
বিভাগ: মাস্টার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান | সর্বশেষ সংস্করণ: ২০২৬ | চূড়ান্ত স্পেশাল হ্যান্ডনোট
সারসংক্ষেপ (Quick Overview):
সাম্প্রতিক কালের রাষ্ট্রচিন্তা (Recent Political Thought) বলতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান একবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বিশ্ব রাজনীতিতে আবির্ভূত নতুন দার্শনিক ও বাস্তববাদী মতবাদগুলোকে বোঝায়। এর মধ্যে আচরণবাদ, উত্তর-আধুনিকতাবাদ, নয়া-জাতীয়তাবাদ (Neo-Nationalism), বিশ্বায়ন, কল্যাণকামী রাষ্ট্র এবং মানবাধিকার প্রধান স্থান দখল করে আছে। নিচে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত, মূল ধারা এবং মাস্টার্স পরীক্ষার বিশেষ প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো।
সূচিপত্র (Table of Contents)
- ১. সাম্প্রতিক কালের রাষ্ট্রচিন্তার সংজ্ঞা ও পটভূমি
- ২. আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা বনাম সাম্প্রতিক রাষ্ট্রচিন্তার পার্থক্য
- ৩. সাম্প্রতিক জাতীয়তাবাদের স্বরূপ ও নয়া-জাতীয়তাবাদ
- ৪. সাম্প্রতিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রধান প্রধান মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
- ৫. সমসাময়িক বিশিষ্ট রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ও তাঁদের দর্শন
- ৬. প্রধান রাজনৈতিক মতবাদসমূহের তুলনামূলক সারণী
- ৭. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার মডেল প্রশ্নোত্তর
- ৮. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সাম্প্রতিক কালের রাষ্ট্রচিন্তার সংজ্ঞা ও পটভূমি
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিবর্তনে সাম্প্রতিক রাষ্ট্রচিন্তা এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। উনিশ শতকের রাষ্ট্রচিন্তা যেখানে রাষ্ট্রের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, বিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে তা মানুষের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক আচরণ, মনস্তত্ত্ব, ভোটাভ্যাস এবং সমাজতাত্ত্বিক বাস্তবতার দিকে ধাবিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সংকটময় বিষয়গুলো সমসাময়িক রাষ্ট্রচিন্তাকে বহুমাত্রিক রূপ দিয়েছে।
৩. সাম্প্রতিক জাতীয়তাবাদের স্বরূপ ও নয়া-জাতীয়তাবাদ
বিশ শতকের ঔপনিবেশিকতাবিরোধী জাতীয়তাবাদ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের ইতিবাচক হাতিয়ার। তবে বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বায়নের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশে ‘নয়া-জাতীয়তাবাদ’ (Neo-Nationalism) ও সংরক্ষণশীলতার বিস্তার ঘটছে। ব্রেক্সিট (Brexit), বাণিজ্যিক সংরক্ষণবাদ এবং পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি এর প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।
৬. প্রধান রাজনৈতিক মতবাদসমূহের তুলনামূলক সারণী
| রাজনৈতিক মতবাদ | মূল প্রবক্তা | কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য বিষয় |
|---|---|---|
| আচরণবাদ (Behavioralism) | ডেভিড ইস্টন, রবার্ট ডাল | মূল্যবোধের পরিবর্তে বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ |
| নয়া-উদারতাবাদ (Neo-Liberalism) | এফ. এ. হায়েক, মিল্টন ফ্রিডম্যান | মুক্তবাজার অর্থনীতি ও রাষ্ট্রে সরকারি হস্তক্ষেপ সংকোচন |
| উত্তর-আধুনিকতাবাদ (Post-Modernism) | মিশেল ফুকো, জাঁ-ফ্রাঁসোয়া লায়োতার্দ | সার্বজনীন সত্যের অস্বীকৃতি ও ক্ষমতার বহুমুখী রূপ উন্মোচন |
৭. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার মডেল প্রশ্নোত্তর
মাস্টার্স পরীক্ষার ১০০% কমন প্রশ্ন
১. প্রশ্ন: আচরণবাদের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তর: প্রখ্যাত মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডেভিড ইস্টন (David Easton)।
২. প্রশ্ন: ‘The End of History and the Last Man’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তর: ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামা (Francis Fukuyama)।
৩. প্রশ্ন: ক্ষমতার প্রত্নতত্ত্ব (Archaeology of Knowledge) ধারণাটি কার?
উত্তর: ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো।
৮. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
আচরণবাদ ও উত্তর-আচরণবাদের মধ্যে পার্থক্য কী?
৫.১ ডিজিটাল জাতীয়তাবাদ ও ভূরাজনীতির সমকালীন সংকট
একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে এসে জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে ‘ডিজিটাল জাতীয়তাবাদ’ (Digital Nationalism)-এ রূপান্তরিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অ্যালগরিদমিক নিয়ন্ত্রণ এবং ডেটা সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিভিন্ন পরাশক্তি ও রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং পরাশক্তিগুলোর বাণিজ্যযুদ্ধ প্রমাণ করে যে বিশ্বায়নের যুগেও জাতীয় স্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় সীমান্ত আজও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল নিয়ামক শক্তি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘সভ্যতার সংঘাত’ (Clash of Civilizations) তত্ত্বের আলোকে অনেকে মনে করেন, অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের বিপরীতে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আত্মপরিচয়ের পুনর্জাগরণই সাম্প্রতিক জাতীয়তাবাদের সবচেয়ে বড় জ্বালানি। এটি একই সাথে জাতীয় সংহতি বৃদ্ধির সহায়ক আবার উগ্র উসকানির ক্ষেত্রে বিশ্বশান্তির জন্য এক বড় হুমকি।
৫.২ সমকালীন ভূরাজনীতিতে সাম্প্রতিক জাতীয়তাবাদের ৩টি বাস্তব কেস স্টাডি
সাম্প্রতিক জাতীয়তাবাদের রূপরেখা তাত্ত্বিক আলোচনা ছাড়িয়ে বাস্তব বৈশ্বিক রাজনীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, তা নিচের ৩টি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে সুস্পষ্ট হয়:
- ১. ব্রেক্সিট (Brexit) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন: যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ ছিল অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের বিপরীতে সার্বভৌমত্ব ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের ‘জাতীয়তাবাদী প্রত্যাবর্তন’। এটি প্রমাণ করে যে উন্নত পশ্চিমা সমাজেও অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে জাতীয় আত্মপরিচয়ের আকাঙ্ক্ষা জয়ী হতে পারে।
- ২. ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (America First) নীতি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ, শুল্ক আরোপ এবং বহুপাক্ষিক চুক্তি থেকে সরে আসা সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- ৩. দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা নীতি: ভারত, পাকিস্তান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে ধর্মীয় ও জাতিগত জাতীয়তাবাদের তীব্র প্রভাব জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলকে প্রতিনিয়ত পুনর্নির্ধারণ করছে।