পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ সকল সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর - অষ্টম শ্রেনি (PDF)

পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ সকল সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর - অষ্টম শ্রেনি (PDF), পাছে লোকে কিছু বলে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
Follow Our Official Facebook Page For New Updates


Join our Telegram Channel!

পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ সকল সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর - অষ্টম শ্রেনি (PDF) | Class 8 Pache Loke Kichu Bole All Creative Questions and Answers

নিচে পাছে লোকে কিছু বলে গল্পের সকল সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র পিডিএপ আকারে দেয়া রয়েছে।



পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ সকল সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর - অষ্টম শ্রেনি (PDF)

পাছে লোকে কিছু বলে - কামিনী রায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনজীল প্রশ্ন -১: নিচের কবিতাংশ পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

 নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো

 যুগ-জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।

 সবাই মোরে ছাড়তে পারে বন্ধু যারা আছে

 নিন্দুক সে ছায়ার মতো থাকবে পাছে পাছে।

 বিশ্বজনে নিঃস্ব করে, পবিত্রতা আনে

 সাধক জনে নিস্তারিতে তার মতো কে জানে?

 বিনামূল্যে ময়লা ধুয়ে করে পরিষ্কার,

 বিশ্ব মাঝে এমন দয়াল মিলবে কোথা আর?

 নিন্দুক সে বেঁচে থাকুক বিশ্বহিতের তরে,

 আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে।


ক. ‘সদা’ শব্দটির অর্থ কী?  ১ 

খ. সংশয়ে সংকল্প সদা টলে- কেন?  ২

গ. উদ্দীপকের নিন্দুক ও ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় নিন্দুকের বৈসাদৃশ্যের দিকটি ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. উদ্দীপকের নিন্দুকের প্রভাব আর ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় বর্ণিত নিন্দুকের প্রভাবকে একসূত্রে গাঁথা যায় কী? যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখ। ৪ পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

 

১নং প্রশ্নের উত্তর  


ক. ‘সদা’ শব্দটির অর্থ সবসময়।


খ. লোকলজ্জা ও সমালোচনার ভয়ে সংশয়ে সংকল্প সদা টলে। 

 কোনো কাজ করতে গেলে মনে হয় লোকে কী বলবে, কী মনে করবে। লোকের কথার ভয়ে সংকুচিত হয়ে যায় ব্যক্তির উদ্যম। মনের ভেতর সংশয় কাজ করলে সংকল্পকে বাস্তবে রূপদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ কোনো কাজ করতে গিয়ে লজ্জার মুখে পড়তে হয় কিনা এই জন্য কোনো প্রকার ভালো কাজ করতে গেলে মনের সংশয় দানাবেধে ওঠে।


গ. উদ্দীপকের নিন্দুক ও ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় দ্বিধা ও সংকোচের দিক দিয়ে বৈশাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় সমাজের একশ্রেণির মানুষের চিত্র ফুটে উঠেছে যারা কোনো কাজ করতে গেলে মানুষের সমলোচনার ভয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়। এ কারণে তারা ভালো কাজে এগিয়ে যায় না। ফলে তাদের দ্বারা সমাজের কোনো উন্নতি হয় না।

 উদ্দীপকে নিন্দুকের যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা প্রশংসাসূচক এবং ইতিবাচক। এখানে কবি নিন্দুকের জয়গান করেছেন। নিন্দুকেরা কবির অনিষ্ট চিন্তা করেন বলেই কবি তাদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। নিন্দুকের ইতিবাচক দিক হিসেবে কবি উল্লেখ করেছেন যে, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সকলেই কবিকে ছেড়ে যেতে পারে কিন্তু নিন্দুক কখনই কবিকে ছেড়ে যাবে না। অর্থাৎ কবির দোষক্রটিগুলো সে খুঁজে বের করে দিয়ে কবিকে শুদ্ধ হতে সাহায্য করে। কবির জীবনে এই পরিশুদ্ধতার জন্য তিনি নিন্দুকদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। তাই বলা যায় উদ্দীপকের নিন্দুক ও ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার নিন্দুকের মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।


ঘ. উদ্দীপকে নিন্দুকের প্রভাব ইতিবাচক এবং ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় নিন্দুকের প্রভাব নেতিবাচক হওয়ায় উভয়ের প্রভাবকে একসূত্রে গাঁথা যায় না।

 কামিনী রায় ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় নিন্দুকের প্রভাবে কোনো কাজ হয় না বলে জানিয়েছেন। নিন্দুকের সমালোচনায় কবির সংকল্প সংশয়ে টলে ওঠে। নিজেকে কাজ থেকে গুটিয়ে রাখেন কবি। শুধু চিন্তাকে বিনষ্ট করেছেন নিন্দুকের ভয়ে। মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো কাজে অগ্রসর হলেও লোকলজ্জার ভয়ে তা সম্পন্ন করতে পারেন না। কবির শক্তি ভীতসন্ত্রস্ত হৃদয়ের কারণে দমে যায়।

 উদ্দীপকে কবি নিন্দুকের প্রভাবকে তার জীবনে আশীর্বাদ হিসেবে দেখেছেন। কবি নিন্দুককে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বন্ধু হিসেবে কল্পনা করেছেন। বন্ধুর চেয়ে নিন্দুককে কবি আপন মনে করেছেন। বিশ্বের মানুষের সমালোচনা করে বলে মানুষ দোষক্রটি সংশোধনের সুযোগ পায়। এভাবেই নিন্দুক পবিত্রতা আনে। নিন্দুককে কবি দয়াল হিসেবে দেখেছেন। কারণ নিন্দুকই কবির আশা পূরণ করতে সহায়তা করবে। কবির জীবনে নিন্দুকের প্রভাব আশীর্বাদস্বরূপ। তাই কবি নিন্দুকের  দীর্ঘ আয়ু কামনা করেছেন।  উদ্দীপকের নিন্দুক কবিকে নিন্দার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় কবি নিন্দুকের ভয়ে ভীত। তার জীবনে নিন্দুক নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।

 উল্লিখিত আলোচনায় দেখা যায় যে, উদ্দীপকের নিন্দুকের প্রভাব আর ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় বর্ণিত নিন্দুকের প্রভাবকে একসূত্রে গাঁথা যায় না।


সৃজনজীল প্রশ্ন -২: নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

গ্রীষ্মের ছুটি হলে শফিক বাড়িতে আসে। কয়েকজন বেকার যুবক ও সহপাঠী বন্ধুকে নিয়ে পরিকল্পনা করে গ্রামে নৈশবিদ্যালয় খোলার। সবাই তার এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়। এজন্য প্রয়োজনীয় বইপত্র, ঘর, শিক্ষক সবই নির্বাচন করে। এমন সময় গ্রামের এক লোক বলে, এর আগে কামাল মাস্টারের মতো মানুষ এ কাজে ফেল মেরেছে, সেখানে কচি শিশুরা খুলবে নৈশবিদ্যালয়? একথা শুনে তারা দমে যায়।


ক. ‘সংকল্প’ শব্দটির অর্থ কী?  ১

খ. একটি স্নেহের কথায় কীভাবে আমাদের ব্যথা দূর হতে পারে? ২

গ. শফিকের উদ্যোগ ব্যাহত হওয়ার কারণ ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. শফিকের মাঝে কী ধরনের পরিবর্তন এলে সে তার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হতো তা ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার আলোকে যুক্তিসহ লেখ। ৪

 পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

২নং প্রশ্নের উত্তর  


ক. ‘সংকল্প’ শব্দটির অর্থ মনের দৃঢ় ইচ্ছা। 


খ. একটি স্নেহের কথায় যে আদর থাকে তার ছোঁয়ায় আমাদের ব্যথা দূর হতে পারে।

 মানুষের মন সংবেদনশীল। এ মন কটু কথায় কষ্ট পায় আর স্নেহের কথায় সুখ অনুভব করে। ব্যথিত মানুষ স্বভাবতই মানসিকভাবে অন্যের সাহায্য প্রত্যাশা করে। মানুষের মনে যদি কোনো গভীর কষ্ট জমে থাকে, তাহলে যদি কেউ স্নেহের কথা বলে তার মন থেকে সেই কষ্ট অনেক লাঘব হয়ে যায়। অনেক কাজে আমরা সফল হতে পারি না, তখন আস্থা হারিয়ে ব্যথাতুর সময় অতিবাহিত করতে থাকি। এ সময় একটি স্নেহপূর্ণ কথাই হৃদয়ের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে। 


গ. শফিকের উদ্যোগ ব্যাহত হওয়ার কারণ হিসেবে নিন্দুকের সমালোচনাকে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় ইঙ্গিত করা হয়েছে।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় কবি সর্বদা লোকের কথায় ভিতু হয়ে পড়েন। কোনো কাজ করতে গেলে লোকে কী ভাববে, কী মনে করবে এ চিন্তায় অস্থির হন। লোকের কথায় সংকল্পে সংশয় দেখা দেয়। মহৎ কোনো কাজ কবি সম্পাদন করতে সাহসী হন না। লোকলজ্জার ভয়ে, সমালোচনার ভয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েন।

 উদ্দীপকের শফিকের ক্ষেত্রেও নিন্দুকদের সমালোচনার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। শফিক যখন উদ্যোগী হয়ে গ্রামের কয়েকজন বেকার যুবক ও সহপাঠী বন্ধুকে একত্রিত করে পরিকল্পনা করে গ্রামে একটি নৈশবিদ্যালয় খোলার। তখন এক লোক উপস্থিত হয়ে তাদের কাজকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। তার নেতিবাচক কথায় শফিকের সুন্দর উদ্যোগ ব্যাহত হয়। তাই বলা যায়, ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় ফুটে ওঠা নিন্দুকের সমালোচনার কারণেই শফিকের সুন্দর উদ্যোগ ব্যাহত হয়। 


ঘ. সমালোচনা উপেক্ষা করে দৃঢ় মনোবলে এগিয়ে গেলে শফিক পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হতো। 

 কামিনী রায় তাঁর ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় লোকের কথায় মানুষের গুটিয়ে থাকার প্রবণতাকে তুলে ধরেছেন। কোনো কাজ করতে গেলে মানুষ দ্বিধাগ্রস্ত হয়। কে কী মনে করবে, কে কী সমালোচনা করবে এ ভেবে বসে থাকে মানুষ। এর ফলে কোনো কাজ এগোয় না। যারা সমাজে অবদান রাখতে চান তাদের দ্বিধা করলে চলবে না। দৃঢ় মনোবল নিয়ে লোকলজ্জা ও সমালোচনাকে উপেক্ষা করতে হবে।

 উদ্দীপকে শফিকের উদ্যোগ মহৎ। বেকার যুবক ও বন্ধুদের নিয়ে মানুষকে শিক্ষিত করতে তারা নৈশবিদ্যালয় স্থাপন করতে চায়। প্রয়োজনীয় বইপত্র, ঘর, শিক্ষক সবই নির্বাচন করে কিন্তু এক লোকের কথায় তারা সে উদ্যম হারিয়ে ফেলে। লোকের কথায় তারা দমে যায় মহৎ উদ্যোগ থেকে। কিন্তু ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কবির চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে তারা যদি দ্বিধাহীন চিত্তে এগিয়ে যেত তাহলে তাদের উদ্যোগ সফল হতো। 

 উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায় যে, উদ্দীপকের শফিক দ্বিধা, ভয়, সংশয় থেকে মুক্ত হতে পারলেই তার পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হতো।  

পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনজীল প্রশ্ন -৩: নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারুকলায় পাস করা সোহেল চাকরি খুঁজে ব্যর্থ হয়ে নিজ গ্রামে সৌদি আরবের নানা জাতের খেজুরের বাগান শুরু করে। তখন পরিবার ও গ্রামের অনেকেই তার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা রকম ব্যঙ্গাত্মক কথা বলত। কিন্তু সে থেমে থাকে না। অথচ ঐ বাগান থেকে সোহেল আজ লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক।


ক. কবি কামিনী রায়ের কবিতায় কার প্রভাব স্পষ্ট?  ১

খ. ‘শক্তি মরে ভীতির কবলে’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।  ২

গ. উদ্দীপকের সোহেলের কাজে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা কর। ৩

ঘ.“উদ্দীপকের সোহেলের মতো মানুষদের জন্য ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতাটি প্রেরণার উৎস”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ৪

 

৩নং প্রশ্নের উত্তর  


ক. কবি কামিনী রায়ের কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব স্পষ্ট।


খ. ভীতি মনকে দুর্বল করে বলে ভীতির কবলে শক্তি মুখ থুবড়ে পড়ে। আলোচ্য অংশে এ কথাই বলা হয়েছে।

 মানুষের মনের মধ্যে ভালো কাজ করার শক্তি জাগে, সে সমাজ ও সংসারের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করতে চায়। কিন্তু পরক্ষণেই সেই শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। এর কারণ নিন্দুকের ভয়। ভালো কাজ করতে গিয়ে পাছে কিনা মানুষের কুৎসার সম্মুখীন হয়, লজ্জার মধ্যে পড়তে হয়। আলোচ্য চরণে নিন্দুকদের ভয় পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাদের ভয়েই মনের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়।


গ. উদ্দীপকের সোহেলের কাজে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার দ্বিধাগ্রস্ত-সংশয় কাটিয়ে ইতিবাচক দিকটি ফুটে উঠেছে।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার মহৎ কাজের জন্য মানুষের মনে উদ্ভূত শুভ চিন্তার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। ভালো কাজে ইচ্ছুক মানুষের মনে বুদবুদের মতো অসংখ্য শুভবুদ্ধির উদয় হয়। দ্বিধা ত্যাগ করে এ শুভ চিন্তাগুলোকে কাজে লাগাতে পারলে জীবন সার্থক হয়।

 উদ্দীপকে দেখা যায়, সোহেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পরে কোনো চাকরি না পেয়ে নিজ গ্রামে সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুরের বাগান শুরু করে। তখন তার পরিবার ও গ্রামের লোকজন তার কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা রকম ব্যঙ্গাত্মক কথা বলে। কিন্তু সোহেল লোকলজ্জা ও সমালোচনা উপেক্ষা করে আপন মনের জোর ও দৃঢ়তার কারণে আজ ঐ বাগান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক। অর্থাৎ উদ্দীপকের সোহেলের কাজে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার সংশয়গ্রস্ত মানসিকতা পরিহার করে দৃঢ়ভাবে নিজ লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার ইতিবাচক দিকটি ফুটে উঠেছে।


ঘ. ‘উদ্দীপকের সোহেলের মতো মানুষদের জন্য ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতাটি প্রেরণার উৎস’- এ মন্তব্যটি যথার্থ।

 মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করতে গেলে অনেক সময় বিধিনিষেধের সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু  এসব ভয়ভীতি ও সংকোচ উপেক্ষা না করলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় নিঃসংকোচিত হয়ে জীবনপথে পরিচালিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। দ্বিধাগ্রস্ত না হয়ে বরং মুক্ত স্বাধীনভাবে এগিয়ে যেতে হবে। কেননা ভালো কাজ করতে গেলে লোকলজ্জা ও সমালোচনাকে উপেক্ষা করে চলতেই হবে।

 আমরা উদ্দীপকের সোহেলের মধ্যে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতাটির মর্মবাণী খুঁজে পাই। সোহেল মহৎ কাজের উদ্যোগ নিয়ে সংকোচবোধকে উপেক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে গেছে। দৃঢ় মনোবলের কারণে সোহেলের সিদ্ধান্ত থেকে কেউ তাকে টলাতে পারেনি। দ্বিধা এবং ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সোহেল নিজ শ্রমবলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায় যে, উদ্দীপকের সোহেলের মতো মানুষদের জন্য ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতাটি প্রেরণার উৎস।পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনজীল প্রশ্ন -৪: নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

গ্রামের ছেলে মেহেদী গ্রামের বাজারে অনলাইন সেবা প্রদানের জন্য একটি কম্পিউটার দোকান দিয়েছে। দোকানে সেবা পেতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার দবির এ অবস্থা দেখে বলল, মেহেদীর কী রাজনৈতিক খায়েস আছে? এ কথা শুনে মেহেদী পিছু হটে যায়?


ক. কামিনী রায়কে কোন স্বর্ণপদকে ভ‚ষিত করা হয়?  ১

খ. ‘একটি স্নেহের কথা  প্রশমিতে পারে ব্যথা’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?  ২

গ. মেহেদীর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ.মেহেদীর মানসিক দৃঢ়তা থাকলেই সে সফল হতো- ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার আলোকে মূল্যায়ন কর। ৪

 

৪নং প্রশ্নের উত্তর  


ক. কামিনী রায়কে জগত্তারিণী স্বর্ণপদকে ভ‚ষিত করা হয়।


খ. অনুশীলনীর ২ নং প্রশ্নে ‘খ’ নং উত্তর দ্রষ্টব্য।


গ. ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় বর্ণিত সমালোচকের সমালোচনার কারণে উদ্দীপকের মেহেদীর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় সমালোচকের সমালোচনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সমালোচকের কাজই সমালোচনা করা। এক্ষেত্রে ভালো আর মন্দ নেই। তারা সর্বদা সমালোচনা করে মানুষকে দমিয়ে দেয়। মানুষের মনের মধ্যে সৃষ্টি করে দ্বিধার পাহাড়।

 উদ্দীপকের মেহেদীও সমালোচনার কারণে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। সে মানুষের মাঝে আধুনিক সভ্যতার সুফল পৌঁছে দিতে কম্পিউটারের দোকান দেয়। তাই সাধারণ মানুষ তার দোকানে ভিড় জমায়। কিন্তু বিষয়টি মেনে নিতে পারে না ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার। সে মেহেদীর ব্যবসাকে রাজনীতির সঙ্গে তুলনা করে তার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই বলা যায়, কবিতায় বর্ণিত সমালোচনার কারণে মেহেদীর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।


ঘ. মেহেদীর মানসিক দৃঢ়তা থাকলেই সে সফল হতো- ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় সমালোচনার বিষয়টি বিদ্যমান। সমালোচকের কাজই সমালোচনা করা। কিন্তু এতে আমাদের ভীত হওয়া বা মহৎ কাজ থেকে ফিরে আসা উচিত নয়, বরং মানসিকতাকে দৃঢ় করতে হয়। যাতে সকল সমালোচনাকে উপেক্ষা করে আমরা সফল হতে পারি, সে লক্ষ্যে কাজ করতে হয়। তবেই জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।

 উদ্দীপকের মেহেদী মানুষের মাঝে অনলাইন সেবা পৌঁছে দিতে কম্পিউটারের দোকান দেয়। ফলে মানুষ তার দোকানে ভিড় জমায়। কিন্তু বিষয়টি ভালো চোখে দেখে না ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার। তার কঠোর সমালোচনার কারণে মেহেদী তার মহৎ উদ্যোগ থেকে সরে আসে। যা মোটেও ঠিক নয়।

 সমালোচনার কারণে কখনই মহৎ উদ্যোগ থেকে ফিরে আসা উচিত নয়। বরং দৃঢ় মানসিকতা ধারণ করতে হয়। তবেই সফল হওয়া সম্ভব আর এই মানসিকতা মেহেদী ধারণ করলে সেও সফল হতো। পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

 

সৃজনজীল প্রশ্ন -৫: নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

নকুল তার বিদেশি বন্ধুকে নিয়ে রমনা পার্কে বেড়াতে গিয়েছিল। হাঁটতে হাঁটতে তারা গল্প করছে। এমন সময় নকুল দেখল, একটা শালিক পাখির পায়ে জালের মতো কী যেন আটকে আছে, তাই পাখিটা উড়তে পারছে না- এটা দেখে নকুলের মনে দয়া হলো পাখিটির জন্য। কিন্তু সে পাখিটিকে মুক্ত করতে পারল না, কারণ সামান্য পাখিকে মুক্ত করার মতো ক্ষুদ্র কাজ করলে বিদেশি বন্ধুর সামনে যদি সম্মান খোয়া যায়, এই ভয় নকুলের সদিচ্ছাকে সুপ্ত করে দিল। খানিক বাদে এক দুষ্টু ছেলে এসে পাখিটা ধরে নিয়ে গেল।


ক. সংকল্প সর্বদা কীসে টলে?  ১

খ. ‘সদা ভয়, সদা লাজ’ - ব্যাখ্যা কর।  ২

গ. ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার প্রথম স্তবকের সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য দেখাও। ৩

ঘ.‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতা ও উদ্দীপক একই সত্য নির্দেশ করে-মন্তব্যটি বিচার কর। ৪

 পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

৫নং প্রশ্নের উত্তর  


ক. সংকল্প সর্বদা সংশয়ে টলে।


খ. ‘সদা ভয়, সদা লাজ’-চরণটি দ্বারা মনের জড়তা বোঝানো হয়েছে। 

 সমালোচনার জন্য ভালো কাজ করতেও মানুষ ভয় ও লজ্জা পায়। কারণ যদি কাজ শুরু করে শেষ না করা যায় তাহলে লোকমুখে সমালোচনার ঝড় উঠবে, সমাজে সে মুখ দেখাতে পারবে না। ফলে অন্তরের সংকল্প টলে।


গ. ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার প্রথম স্তবকের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার প্রথম স্তবকে কবি বলেছেন- আমরা কাজ করতে পারি না, কারণ আমাদের মনে সর্বদাই রয়েছে ভয়ের আনাগোনা। লজ্জা আমাদের সর্বদাই তাড়া করে ফেরে। আমাদের মনে যদি কোনো সংকল্প আসে, তবে তার চেয়ে বেশি আসে সংশয়। কাজটা করা উচিত কী উচিত না- এটা ভাবতে ভাবতেই আমাদের সংকল্প স্তিমিত হয়ে পড়ে।

 উদ্দীপকের নকুলের চরিত্রে দ্বিধা-দ্ব›েদ্বর বিষয়টি স্পষ্ট প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, নকুলের খুব ইচ্ছা হচ্ছিল পাখিটাকে মুক্ত করে দিতে। কারণ দুষ্টু শিকারির চোখে পড়লে পাখিটার প্রাণনাশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বিদেশি বন্ধু সঙ্গে থাকার কারণে নকুল পাখিটাকে মুক্ত করতে পারে না। পাখিটাকে মুক্ত করলে নতুন বন্ধুর কাছে যদি সম্মান নষ্ট হয়, এই ভয়ে নকুল পাখিটাকে বাঁচাতে পারে না। তাই বলা যায়, ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার প্রথম স্তবকের সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।


ঘ. ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতা ও উদ্দীপক একই সত্য নির্দেশ করে মন্তব্যটি যথার্থ। 

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় কবি আমাদের মনের লজ্জাকে ফুটিয়ে তুলেছেন, আমাদের মনে যদি কোনো সংকল্প সৃষ্টি হয়, তার চেয়ে বেশি সৃষ্টি হয় সংশয়। ফলে মনের মাঝেই সংকল্পের বিলুপ্তি ঘটে। বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটে না। লোকলজ্জার ভয়ে আমরা সর্বদাই কর্তব্যকে আড়ালে রাখি। কখনো কখনো বিশেষ পরিস্থিতিতে আমাদের প্রাণ কাঁদে। কিন্তু লজ্জার কারণে সে কান্না চোখে প্রকাশ পায় না। এভাবে লোকলজ্জার কারণে আমরা মহৎ কাজ করা থেকেও বিরত থাকি।

 উদ্দীপকের নকুল একদিন বান্ধবীকে নিয়ে রমনা পার্কে বেড়াতে গেল। হঠাৎ দেখল একটা শালিক পাখি উড়তে পারছে না। পাখিটার পা কিছুর সঙ্গে আটকে রয়েছে। পাখিটাকে মুক্ত করার ইচ্ছা নকুলের মনে জাগল, কারণ যদি কোনো শিকারি অথবা দুষ্টু ছেলে পাখিটাকে দেখে- তবে ধরে নিয়ে যাবে। নকুলের এই ভালো সংকল্প বাস্তবে রূপ লাভ করল না। কারণ তার বিবেক লজ্জা দ্বারা আচ্ছন্ন। সে চিন্তা করল, তার সঙ্গে বিদেশি বন্ধু রয়েছে। পাখিটাকে মুক্ত করতে গেলে বন্ধুর কাছে সম্মানহানি হতে পারে।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় আমাদের মনের অহেতুক সংশয়ের দিকটি প্রকাশ করা হয়েছে, যা উদ্দীপকের নকুলের চরিত্রে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায়, ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ ও উদ্দীপক একই সত্য নির্দেশ করে। পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর


সৃজনজীল প্রশ্ন -৬: নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ছোটবেলা থেকে গান গাওয়ার প্রতি দারুণ ঝোঁক রমার। অসাধারণ গানের কণ্ঠ তার। একসময় সহপাঠীরা ওর গান শুনে হাসাহাসি করেছে। অভিভাবকেরা বিদ্রƒপ করে বলেছেন, “কণ্ঠশিল্পীরা ভাত পায় না। তার চেয়ে মন দিয়ে লেখাপড়া কর।” রমা তবু হাল ছাড়েনি। আজ সে দেশের খ্যাতনামা একজন কণ্ঠশিল্পী।


ক. হৃদয়ে বুদবুদের মতো কী ওঠে?  ১

খ. ‘আড়ালে আড়ালে থাকি,

 নীরবে আপনা ঢাকি’-ব্যাখ্যা কর।  ২

গ. রমার মনোভাব ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কোন দিকটির বিরোধিতা করে, ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ.“উদ্দীপকের রমা ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার মূলবক্তব্যের বিপরীত মেরুর মানুষ।”- উক্তিটির যথার্থতা নির্ণয় কর। ৪


 ৬নং প্রশ্নের উত্তর  


ক. হৃদয়ে বুদবুদের মতো শুভ্র চিন্তা ওঠে।


খ. ‘আড়ালে আড়ালে থাকি, নীরবে আপনা ঢাকি।’- চরণ দুটি দ্বারা কবি যা বুঝিয়েছেন তা হলো লোকলজ্জা ও সমালোচনার ভয়ে কবি আড়ালে আড়ালে থাকেন এবং নীরবে নিজেকে ঢেকে রাখেন।

 সমাজের দুর্বল মানুষেরা সর্বদাই নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চায়। কারণ, সমাজে নিন্দুক লোকের অভাব নেই, যারা কারো দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা করতে একটুও কুণ্ঠিত হয় না। দুর্বল চিত্তের মানুষেরা তাদের দুর্বলতার জন্য ঠিকমতো কোনো কাজ করতে পারে না। সেই কারণে লোকলজ্জা ও সমালোচনার ভয়ে নিজেদেরকে আড়ালে ঢেকে রাখে।


গ. রমার মনোভাব ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার মূলবক্তব্যের দ্বিধাগ্রস্ত মানসিকতার বিরোধিতা করে।

 কবি কামিনী রায় রচিত ‘পাচ্ছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার থেকে জানতে পারি যে, দ্বিধাগ্রস্ত মন নিয়ে কোনো মহঃকাজ সম্পন্ন করা যায় না। কবির অন্তরে বুদবুদের মতো অসংখ্য ভাবনার উদয় হলেও ভয় ও লজ্জায় তা অন্তরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। 

 উদ্দীপকের সহপাঠীদের ব্যঙ্গ, অভিভাবকদের বিদ্রƒপ রমাকে গান গাওয়া থেকে টলাতে পারে নি। মনের জোর ও দৃঢ়তার জন্যে রমা একদিন দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার বিরুদ্ধে মনোভাবই প্রকাশিত হয়েছে। সহজভাবে বলা চলে রমার দৃঢ় মনোভাব ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার সংশয়গ্রস্ত মানসিকতার বিপরীতে অবস্থান করে।


ঘ. “উদ্দীপকের রমা ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার মূলবক্তব্যের বিপরীত মেরুর মানুষ- উক্তিটি যথার্থই।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় রমার বিপরীত মানসিকতার সন্ধান পাওয়া যায়। এ কবিতায় মানসিক জড়তাগ্রস্ত মানুষের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। আড়ালে আড়ালে লুকিয়ে থেকে যারা সম্মুখে পা বাড়াতে চায় না, তাদের দ্বারা কোনো মহৎকাজ হতে পারে না বলে কবি মনে করেন।

 উদ্দীপকটিতে রমার দৃঢ় মনোভাবের প্রকাশ পাওয়া যায়। মানসিক জোরের বদৌলতেই সে সহপাঠীদের ব্যঙ্গ, অভিভাবকের বিদ্রুপ হজম করে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। অন্তরের শক্তি দুর্বল হলে রমা দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী হতে পারত না।

 উল্লিখিত আলোচনার মাধ্যমে বলা যায় যে, রমা আলোচ্য ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার মূলবক্তব্যের বিপরীত মেরুর মানুষ। উদ্দীপকে রমার দ্বিধাহীন মন এবং ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় কবির দ্বিধাগ্রস্ত মনের প্রকাশ ঘটেছে। পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর


সৃজনজীল প্রশ্ন -৭: নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

নবনী আর মিতা দুই বান্ধবী। নবনীর বাবা একজন কাঠ ব্যবসায়ী। বাজারে তার ফার্নিচারের দোকান আছে। সমাজেও বেশ নামডাক। তবে নবনী তার বাবাকে খুব ভয় পায়। আর মিতার বাবা রিকশাচালক, দিনমজুরির পয়সায় কোনোমতে মিতাদের সংসার চলে। এবারের ঈদে নবনী চারটা জামা পেয়েছে। তার মন বেশ খুশি হয়ে ওঠে। কিন্তু মিতাকে কেউ কোনো জামা দেয়নি। তার বাবাও কিনে দিতে পারেনি। নবনীর খুব ইচ্ছা ছিল মিতাকে একটা জামা দেয়ার। কিন্তু বাবার ভয়ে মিতাকে নবনীর জামা দেয়া হয়ে ওঠে না।


ক. শুভ্র চিন্তা কোথায় মিশে যায়?  ১

খ. ‘কাঁদে প্রাণ যবে, আঁখি সযতনে শুষ্ক রাখি’- ব্যাখ্যা কর।  ২

গ. উদ্দীপকে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ.নবনীর মানসিকতাকে তুমি সমর্থন কর কি? ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার আলোকে মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর। ৪


 ৭নং প্রশ্নের উত্তর  


ক. শুভ্র চিন্তা হৃদয়ের তলে মিশে যায়।


খ. কোনো বিষয়ে প্রাণ কাঁদলেও আপন আবেগকে সংযত রেখে চোখ শুকনো রাখার বিষয়টি সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত উক্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।

 প্রাণ কাঁদলেও তা গোপন করার জন্য চোখ শুকনো রাখা হয়। সমাজের দুর্বল চিত্তের মানুষেরা কাজ করতে গিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়; কে কী মনে করবে, কে কী সমালোচনা করবে, এই ভেবে তারা বসে থাকে। ফলে কাজ এগোয় না। তাদের প্রাণ কেঁদে ওঠে। কিন্তু তারা তাদের আঁখি সযতনে শুষ্ক রাখে কেননা এখানেও সংশয়, পাছে লোকে কিছু বলে!


গ. ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার ভয়ের কারণে শক্তি বা সংকল্প বিনাশ হওয়ার দিকটিই উদ্দীপকের নবনীর চরিত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় কবি বলেছেন যে, আমাদের মনে অনেক সময় শুভ্র চিন্তার জাগরণ ঘটে। ভালো কাজের জন্য সংকল্প সৃষ্টি হয়। কিন্তু যখনই মনে ভালো সংকল্প জাগরিত হয়, তখনই আবার ভীতির কারণে আমরা কাতর হয়ে পড়ি। সামনে একটা বাধার প্রাচীর সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি আর পারিপার্শ্বিকতার কারণে সেই বাধার প্রাচীর ভেঙে ভালো ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে না। এসব কারণে আমরা বা আমাদের সমাজ অনেক ভালো কাজ থেকে বঞ্চিত হয়। 

 উদ্দীপকে দেখা যায়, নবনী আর মিতা দুই বান্ধবী, নবনীর পিতা অনেক টাকাপয়সার মালিক। কিন্তু নবনী তার পিতাকে ভয় পায়। আর মিতার বাবা খুব গরিব। ঈদে নবনী চারটা জামা পায়। অন্যদিকে মিতার বাবা তাকে একটা জামাও কিনে দেয়ার সাধ্য রাখে না। নবনীর খুব ইচ্ছা ছিল মিতাকে অন্তত একটা জামা দেয়ার। কিন্তু নবনী যেহেতু তার বাবাকে ভয় পায়, তাই মিতাকে তার জামা দেয়া হয়ে ওঠে না। তাই বলা যায়, ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার ভয়ের কারণে শক্তি-সামর্থ্য বিনাশ হওয়ার বিষয়টিই প্রকাশ করে। পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর


ঘ. উদ্দীপকের নবনীর মানসিকতাকে আমি সমর্থন করি না।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় কবি যেসব সমস্যা চিহ্নিত করেছেন, তা মূলত সংশয় থেকেই সৃষ্টি। লোকলজ্জা, ভয় ইত্যাদি মূলত সংশয় থেকেই নিঃসৃত। সংশয় মনে বাসা বাঁধার কারণে মানুষ অন্যের সঙ্গে মিশতে পারে না, ভালো ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারে না। প্রাণ কাঁদলেও চোখে জল আসতে দেয় না। 

 উদ্দীপকে দেখা যায়, নবনীর বান্ধবী মিতা, নবনীর বাবা সমাজের উঁচু ব্যক্তি, টাকা-পয়সাও পরিমাণে বেশি, আর মিতার বাবা গরিব রিকশাচালক। সামান্য অর্থ দিয়ে অতি কষ্টে তাকে সংসার চালাতে হয়। ঈদে নবনী চারটা জামা পায়। ফলে তার মন খুশি হয়ে ওঠে। অন্যদিকে গরিবের কন্যা মিতার ভাগ্যে একটা জামাও জোটে না, কোমল মনের অধিকারী নবনীর বেশ ইচ্ছা হয়, সে মিতাকে ঈদ উপলক্ষে একটা জামা উপহার দিবে। কিন্তু বাবাকে ভয় পাওয়ার কারণে সংশয়ে পড়ে মিতাকে নবনী কোনো জামা দিতে পারে না।

 উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায়, সংশয় থেকে সৃষ্ট ভয় ব্যক্তিসত্তাকে অবদমিত করে রাখে। প্রাণকে কর্ম বা উদ্যমশূন্য করে ফেলে। এ ধরনের মানসিকতা কল্যাণময় কাজের অন্তরায়। তাই আমি নবনীর মানসিকতা সমর্থন করি না।


সৃজনজীল প্রশ্ন -৮: নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

বাদশা বাবর দিল্লির রাজপথে হাঁটছিলেন। ছদ্মবেশী হওয়ায় তাকে কেউ চিনতে পারল না। দিল্লির মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করাই তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল। এমন সময় চারদিকে হুলস্থূল পড়ে গেল। লোকজন প্রাণ ভয়ে পালাতে লাগল। কারণ একটা পাগলা হাতি কোথা থেকে ছুটে এলো। সবাই পালিয়ে গেল। শুধু শূন্য পথে পড়ে থাকল একটা অবোধ শিশু। মেথরের শিশু হওয়ায় কেউ তাকে বাঁচাতে এলো না। কিন্তু ছদ্মবেশী বাবর ছুটে এলেন এবং মত্ত হাতির সম্মুখ থেকে শিশুটির জীবন রক্ষা করলেন।

ক. স্নেহের কথা কী প্রশমন করতে পারে?  ১

খ. আমাদের প্রাণ থাকা সত্তে¡ও আমরা ম্রিয়মাণ থাকি কেন?  ২

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার বৈসাদৃশ্য দেখাও। ৩

ঘ.“ ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় যে সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, উদ্দীপকের বাবরের চরিত্রে তার সমাধান রয়েছে”- মন্তব্যটির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর। ৪ পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর


 ৮নং প্রশ্নের উত্তর  


ক. স্নেহের কথা ব্যথা প্রশমন করতে পারে।


খ. আমাদের অন্তরে ভীতি জমাট থাকার কারণে প্রাণ থাকা সত্তে¡ও আমরা ম্রিয়মাণ থাকি।

 বিবেকের দরজায় যখন কোনো কর্তব্য কড়া নাড়ে, তখন আমরা তা সমাধান করি না। অথচ সে কর্তব্য সমাধানের মতো আমাদের শক্তি ও ক্ষমতা আছে। কিন্তু মনে যে ভীতির লালন চলে, তা আমাদেরকে ম্রিয়মাণ করে রাখে।


গ. সংকোচ ও সমালোচনার গুরুত্ব বিবেচনার দিক দিয়ে উদ্দীপকে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, আমরা সদা সংশয় আর লাজের মধ্যে মহৎ কাজ করতে দ্বিধা করি। কর্তব্য থেকে নিজেদেরকে সযতনে আলাদা করে রাখি। কারণ আমরা সর্বদা অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চিন্তা করি।

 উদ্দীপকের বাদশা বাবর মানুষের সমস্যা স্বচক্ষে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে রাজপথে ছদ্মবেশে হাঁটছিলেন। এমন সময় দেখলেন একটা পাগলা হাতি ছুটে আসছে। মুহূর্তে রাজপথ শূন্য হয়ে গেল। শুধু পড়ে থাকল একটা মেথরের শিশু। বাবর মেথরের শিশু হওয়ায় অবজ্ঞা করলেন না, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মত্তহাতির সামনে থেকে শিশুটির প্রাণ বাঁচালেন। বাদশা বাবর তাঁর কাজে সংশয় ও লোক-লজ্জা ত্যাগ করেছেন। এই দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাথে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।


ঘ. “ ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় যে সমস্যা চি‎িহ্নত করা হয়েছে, উদ্দীপকের বাবরের চরিত্রে তার সমাধান রয়েছে”- এ মন্তব্যটি যথার্থ।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় কবি আমাদের চরিত্রের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। আমরা লোকলজ্জা ও ভয়ে ইচ্ছামতো কাজ করতে পারি না, মনের মধ্যে অনেক সময় অনেক ভালো কিছু উঁকি দেয়। কিন্তু সেসব ভালো কাজ মনেই মিলিয়ে যায়। সংশয় সেসব উন্নত চিন্তার প্রতিফলন ঘটতে দেয় না। তবে বাবরের মতো সংশয় ও শঙ্কামুক্ত, ভয়শূন্য মানসিকতা সকল বাধাকে অতিক্রম করে উন্নত চিন্তার বাস্তব প্রতিফলনে সহায়তা করবে। 

 উদ্দীপকে দেখা যায়, দিল্লির বাদশা বাবর ছদ্মবেশে প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশা ও সমস্যা দেখার জন্য দিল্লির রাস্তায় হাঁটছেন। এসময় হঠাৎ দেখা গেল একটা মত্ত হাতি ছুটে আসছিল। বাঁচার তাগিদে সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেল, শুধু রাস্তায় পড়ে থাকল এক মেথরের শিশু। মেথরের শিশু হওয়ায় কেউ তাকে বাঁচানোর তাগিদ অনুভব করল না। কিন্তু বাদশা বাবর স্থির থাকলেন না, প্রাণ হাতে নিয়ে ছুটে গেলেন মত্তহাতির সামনে। শিশুটিকে নিয়ে ফিরিয়ে দিলেন মায়ের কোলে। এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, বাবরের চরিত্র সংশয় ও শঙ্কামুক্ত। 

 উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায়, ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় যে সমস্যা চি‎িহ্নত হয়েছে, উদ্দীপকের বাবরের চরিত্রে তার সমাধান রয়েছে। পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ


সৃজনজীল প্রশ্ন -৯: নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

বাদশা মিয়া সমাজের ভালো কাজ দেখতে পারে না। কেউ ভালো কাজে হাত দিলে সে বাধা প্রদান করে। সরাসরি বাধা দিতে না পারলে গোপনে গোপনে সেই ব্যক্তির সমালোচনা করে যাতে কাজ করা থেকে সে বিরত থাকে। এভাবে সে সমাজের বহু উদ্যোগী মানুষকে ভালো কাজ করা থেকে বিরত রেখেছে। তাই গ্রামের সবাই ভালো কাজ করার আগে বাদশা মিয়ার কথা স্মরণ করে ভয় পায়।

পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ

ক. কামিনী রায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?  ১

খ. ‘সম্মুখে চরণ নাহি চলে’- কেন?  ২

গ. উদ্দীপকের বাদশা মিয়া ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কার প্রতীক? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ.‘উদ্দীপকের বাদশা মিয়াদের মতো মানুষ সমাজে ভালো কাজের অন্তরায়’।- ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিচার কর। ৪


 ৯নং প্রশ্নের উত্তর  


ক. কামিনী রায় বরিশালের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।


খ. পরের সমালোচনার ভয়ে মন দ্বিধান্বিত হয়ে পড়লে মানুষ সামনে নেতৃত্ব দিতে পারে না। তাই সম্মুখে চরণ চলে না।

 যারা পরের সমালোচনায় ভীত তারা সামনে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। ফলে নিজেদের নীরব লোকচক্ষুর আড়ালে নিয়ে যায়। তাই মনে শুভ কাজের সংকল্প থাকা সত্তে¡ও তারা সংশয়ের কারণে সম্মুখে চরণ ফেলতে পারে না।


গ. উদ্দীপকের বাদশা মিয়া ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার পাছের লোকের অর্থাৎ নিন্দুকের প্রতীক।

 ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় নিন্দুকদের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মানুষ কীভাবে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয় সেই বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। নিন্দুকদের স্বভাব সমস্ত ভালো কাজের সমালোচনা করা, তাদেরকে ভালো কাজ করা থেকে বিরত রাখা।

 উদ্দীপকের বাদশা মিয়া ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার নিন্দুকেরই নামান্তর। বাদশা মিয়া সমাজের ভালো কাজ দেখতে পারে না। কেউ ভালো কাজে হাত দিলে সে বাধা প্রদান করে। সরাসরি না পারলে গোপনে সেই ব্যক্তির সমালোচনা করে। কারণ নিন্দুকেরা সমাজে ভালো কাজ দেখতে পারে না তারা সব কাজে সমালোচনা করে। তাদের কাছে ভালো বলে কোনো কাজ নেই সব কাজই মন্দ। তাদের এই সমালোচনার ভয়ে অনেকেই ভালো কাজে হাত দিতে চায় না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বাদশা মিয়া ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার নিন্দুকের প্রতীক। পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ


ঘ. ‘উদ্দীপকের বাদশা মিয়াদের মতো মানুষ সমাজে ভালো কাজের অন্তরায়’- মন্তব্যটি যথার্থ।

 সমাজে বহু মানুষ আছে যারা ঈর্ষাপরায়ণ এবং অন্যের ভালো দেখতে পারে না। অন্যের ভালোতে তারা ঈর্ষান্বিত হয়, তাই যাতে কারো ভালো না হয় এবং সমাজের মঙ্গল না হয় সেই জন্য তারা সমালোচনায় লিপ্ত হয়। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতায় কবি তাদের কথাই তুলে ধরেছেন। তাদের কাজ সমাজের উন্নয়নকে ব্যাহত করা। উদ্যোগী মানুষের মনোবল বিনষ্ট করে তাদেরকে সংশয়ের দিকে ঠেলে দেয়া। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কবি নিন্দুকশ্রেণির কথা বলেছেন, তারা সমাজ ও দেশের শক্র। কারণ তাদের কারণে সমাজে উন্নয়নমূলক কাজ হয় না। উদ্যোগীরা তাদের সমালোচনায় দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে না।

 উদ্দীপকেও দেখা যায় যে, বাদশা মিয়া সমাজের ভালো কাজ চায় না। তাই সে সমাজের ভালো কাজ করার আগ্রহী মানুষদের সমালোচনা করে। এভাবে সে সমাজের বহু উদ্যোগী মানুষকে ভালো কাজ করা থেকে বিরত রেখেছে।

 উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের বাদশা মিয়াদের মতো মানুষ সমাজে ভালো কাজের অন্তরায়- মন্তব্যটি যথার্থ। পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ

 

সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক


সৃজনজীল প্রশ্ন -১০: শানু গ্রামের একজন উদ্যমী ছেলে। ডিগ্রি পাস করার পর সে ঠিক করল দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করবে। তাই পাড়ার যুবক ছেলেদের সংগঠিত করে সে একটি সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইল। ঠিক হলো সমিতির আয়ের একটি অংশ তারা গ্রামের দরিদ্র ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, দুস্থদের সেবা ও রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যয় করবে। কিন্তু সমিতি প্রতিষ্ঠার সংবাদে গ্রামের এক শ্রেণির মানুষ নানারকম সমালোচনা করতে থাকে। কিন্তু সমালোচনার তোয়াক্কা না করে তারা সমিতি প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে সমিতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে সফল হয়ে শানু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সমালোচনাকে উপেক্ষা করে শ্রম আর প্রচেষ্টা থাকলে সবই সম্ভব। 


ক. কবি কীসের ছলে চলে যান?  ১

খ. ‘মহৎ উদ্দেশ্যে যবে একসাথে মিলে সবে পারি না মিলিতে সেই দলে।’ কে এবং কেন সেই দলে মিশতে পারে না- ব্যাখ্যা কর। ২

গ. উদ্দীপকের শানু ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কার বিপরীত? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. উদ্দীপকটি ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কবির ইচ্ছারই প্রতিফলন- বিশ্লেষণ কর। ৪

পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ

সৃজনজীল প্রশ্ন -১১:

 র. বিধাতা দিছেন প্রাণ

  থাকি সদা ম্রিয়মাণ

  শক্তি মরে ভীতির কবলে

  পাছে লোকে কিছু বলে

 রর. বিশ্ব মাঝে এমন দয়াল মিলবে কোথা আর?

  নিন্দুক সে বেঁচে থাকুক বিশ্বহিতের তরে,

  আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে।

পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ

ক. ‘সংশয়’ শব্দটির অর্থ কী?  ১

খ. ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে কোন ধরনের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে? ২

গ. উদ্দীপকের দুটি স্তবকের অমিল কোথায়? নিরূপণ কর।  ৩

ঘ. ‘একই ব্যক্তির ভিন্নরূপ প্রতিফলিত হয়েছে উদ্দীপকের দুটি স্তবকে’- বিশ্লেষণ কর। ৪ পাছে লোকে কিছু বলে পদ্যাংশ


সৃজনজীল প্রশ্ন -১২: বেগম রোকেয়া বাঙালি নারীশিক্ষার অগ্রদূত। সমাজের মানুষের কাছ থেকে নানা ধরনের নিন্দা সহ্য করে তিনি নারীশিক্ষার প্রসার করতে চেয়েছেন। তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের স্বরূপ উন্মোচন করতেও তিনি দ্বিধাবোধ করেনি। সমস্ত লোকলজ্জা, কুৎসা প্রভৃতি উপেক্ষা করেছেন বলেই আজ তিনি নারী সমাজের আদর্শ।

ক. কখন আমরা আঁখি সযতনে শুষ্ক রাখি?  ১

খ. কবি ভয়ভীতি ও সংকোচকে উপেক্ষা করতে বলেছেন কেন?  ২

গ. উদ্দীপকের বক্তব্য ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতার কোন বিষয়কে সমর্থন করে? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. বেগম রোকেয়ার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কবিতা অনুসারে আলোচনা কর। ৪

পাছে লোকে কিছু বলে কবিতার সারাংশ, পাছে লোকে কিছু বলে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন, পাছে লোকে কিছু বলে সৃজনশীল প্রশ্ন, পাছে লোকে কিছু বলে in english, পাছে লোকে কিছু বলে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

নতুন নতুন সাজেশান্স ও নোট পেতে আমাদের Facebook Page এ Like দিয়ে রাখবেন। এছাড়াও  চ্যানেলে এড হতে পারেন সবার আগে আপডেট পেতে।


🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : অতিথির স্মৃতি

🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : পড়ে পাওয়া

🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : তৈলচিত্রেরভূত

🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : এবারের সংগ্রামস্বাধীনতার সংগ্রাম

🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : আমাদের লোকশিল্প

🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : সুখী মানুষ

🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : বাংলা নববর্ষ

🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : মংডুর পথে

🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : বাংলা ভাষার জন্মকথা

🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : ভাব ও কাজ

🕮 🕮  সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরপত্র : দুই বিঘা জমি


Post a Comment

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.