উন্নত, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ বলতে কি বুঝ?

উন্নয়নশীল দেশ কাকে বলে, বাংলাদেশ কি উন্নয়নশীল দেশ, বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ কয়টি, অনুন্নত দেশ কাকে বলে, উন্নত দেশ কাকে বলে, উন্নত দেশ হওয়ার শর্তসমূহ,
Follow Our Official Facebook Page For New Updates


Join our Telegram Channel!

উন্নত, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ বলতে কি বুঝ?


উন্নত, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ বলতে কি বুঝ?


আজকের আলোচনায় আমরা জানতে পারব: উন্নয়নশীল দেশ কাকে বলে, বাংলাদেশ কি উন্নয়নশীল দেশ, বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশ কয়টি, অনুন্নত দেশ কাকে বলে, উন্নত দেশ কাকে বলে, উন্নত দেশ হওয়ার শর্তসমূহ

বাংলাদেশ উন্নত, অনুন্নত না উন্নয়নশীল দেশ?

উন্নত দেশ উন্নত দেশ বলতে সেসব দেশকে বুঝায় যেসব দেশের মাথাপিত আয়ের প্রবৃদ্ধির হার খুব বেশি, প্রকৃত জাতীয় আয় অবিচ্ছিন্নভাবে ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সামজের সম্পদের তুলনায় কম, 
বেকারত্বের হার নগণ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ক্রমাগত উদ্বৃত্ত ভোগ করে, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত, আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং শিল্পখাত সমৃদ্ধ হয়।

উন্নত দেশসমূহে দেশজ সদর, মুলধন গঠন ও বিনিয়োগের হার অধিক। এসব দেশে একদিকে যেমন নিত্যব্যবহার্য ও বিলাসজাত দ্রব্যের যোগান প্রচুর তেমনি চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা বর্তমান থাকে। 
এসব দেশে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতা বিরাজ করে। 
বর্তমান বিশ্বে যেসব দেশ উন্নত দেশের পর্যায়ে অবস্থান করছে সেগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, জার্মানি, কানাডা, ফ্রান্স প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
 

অনুন্নত দেশ :

অনুন্নত শব্দটি আপেক্ষিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ অর্থে, যেসব দেশের মাথাপিছু প্রকৃত আর খুবই কম, জীবনযাত্রার মান নিম্ন, মূলধনের মতো বিদ্যমান, শিক্ষার হার নিম্ন, জনগণের মাঝে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার অভাব লক্ষ্য করা যায়, 
প্রাকৃতিক সম্পদের অপূর্ণ ব্যবহার প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে তাদেরকে অনুদার দেশ বলা হয়। অধ্যাপক রাগনার নার্কস বলেন, অনুন্নত দেশ হচ্ছে সেসব দেশ যেগুলো উন্নত দেশের তুলনায় জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে স্বল্প মূলধন সমৃদ্ধ দেশ।
Colin Clark এর মতে, “অনুন্নত দেশ বলতে ঐসব দেশকে বুঝায়, যেখানে প্রাথমিক পেশার প্রাধান্য রয়েছে।
অধ্যাপক বুকানন ও এলিস এর মতে, অনুন্নত দেশ নলতে ঐ সময় দেশকে বুঝায়, যার অধিবাসীরা উন্নত দেশের তুলনায় নিম্নমানের সম্পন্ন ভোগ করে থাকে।

উন্নয়নশীল দেশ: 

উন্নয়নশীল শব্দটি একটি গতিশীল অবস্থাকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, যেসব দেশের জন উন্নত জীবনযাত্রার মানের আশায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সচেতনভাবে চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, দেশের সম্পদের পরিকল্পিত 
ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রমশ উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছে, যার ফলে বিষাতে এসব দেশের উন্নয়নের যথেষ্ট 
সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশসমূহ অর্থনৈতিক স্থবিরতা ভেঙে ক্রমশ উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হয়। এসব দেশে প্রাপ্ত সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রানী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
 
উন্নয়নশীল দেশসমূহে জনগণের মথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান উন্নত দেশের তুলনায় কম। তবে এসব দেশের জনগণ ও সরকার পরিবর্তিতভাবে দেশের সম্পদকে কাজে লাগিয়ে পারিদ্র্য দূরীক্ষার মান
উন্নয়নে সচেষ্ট থাকে। এজন্য এসব দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশ বিকশিত হতে থাকে। বস্তুত উন্নয়নশীল দেশ বলতে উন্নয়নের পথে ক্রমবর্ধমান দেশসমূহকেই বুঝায়। বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ,
ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ দেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গণ্য করা যায়।

উন্নত দেশ:

উন্নত দেশসমূহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবস্থান করেছে। কিন্তু অনুন্নত দেশের অর্থনীতিতে । উন্নয়নশীল দেশসমূহ অর্থনৈতিক ছবির কাটিয়ে আগতির পথে খাতির হচ্ছে। 
দেশে অর্থনৈতিক সংস্কার ও সমাধি স্থাপনার ফলে কৃষি শিল্প প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ উনশীল দেশ সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নের জন্য বাংলাদেশের অর্থনীতির নিগ্রোর বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যালোচনা করা হলো।

১. কৃষির অবদান: 

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একক বৃহত্তম খাত। ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষির বিভিন্ন উপখাত সমন্বিত অবদান শতকরা প্রায় ১৮.৭০ ভাগ। এককভাবে উপখাতের অবদান। হলো ফসল- ১০,২০%, সি 80%, বনজ সম্পদ ১.৩৬%, এবং মৎস সম্পদ .09%

২. আধুনিকরণ: 

বর্তমানে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিকীরণের হাওয়া বইছে। উৎপাদকগণ পূর্বাপেক্ষা অধিক সচেতন ও সায়িত্ববান। তাই গুরুত্ব অনুভব করে তারা উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ সুবিধার বন্দোবস্ত করে অধিক উৎপাদনে মনোনিবেশ করেছে।
 

৩. শিল্পের উন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণ: 

বর্তমানে সরকার শিল্প স্থাপনে অধিক উৎসাহপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নতুন উদ্যোগ সৃষ্টিতে সরকার সুপরামর্শ, বিনিয়োগ নীতি সহজীকরণ, ট্যাক্স হলিডে ঘোষণা, শিল্প নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মূলধনের অবাধ প্রবাহ
নিশ্চিতকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদেরকে আকর্ষণের জন্য নানা প্যাকের সুবিধা প্রদান, বিদেশে বাজার সৃষ্টিতে নানা দেশের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন চুক্তি সম্প্রনাম করেছে। ফলে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
হিব মুল্যে ২০১১-১২ অর্থবছরের দেশজ উপৎপাদনে বৃহতসমুহের মধ্যে শিল্পখাতের অবদান ৩১.১৩ শতাংশ, কিন্তু ১৯৮০-৮১ এ হার ছিল ১৭.৭৭ শতাংশ। আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশে যে শিল্পমার
গড়ে উঠবে তাতে আশা করা যায়, মে দেশজ উৎপাদন শিল্পখাতের অবসন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এবং মোট কর্মরত জনশক্তির হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত হবে

৪. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস: 

১৯৯১ সালের হিসাব অনুযায়ী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.১৭% এবং ২০০৬ সালের হিসাব অনুযায়ী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়ে ১.৪১% হয়। 
২০১০ সালের নৈতিক অনু মোট জনসংখ্যা ১০.৩৬ কোটি টাকা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭ উল্লেখ করা হয়।

৫. বেকার সমস্যা: 

বাংলাদেশে তীব্র বেকার সমान বৃদ্ধির তুলনায় বাংলাদেশে সর মুলধন গঠনের হার কম। এর ফলে বিনিয়োগ আশানুরণ হয় না। 
তাই বেকার সমস্যার তেমন উন্নতি হয়নি। তবে বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা যেহেতু এদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, সরকারি ও বেসরকারি (EPO)চালু করা হচ্ছে, আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে এ সমস্যা হ্রাস পাবে।

৬. মাথা পিছুআয়: 

বাংলাদেশের বর্তমানে চলতি মূল্যে মাথাপিছু আয় ১১৮০ মার্কিন ডলার (মে, ২০১৪)।

৭. জীবনযাত্র্র মান: 

জীবনযাত্র্র মান পূর্বাপেক্ষা উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম 2010 হিসাব অনুযাত্রার মান পূর্বের চেয়ে কিছুটা উন্নত হওয়ার কারণে প্রকাশিত পরা বৃদ্ধি পেয়ে এ বছর হয়েছে। 
নিরাপদ সুপেয় পানি গ্রহণকারী পরিবার ৮৭.৫৫% হয়েছে। সাক্ষরতার হার ৭.৯%।

৮. প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদের ব্যবহার বৃদ্ধি: 

বর্তমানের প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কার ও ব্যবহার পূর্বাপেক্ষা বুদ্ধি পেয়েছে। তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নামটি পৃথিবীতে সুনামও পরিচিতি লাভ করেছে। 
বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাস এদেশের মোট বাণিজ্যিক জ্বালানি ব্যবহার করা ৭০ ভাগ পুরণ করে। এ মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, নারী ও শিশু উন্নয়ন, যুব ও ক্রীড়া উন্নয়নসহ
বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বেসরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

৯. খাদ্য সমস্যা ও পুষ্টিহীনতা: 

অধিক জনসংখ্যা ও কৃষি উৎপাদনে স্বতে থাকায় বাংলাদেশে খানা ও পুষ্টি বিদ্যমান। বর্তমানে উন্নত সার, বীজ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দিন দিন পন্য উপৎপাদনের পরিমান বৃদ্ধি।
০১১-২০১২ অর্থবছরের খাদ্যশস্য উৎপাদন ৪৮ মেট্রিক টন এবং ২০১২-১৩ সালের মালির হিসাব অনুযায়ী ১০% আসে মাছ থেকে। সরকারের গৃহীত বর্ধিত উন্নয়ন কর্মসুচির (ADP) মাধ্যমে ধীরে ধীরে খানা সমস্যা ও সুধীন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

১০. শিক্ষার হার 

দেশে বর্তমানে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে লোক সরকার ঘোষণা করেন। ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী এদেশে শিক্ষার হার হয়েছে। বিশেষত নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে বেশ প্রগতি ঘটেছে।
 

১১. বৈদেশিক বাণিজ্য:

বৈদেশিক বাণিজ্যের পূর্বে প্রচুর ঘাটীত ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাচ্ছে। 
তবে এখনো বৈদেশিক বাণি আসেনি। উপসংহার। উপযুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয়া যায় যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ছবি না আবার উন্নত ও তিশীল কর্মসূচি গ্রহ। তাই বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা যায়।
 

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.