
মাস্টার্স শেষ পর্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞান | কোর্স কোড: ৩১১৯০৫ | শিক্ষাবর্ষ: ২০২৬
বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের ইতিহাস সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্যাবলী, সিলেবাস ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্যাবলী, সিলেবাস ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সূচিপত্র
সারসংক্ষেপ: ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর নবজাতক বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করা। ১৯৭২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদের আবেদন করা হলেও বৈশ্বিক স্নায়ুযুদ্ধের চরম মেরুকরণ, পাকিস্তানের কূটকৌশল, আটকে পড়া যুদ্ধবন্দিদের প্রত্যাবাসন বিতর্ক এবং নিরাপত্তা পরিষদে চীনের ঐতিহাসিক প্রথম ভেটো প্রয়োগের ফলে বাংলাদেশ তৎক্ষণাৎ সদস্যপদ লাভে বাধার সম্মুখীন হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ পর্বের ‘বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি ও কূটনীতি’ শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্য বিষয়। নিচে ১৯৭২ সালের পটভূমি, বাধাসমূহ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং চূড়ান্ত সদস্যপদ প্রাপ্তির ধারাবাহিক ইতিহাস বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হলো।
বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের ইতিহাস – বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের – ১. জাতিসংঘ সদস্যপদ প্রাপ্তির তাত্ত্বিক ও সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বৈধতা, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে সমমর্যাদায় অংশগ্রহণের চূড়ান্ত স্বীকৃতি অর্জিত হয় জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রাপ্তির মাধ্যমে। জাতিসংঘ সনদের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৪ নং অনুচ্ছেদে সদস্যপদ লাভের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক নীতিমালার উল্লেখ রয়েছে।
জাতিসংঘ সনদের অনুচ্ছেদ ৪ (১) অনুযায়ী:
সদস্যপদ অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট। সনদ অনুযায়ী, প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯টি ইতিবাচক ভোট এবং স্থায়ী ৫টি সদস্য রাষ্ট্রের (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও গণচীন) কোনো নেতিবাচক ভোট বা ভেটো ছাড়া সুপারিশ গৃহীত হতে হয়। এরপর সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সদস্যপদ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। এই প্রক্রিয়াটির কারণেই নবীন বাংলাদেশ পরাশক্তিদের শীতল যুদ্ধের বৈরী টানাপোড়েনের শিকার হয়েছিল।
বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের ইতিহাস – বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের – ২. ১৯৭২ সালের পটভূমি ও বাংলাদেশের সদস্যপদের আনুষ্ঠানিক আবেদন
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হলেও সদ্য স্বাধীন দেশের সামনে ছিল সীমাহীন যুদ্ধবিধ্বস্ত পুনর্বাসন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সংকট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ছিল—”সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়” (Friendship to all, malice towards none)।
১৯৭২ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে বিশ্বের ৮৬টি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এই অনুকূল প্রেক্ষাপটে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ ১৯৭২ সালের ৮ই আগস্ট জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কুর্ট ওয়াল্ডহেইমের (Kurt Waldheim) নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ লাভের আবেদনপত্র প্রেরণ করেন।
আবেদনপত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সনদের সকল নীতি ও আদর্শ সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি শান্তিকামী জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে শান্তি ও সম্প্রীতির সুদৃঢ় বন্ধন রচনা করতে চায়। কিন্তু আবেদনটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পৌঁছানোর পরপরই পাকিস্তানের প্ররোচনায় আন্তর্জাতিক চক্রান্ত শুরু হয়।
বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের ইতিহাস – বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের – ৩. ১৯৭২ সালে জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভে প্রধান বাধাসমূহ
বাংলাদেশের যৌক্তিক ও বৈধ আবেদন থাকা সত্ত্বেও তৎকালে জাতিসংঘ সদস্যপদ প্রাপ্তিতে কয়েকটি গুরুতর আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল। অ্যাকাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বাধাসমূহকে নিম্নোক্তভাবে চিহ্নিত করা যায়:
ক. নিরাপত্তা পরিষদে গণচীনের নেতিবাচক ভেটো প্রয়োগ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বাধা ছিল গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ভেটো। ১৯৭১ সালেই চীন জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য হিসেবে তাইওয়ানের স্থলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ১৯৭২ সালের ২৫শে আগস্ট নিরাপত্তা পরিষদে ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুগোস্লাভিয়ার যৌথ প্রস্তাবে বাংলাদেশকে সদস্যপদ প্রদানের জন্য ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের ১১টি সদস্য দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট প্রদান করে এবং ২টি দেশ (গিনি ও সোমালিয়া) ভোটদানে বিরত থাকে। কিন্তু পাকিস্তানপন্থী চীন তার সদ্যপ্রাপ্ত ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়। এটি ছিল জাতিসংঘের ইতিহাসে চীনের স্থায়ী সদস্য হিসেবে প্রয়োগকৃত সর্বপ্রথম ঐতিহাসিক ভেটো।
খ. পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক অপপ্রচার ও শর্তারোপ
পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। পাকিস্তান দাবি করে যে, বাংলাদেশ জাতিসংঘের পূর্বশর্ত পূরণ করেনি। ভুট্টো প্রশাসন মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো এবং ওয়াশিংটন-বেইজিং অক্ষকে প্রভাবিত করে বোঝাতে চেয়েছিল যে, পূর্ব পাকিস্তান মূলত ভারতীয় আগ্রাসনের ফলে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
গ. ৯৩ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দি ও জেনেভা কনভেনশন ইস্যু
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ডের নিকট ৯৩,০০০ পাকিস্তানি সেনাসদস্য ও সহযোগী আত্মসমর্পণ করেছিল। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন অনুযায়ী এই যুদ্ধবন্দিরা ভারতে যুদ্ধবন্দি শিবিরে অবস্থান করছিল। চীন ও পাকিস্তান যুক্তি দেখায় যে, যুদ্ধবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশকে সদস্যপদ দেওয়া যাবে না।
ঘ. নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ৩০৭ বাস্তবায়নের অজুহাত
১৯৭১ সালের ২১শে ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ৩০৭ নং রেজুলেশনে যুদ্ধবিরতি রক্ষা, সৈন্য প্রত্যাহার এবং জেনেভা কনভেনশন মেনে বন্দিদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের কথা বলা হয়েছিল। চীনা প্রতিনিধি হুয়াং হুয়া (Huang Hua) দাবি করেন যে, রেজুলেশন ৩০৭ সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সদস্যপদ বিবেচনা করা জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হবে।
বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের ইতিহাস – ৪. পরাশক্তিদের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মেরুকরণ ও অবস্থান
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সদস্যপদের আবেদনকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো পরিষ্কারভাবে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। নিম্নের সারণীতে প্রধান পক্ষগুলোর ভূমিকা তুলনা করা হলো:
| দেশ / পক্ষ | কূটনৈতিক অবস্থান | প্রধান যুক্তি ও কার্যক্রম | ফলাফল ও প্রভাব |
|---|---|---|---|
| সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR) | অকুণ্ঠ সমর্থন | বাংলাদেশ একটি স্বাধীন বাস্তবতা এবং সনদের শর্তাবলী পুরোপুরি পূরণ করেছে। নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবের পক্ষে জোরালো বক্তব্য। | বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সুসংগঠিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন। |
| ভারত (India) | সর্বাত্মক কূটনৈতিক লবিং | বাংলাদেশকে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য বলে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অবহিতকরণ। | জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM) ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সমর্থন আদায়। |
| গণচীন (PRC) | কঠোর বিরোধিতা ও প্রথম ভেটো | রেজুলেশন ৩০৭ বাস্তবায়ন ও পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দি মুক্তি ছাড়া সদস্যপদ নয়। পাকিস্তানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন। | ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। |
| মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) | কৌশলগত মধ্যপন্থা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব | ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করলেও চীনা বিরোধিতায় দৃশ্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন। | চীন ও পাকিস্তানের সাথে ওয়াশিংটনের কৌশলগত সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা। |
বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের ইতিহাস – ৫. বাধা উত্তরণের কূটনৈতিক রোডম্যাপ ও চূড়ান্ত সদস্যপদ অর্জন
চীনা ভেটোর কারণে সাময়িক বাধা আসলেও বঙ্গবন্ধু সরকার অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান ও বাস্তববাদী কূটনীতির মাধ্যমে এই জটিল অচলাবস্থা নিরসনে সক্ষম হয়। ধাপে ধাপে সংকট নিরসনের পদক্ষেপগুলো ছিল:
ক. ১৯৭২ সালের সাধারণ পরিষদে পর্যবেক্ষক মর্যাদা
নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো সত্ত্বেও সাধারণ পরিষদের তৎকালীন সভাপতি যুগোস্লাভ কূটনীতিক ট্রাঙ্কো বেনেডিক্টাসের মধ্যস্থতায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সাধারণ পরিষদের স্থায়ী পর্যবেক্ষক (Permanent Observer) মর্যাদা দেওয়া হয়।
খ. সিমলা চুক্তি ও দিল্লি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি (১৯৭৩-১৯৭৪)
১৯৭২ সালের ঐতিহাসিক সিমলা চুক্তি এবং পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ৯ই এপ্রিল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবন্দিদের পাকিস্তান প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ অত্যন্ত উদার মনোভাব দেখিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি স্থগিত রেখে উপমাহাদেশে শান্তির পথ উন্মুক্ত করে।
গ. ওআইসি শীর্ষ সম্মেলন ও পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি
১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওআইসি (OIC) শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পূর্বে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। লাহোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে চীনের ভেটো প্রয়োগের বাহ্যিক ভিত্তি বিলুপ্ত হয়। এটি ছিল যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ইসলামি মূল্যবোধের আদর্শিক রূপরেখা বজায় রেখে মুসলিম বিশ্বের আস্থা অর্জনের এক অনন্য ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।
ঘ. ১৭ই সেপ্টেম্বর ১৯৭৪: জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্যপদ লাভ
অবশেষে ১৯৭৪ সালের ১০ই জুন নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশকে সদস্যপদ প্রদানের সুপারিশ করে। এরপর ১৯৭৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম পূর্ণাঙ্গ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই অর্জনের মাত্র আট দিন পর, ১৯৭৪ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম বাঙালি হিসেবে মাতৃভাষা বাংলায় এক যুগান্তকারী ভাষণ প্রদান করেন, যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদাকে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করে।
মাস্টার্স ও বিসিএস স্পেশাল অ্যাকাডেমিক মডেল প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১ (ক-বিভাগ): জাতিসংঘে গণচীন সর্বপ্রথম কোন দেশের সদস্যপদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ভেটো প্রয়োগ করেছিল?
উত্তর: সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে (১৯৭২ সালের ২৫শে আগস্ট)।
প্রশ্ন ২ (খ-বিভাগ): ১৯৭২ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ আটকে দিতে চীন কোন রেজুলেশনের অজুহাত দেখিয়েছিল?
উত্তর: নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ৩০৭ (Resolution 307), যা মূলত ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি ও সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত নির্দেশনা ছিল।
প্রশ্ন ৩ (গ-বিভাগ): ১৯৭২ সালে জাতিসংঘে সদস্যপদ লাভে বাংলাদেশের বাধাসমূহ বিশ্লেষণপূর্বক তা উত্তরণের কৌশল বর্ণনা করো।
উত্তর নির্দেশিকা: সনদের ৪ নং অনুচ্ছেদের শর্ত উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি, চীনের প্রথম ভেটো, পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধবন্দি সংকট তুলে ধরতে হবে। এরপর ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ১৯৭৪, লাহোর ওআইসি সম্মেলন এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪-এর সদস্যপদ অর্জনের ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস ও বিগত পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক হ্যান্ডনোটসমূহ ক্রমানুসারে পড়ুন:
বাংলাদেশের জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভের ইতিহাস – ৬. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ)
বাংলাদেশ কত তারিখে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে?
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে ১৩৬তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধু কবে বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ দেন?
১৯৭৪ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম বাংলায় প্রামাণ্য ভাষণ প্রদান করেন।
১৯৭২ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদের প্রধান আবেদনকারী কে ছিলেন?
১৯৭২ সালের ৮ই আগস্ট বাংলাদেশের পক্ষে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে আবেদনপত্র পাঠান।
অফিসিয়াল তথ্যাবলী ও প্রাসঙ্গিক নীতিমালার জন্য বাংলাদেশ – উইকিপিডিয়া উন্মুক্ত বিশ্বকোষ ভিজিট করতে পারেন।