যোগ্য ছিলেন।

৪. জনমত যাচাই : 

জনমতের ভিত্তিতে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জনগণের সুযোগ-সুবিধা, ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে কেন্দ্ৰ করেই জনমত যাচাই করে সকল কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়। 

খোলাফায়ে রাশেদীনের চার খলিফার ওপরও জনমত যাচাই করা হতো। জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতে তাঁরা পর্যায়ক্রমে খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

তাঁদের মনোনয়ন ঘোষণা করা হলে জনসাধারণ তাঁদের নিকট আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন এবং তাঁরা ইসলামের খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

৫. আদর্শ ব্যক্তি আদর্শ ব্যক্তি হওয়া খোলাফায়ে রাশেদীনের নির্বাচন পদ্ধতিতে অনুসৃত গণতান্ত্রিক নীতিমালার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। খলিফা নির্বাচন করার সময় এই বিষয়টি লক্ষ করা যায়। 

যে চারজন খলিফা খোলাফায়ে রাশেদীনের ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন আদর্শ ব্যক্তি। 

তাঁদের জীবনপ্রণালি ও দৈনন্দিন কার্যাবলির মধ্যে তাঁদের আদর্শ ব্যক্তিত্বের পরিচয় ফুটে উঠেছে। তাই খোলাফায়ে রাশেদীনে গণতান্ত্রিক নীতিমালা পরিপূর্ণভাবে অনুসৃত হয়েছিল।

উপসংহার : 

পরিশেষে বলা যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (স)-এর পরিপূর্ণ আদর্শের উত্তম অনুসারী ছিলেন খোলাফায়ে রাশেদীনের চার খলিফা। তাঁরা সকলেই কুরআন-হাদীস ভিত্তিক খেলাফত পরিচালনা করেন। 

খোলাফায়ে রাশেদীনের উক্ত চার খলিফা দুনিয়াতেই জান্নাতের সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন। রাসূল (স)-এর ইন্তেকালের পর 

খলিফাগণ অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন এবং ইসলামের প্রচার ও প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন।



Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 
Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 
Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 
Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 
Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 
Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 
Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 
Keyword: খোলাফায়ে রাশেদীনগণ কীভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন? 

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)