পরিবেশ কাকে বলে - পরিবেশের উপাদান ও শ্রেণিবিভাগ সমূহ (বিস্তারিত)

পরিবেশ কাকে বলে - পরিবেশের উপাদান ও শ্রেণিবিভাগ সমূহ - পরিবেশ বলতে কি বুঝ - What is environment? components and classifications of environment
Follow Our Official Facebook Page For New Updates


Join our Telegram Channel!

আজকের আলোচনা পরিবেশ বলতে কি বুঝ? অথবা, পরিবেশ কাকে বলে? পরিবেশের উপাদান ও শ্রেণিবিভাগ সমূহ।

পরিবেশ কাকে বলে - পরিবেশের উপাদান ও শ্রেণিবিভাগ সমূহ

পরিবেশ কাকে বলে? পরিবেশের উপাদান ও শ্রেণিবিভাগ সমূহ

আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়ে পরিবেশ গঠিত হয়। ব্যক্তির জীবনযাত্রা ও আচরণের উপর পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। পরিবেশ হলো বস্তুগত ও অবস্তুগত, দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সব উপাদানের সমষ্টি। 

পৃথিবী ও ওজোনস্তরের সব উপাদানের সমষ্টিকেই পরিবেশ বলা হয়। ব্যক্তি ও প্রাণীর জীবনযাত্রা, চাল-চলন, আচার- আচরণ ইত্যাদি পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। দিন দিন পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই সকলকে পরিবেশ সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিবেশ (Environment) :

পরিবেশ বলতে কোন একক বা বিশেষ বস্তুকে বোঝায় না। মূলত পরিবেশ হলো বহু ও বিভিন্ন বিষয় ও বস্তুর সমাবেশে সৃষ্ট এক অবস্থা বিশেষ। পরিবেশের প্রতিশব্দ Environment শব্দটি ফ্রান্স Viron থেকে উৎপত্তি। যার অর্থ A circle, a round on a country round. 

প্রামাণ্য সংজ্ঞা :

বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরিবেশ বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। নিম্নে বিজ্ঞানীদের সংজ্ঞাসমূহ উল্লেখ করা হলো : 

সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজ-এর মতে, সার্বিক বিবেচনায় আমাদের বাসস্থানই আমাদের পরিবেশ।

সমাজবিজ্ঞানী উইলিয়াম পি. স্কট-এর মতে, পরিবেশ হচ্ছে এমন একটি সামাজিক অবস্থা যা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আচরণকে উদ্দীপ্ত ও প্রভাবিত করে।

জগলাস ও হল্যান্ড-এর মতে, যেসব বাহ্যিক শক্তি ও অবস্থা মানবজীবনকে তথা মানুষের স্বভাব, আচরণ ও বিকাশ প্রক্রিয়ায় এবং দেহযন্ত্রের বর্ধন ও বিকাশমূলক পরিপকৃতায় প্রভাব বিস্তার করে, সেগুলোর সমষ্টিকে পরিবেশ বলে। 

ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতে, যেসব অবস্থা ও বস্তু জীবসত্তাকে প্রভাবিত করে তাকে পরিবেশ বলে। 

অধ্যাপক চেম্বার্স-এর মতে, পরিবেশ হলো এমন এক পারিপার্শ্বিক অবস্থা যা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে।


পরিবেশের উপাদানগুলো সমূহ:

পরিবেশের উপাদানগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

(ক) প্রাকৃতিক উপাদান : 

প্রকৃতি হতে যে উপাদান পাওয়া যায় তা পরিবেশের প্রাকৃতিক উপাদান নামে পরিচিত। যেমন- প্রাণী, গাছপালা, জলবায়ু, বৃষ্টিপাত, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, আকাশ, সমুদ্র, সূর্য, নক্ষত্র ইত্যাদি প্রাকৃতিক পরিবেশের উ পান। 

মানুষের জীবনযাত্রার উপর প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান আবার দুটি ভাগে বিভক্ত যথা-

১. জৈব উপাদান : 

প্রাকৃতিক পরিবেশে জীব সম্প্রদায়দের নিয়ে গঠিত উপাদানই জৈব উপাদান। যেমন- প্রাণী ও গাছপালা ও অণুজীব। 

২. অজৈব উপাদান : 

প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রাণহীন পদার্থদের নিয়ে গঠিত উপাদানসমূহ অজৈব উপাদান। যেমন- রাসায়নিক উপাদান ও রূপান্তরিত উপাদান।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহ ব্যবহৃত হয়ে থাকে

(খ) সামাজিক উপাদান : 

মানুষের জীনধারণের জন্য যেসব পদার্থ প্রয়োজন তা সামাজিক উপাদান নামে পরিচিত। পুরো সমাজটাই একটা পরিবেশ। আমাদের মানুষজনকে নিয়ে গঠিত সমাজ আমাদের উপর প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া কায়েম করে। 

এই সমাজকে নিয়েই গঠিত হয় সামাজিক পরিবেশ মানুষের দৈহিক ও অর্থনৈতিক জীবনের উপর সমাজের প্রভাব সর্বজনবিদিত। সমাজিক পরিবেশ গড়ে উঠে তিন ধরনের পরিবেশকে নিয়ে। যথা-

১. অর্থনৈতিক পরিবেশ : 

অর্থনৈতিক পরিবেশ সামাজিক পরিবেশের, যেমন : অংশ, তেমনি আবার প্রাকৃতিক পরিবেশের অংশ। অর্থনৈতিক পরিবেশের উপাদান হলো ঘরবাড়ি, জমিজমা, বাগান, পথঘাট, যন্ত্রপাতি, মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি ।

২. সাংস্কৃতিক পরিবেশ : 

মানুষের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার যেসব উপাদানকে নিয়ে গড়ে উঠে সেসব উপাদানের সমাবেশের ফলেই সৃষ্টি হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশের। সাংস্কৃতির পরিবেশের উপাদান হলো- প্রথা, বিশ্বাস, ঐতিহ্য, জ্ঞান- বুদ্ধি, চিন্তাধারা ইত্যাদি।

৩. মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ : 

মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ নামে এক ধরনের পরিবেশ রয়েছে পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মানুষের কিছু বিশেষ মানসিকতা বা মনোভাব এবং স্বাভাবিক প্রবণতার সৃষ্টি হয়।


পরিবেশের শ্রেণিবিভাগ অথবা, পরিবেশের প্রকারভেদ :

পরিবেশের শ্রেণিবিভাগ : 

পরিবেশ বলতে মানুষের আশপাশের প্রাকৃতিক ও সামাজিক অবস্থাকে বুঝানো হয় । মানুষের চারপাশে যা কিছু আছে তাই তার পরিবেশ। মানুষের জীনযাত্রার সাথে পরিবেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। অধ্যাপক ম্যাকাইভার ও পেজ এর মতে পরিবেশ দুই প্রকার। যথা- (ক) বাহ্যিক পরিবেশ ও (খ) সামাজিক পরিবেশ।

(ক) বাহ্যিক পরিবেশ : 

বাহ্যিক পরিবেশ কথাটির অর্থের দ্যোতনা বিশেষ ব্যাপক। প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর মানুষ তার নিজস্ব বুদ্ধি ও শ্রমশক্তির প্রয়োগ ঘটিয়েছে। মানব সভ্যতার নানাবিধ উপাদান ও উপকরণের সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে, এই প্রয়োগেরই ফলে। 

এভাবে অভিনব রূপ পরিগ্রহ করেছে প্রকৃতি এবং অভিনব আঙ্গিকে গড়ে উঠেছে ঘর- বাড়ি, ইমারত। তাছাড়া গড়ে উঠেছে নতুন নতুন শহর, প্রসার ঘটে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার। জীবনযাত্রার রীতি নীতি পরিবর্তন হচ্ছে। এর সবকিছু মিলেই বাহ্যিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

(খ) সামাজিক পরিবেশ : 

মানুষের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ হলো সামাজিক পরিবেশ। একটি সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার পিছনে অনেক ব্যাপারে সমন্বিত উপস্থিতির প্রয়োজন জয়। এগুলো হলো সমাজের প্রচলিত রীতি-নীতি, প্রথা প্রতিষ্ঠান, সমস্ত সংগঠন, নিয়ম-নিষেধ, সবরকম প্রবণতা ইত্যাদি। 

যে বিশেষ সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে মানুষ বসবাস করে তাকেই বলে তার সামাজিক পরিবেশ। সামাজিক পরিবেশের অস্তিত্ব সেই সমাজব্যবস্থার সাথে জড়িত। 

অধ্যাপক জিসবার্ট পরিবেশকে চার ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-

(ক) প্রাকৃতিক পরিবেশ : 

জলবায়ু, বৃষ্টিপাত, জমির উৎপাদন ক্ষমতা, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত আকাশ, সমুদ্র, সূর্য নক্ষত্র ইত্যাদিকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। 

এসব বস্তু প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত। প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান প্রকৃতিগতভাবে সৃষ্টি হয়। তবে আধুনিককালে মানুষ প্রাকৃতিক উপাদানের উপর প্রভাব বিস্তার করছে।

(খ) কৃত্রিম পরিবেশ :

মানুষের তৈরি করা পরিবেশকে কৃত্রিম পরিবেশ বলে। মানুষ তার নিজের চেষ্টায় এই পরিবেশ গড়ে তোলে। মানুষ আপন মনে ঘরবাড়ি তৈরি করে, অন্যান্য প্রয়োজনীয় বস্তু মানুষ তৈরি করে। 

এগুলো হলো কৃত্রিম পরিবেশের উপাদান। চাষাবাদ পরিচালনার জন্য মানুষ কৃষিযন্ত্র আবিষ্কার করেন। কলকারখানা, যন্ত্রপাতি ও শিল্প মানুষ তার নিজের বুদ্ধি ও দক্ষতায় গড়ে তুলছে।

(গ) সামাজিক পরিবেশ : 

সমাজের পুরো পরিবেশকে সামাজিক পরিবেশ বলে। মানুষে মানুষে সম্পর্কের ফলে সামাজিক পরিবেশ গড়ে উঠে সমাজে মানুষ পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এক সাথে বসবাস করে। 

বিপদ-আপদে একজন অন্যজনকে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে। সামাজিক পরিবেশের প্রভাব পড়ে মানুষের বাস্তব জীবনের উপর। সমাজে বসবাস করতে যেসব উপাদান মানুষের জীনযাত্রার উপর প্রভাব বিস্তার করে তাই সামাজিক পরিবেশের উপাদান।

(ঘ) মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ : 

মানুষের অভিজ্ঞতা, অভ্যাস, প্রবণতা ইত্যাদি যে পরিবেশ সৃষ্টি করে তাই মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ। মানুষ নিজে চিন্তা করতে পারে ও নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। 

ব্যক্তি যখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন তার শিক্ষা-দীক্ষা ও পূর্বে সঞ্চিত অভিজ্ঞতাকে সে ব্যবহার করে, নির্ভরও করে এগুলোর উপর। প্রকৃতপক্ষে মানুষ যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেই সিদ্ধান্ত হলো তার স্বাধীন ইচ্ছা ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণের ফলস্বরূপ। সামাজিক পরিবেশ ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।

উপসংহার : 

পরিশেষে বলা যায় যে, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, মানুষের জীবনযাত্রার উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তারকারী প্রাকৃতিক ও সামাজিক উপাদানই পরিবেশ। 

মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবজগতের অস্তিত্ব পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, যা মানব সমাজ ও প্রাণীদের জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রাণীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সমাজকর্মী ও সব মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.