
এক নজরে আমাদের নতুন গৌরবগাথা পরীক্ষার প্রস্তুতি ২০২৬-২০২৭: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক ২০২৬ ও ২০২৭ সালের এসএসসি ও দাখিল বাংলা ১ম পত্রের পরিমার্জিত পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত অন্যতম বহুল আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ হলো 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা'। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং শহীদ আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধসহ বীরদের আত্মত্যাগের পটভূমিতে রচিত এই অধ্যায়টি আসন্ন বোর্ড পরীক্ষার গদ্যাংশ বিভাগে সৃজনশীল (CQ) ও বহুনির্বাচনি (MCQ) প্রশ্নের জন্য শতভাগ নিশ্চিত কমনযোগ্য। এই বিশেষ গাইডে অধ্যায়টির মূলভাব, প্রামাণ্য উদ্দীপকসহ ক, খ, গ, ঘ স্তরের পূর্ণাঙ্গ সৃজনশীল সমাধান, অনুধাবনমূলক প্রশ্নব্যাংক এবং ১৫টি শীর্ষ বহুনির্বাচনি প্রশ্ন সন্নিবেশিত হলো।
১. অধ্যায়ের মূলভাব ও ঐতিহাসিক পটভূমি সংক্ষেপ
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' কেবল একটি সাহিত্যিক রচনা নয়; এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আত্মমর্যাদা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নতুন এক অধ্যায়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কারের অহিংস আন্দোলন যখন রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্মম দমনপীড়নের মুখে পড়ে, তখন তা রূপ নেয় স্বৈরাচারবিরোধী সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে।
| মূল স্তম্ভ | ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট | পরীক্ষায় গুরুত্ব |
|---|---|---|
| শহীদ আবু সাঈদ | ১৬ জুলাই ২০২৪ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়ে দুহাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিয়ে বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা। | সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপকে নিঃশঙ্ক বীরত্ব ও ত্যাগের প্রতীক হিসেবে সর্বাধিক ব্যবহৃত। |
| শহীদ মীর মুগ্ধ | ১৮ জুলাই উত্তরায় পুলিশের টিয়ারশেল ও গুলির মুখে তৃষ্ণার্ত সহযোদ্ধাদের পানি বিলাতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া। | অনুধাবনমূলক ও প্রয়োগমূলক প্রশ্নে মানবিক ভ্রাতৃত্বের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। |
| দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি | তরুণ শিক্ষার্থীদের আঁকা কার্টুন, প্রতিবাদী ক্যালিগ্রাফি এবং সাহসী স্লোগানের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ। | উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নে প্রতিবাদের নান্দনিক মাধ্যম হিসেবে বিশ্লেষণ। |
| ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) | স্বৈরাচারের পলায়ন ও ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিজয়কে আন্দোলনকারীরা ক্যালেন্ডারের নিয়মে না বেঁধে '৩৬ জুলাই' আখ্যা দেয়। | জ্ঞানমূলক ও বহুনির্বাচনি প্রশ্নের অন্যতম প্রধান হট-টপিক। |
সংযুক্ত সহায়ক রিসোর্স: বাংলা ১ম পত্রের সম্পূর্ণ ১০০ নম্বরের মানবণ্টন জানতে আমাদের মূল স্তম্ভ পোস্ট SSC & Dakhil Bangla 1st Paper Final Suggestion 2026-2027 পড়ুন। এছাড়াও গদ্যাংশের অন্যান্য বোর্ড প্রশ্ন দেখতে SSC বাংলা ১ম পত্র গদ্যাংশ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ফলো করুন।
২. মডেল সৃজনশীল প্রশ্ন ০১ (আবু সাঈদ ও তারুণ্যের আত্মত্যাগ)
মডেল উদ্দীপক:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এক দল পাকহানাদার বাহিনী একটি প্রত্যন্ত গ্রামে হামলা চালালে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা শফিক সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে নিজে একাই বাংকারে অবস্থান নেন। গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বুক চিতিয়ে লড়াই করেন এবং শেষ পর্যন্ত ঘাতকের গুলিতে শহীদ হন। মৃত্যুর মুখেও তার মুখে ছিল বিজয়ের নিঃশঙ্ক হাসি। শফিকের এই নির্ভীক আত্মত্যাগ পরবর্তীতে সমগ্র অঞ্চলের যুবসমাজকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
সৃজনশীল প্রশ্নাবলি ও পূর্ণাঙ্গ আদর্শ উত্তর:
- (ক) শহীদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন? (মান - ১)
উত্তর: শহীদ আবু সাঈদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। - (খ) "পানি লাগবে কারো, পানি?"—উক্তিটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। (মান - ২)
উত্তর: তীব্র সংঘাতের মুখে নিজের জীবনের মায়াকে তুচ্ছ করে সহযোদ্ধাদের পিপাসা মেটানোর গভীর মানবিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও আত্মত্যাগের প্রকাশ ঘটেছে এই উক্তিতে।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরায় যখন চতুর্দিকে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও তাজা গুলির বৃষ্টি হচ্ছিল, তখন তরুণ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ভীতসন্ত্রস্ত না হয়ে তৃষ্ণার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে এক হাতে পানির বোতল ও অন্য হাতে বিস্কুট বিতরণ করছিলেন। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত উচ্চারিত তার এই কোমল আহ্বানটি প্রমাণ করে যে, জুলাই অভ্যুত্থান কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল পারস্পরিক নিঃস্বার্থ মমতা ও ভালোবাসার এক অমর দৃষ্টান্ত। - (গ) উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধা শফিকের আত্মত্যাগে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের কোন বীর শহীদের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। (মান - ৩)
উত্তর: উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধা শফিকের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে বর্ণিত শহীদ আবু সাঈদের নিঃশঙ্ক শাহাদাতের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে দেখা যায়, ১৬ জুলাই রংপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যখন নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও গুলি শুরু করে, তখন আবু সাঈদ পালিয়ে না গিয়ে একাকী বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। তার দুই হাত প্রসারিত করে বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সেই অবিস্মরণীয় দৃশ্য সমগ্র জাতিকে স্তব্ধ ও একইসাথে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তার এই রক্তদান আন্দোলনকে এক অভূতপূর্ব গণবিস্ফোরণে রূপ দেয়।
উদ্দীপকের মুক্তিযোদ্ধা শফিকও সহযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের জীবন তুচ্ছ করে ঘাতকের মুখোমুখি হয়েছিলেন। দুজনের মধ্যেই আত্মস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য ও ন্যায়ের জন্য বুক পেতে দেওয়ার অভিন্ন চেতনা কাজ করেছে। তাই বলা যায়, শফিকের আত্মদানের মধ্যে আবু সাঈদের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের দিকটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। - (ঘ) "শফিকের আত্মত্যাগ যেমন ৭১-কে ত্বরান্বিত করেছিল, তেমনি আবু সাঈদের রক্তদানও ২৪-এর নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে"—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো। (মান - ৪)
উত্তর: মন্তব্যটি যথার্থ ও সর্বাংশে সত্য; কারণ উভয় শহীদের রক্তই পরাধীনতা ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের অপ্রতিরোধ্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একবিন্দু রক্তও বৃথা যায়নি। শফিকের মতো হাজারো তরুণের আত্মদান সাধারণ জনগণকে দেশমাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে একতাবদ্ধ করেছিল, যার চূড়ান্ত ফসল ছিল লাল-সবুজের স্বাধীন বাংলাদেশ।
অনুরূপভাবে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আবু সাঈদের শাহাদাত তৎকালীন স্বৈরাচারী শক্তির মসনদ নাড়িয়ে দেয়। একটি নিরস্ত্র ছেলের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নির্মম গুলির দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, অভিভাবক নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসে। এর ফলেই স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার নতুন স্বপ্নের দ্বার উন্মোচিত হয়।
সুতরাং, শফিক যেমন একাত্তরের মুক্তির দূত, তেমনি আবু সাঈদ চব্বিশের দ্বিতীয় স্বাধীনতার রূপকার। অতএব, উক্তিটি বস্তুনিষ্ঠ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
৩. মডেল সৃজনশীল প্রশ্ন ০২ (গ্রাফিতি, স্লোগান ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ)
মডেল উদ্দীপক:
একটি অনগ্রসর জনপদে জমিদারের অন্যায়ের প্রতিবাদে গ্রামের যুবক রমিজ লাঠি বা বন্দুকের বদলে বেছে নেয় রঙ-তুলি। সে রাতের আঁধারে গ্রামের হাটবাজারের দেওয়ালে জমিদারের শোষণের চিত্র এবং কৃষকদের অধিকারের কবিতা লিখে রাখে। প্রথমে জমিদার একে অবজ্ঞা করলেও ধীরে ধীরে এই দেওয়াল লিখনগুলো নির্যাতিত মানুষের মনে সাহসের সঞ্চার করে। অবশেষে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে জমিদারের জুলুমের অবসান ঘটায়।
সৃজনশীল প্রশ্নাবলি ও উত্তর:
- (ক) আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্টকে কোন তারিখ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল? (মান - ১)
উত্তর: আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্টকে রূপকার্থে '৩৬ জুলাই' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। - (খ) আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা কেন দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতিকে হাতিয়ার করেছিল? (মান - ২)
উত্তর: রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ, ইন্টারনেট বন্ধ এবং গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে সত্য ও প্রতিবাদের বার্তা পৌঁছে দিতে গ্রাফিতিকে হাতিয়ার করা হয়েছিল।
জুলাই মাসে স্বৈরাচারী সরকার যখন ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল, তখন শিক্ষার্থীরা শহরের অলিগলির দেওয়ালে দেওয়ালে রক্তরাঙা অক্ষরে সত্য ফুটিয়ে তোলে। এই দেওয়াল লিখনগুলো ভয় দূর করে মানুষের বিবেককে নাড়া দিতে এবং প্রতিরোধের চেতনাকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে অনন্য ভূমিকা রাখে। - (গ) উদ্দীপকের রমিজের কাজের সাথে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি বর্ণনা করো। (মান - ৩)
উত্তর: উদ্দীপকের রমিজের রঙ-তুলির মাধ্যমে প্রতিবাদ গড়ে তোলার দিকটির সাথে 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে বর্ণিত শিক্ষার্থীদের গ্রাফিতি ও দেওয়াল লিখনের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
প্রবন্ধে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা দেওয়ালগুলোকে বানিয়েছিল প্রতিবাদের ক্যানভাস। 'কারার ঐ লৌহকপাট', 'বুকের ভেতর দারুণ ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর', 'পানি লাগবে কারো?'—ইত্যাদি স্লোগানে ঢাকার দেওয়ালগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শিল্প ও শব্দের মাধ্যমে এই শৈল্পিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল।
উদ্দীপকের রমিজও জমিদারের বিরুদ্ধে সরাসরি অস্ত্রের লড়াইয়ে না গিয়ে দেওয়াল লিখন ও কবিতার মাধ্যমে জনমত গঠন করেছে। দুজনের কৌশলই অহিংস অথচ পরাক্রমশালী সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের প্রতীক। তাই রমিজের উদ্যোগ ও শিক্ষার্থীদের গ্রাফিতি একই প্রতিবাদের সূত্রে গাঁথা। - (ঘ) "অস্ত্রের চেয়ে শব্দের ও শিল্পের শক্তি অনেক বেশি অপরাজেয়"—প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির সত্যতা বিচার করো। (মান - ৪)
উত্তর: উক্তিটি যথার্থ; কারণ অস্ত্র দিয়ে কেবল দেহকে দমন করা যায়, কিন্তু শিল্পের মাধ্যমে প্রজ্বলিত গণচেতনাকে কখনো স্তব্ধ করা যায় না।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবীর কোনো অত্যাচারী শাসক অস্ত্রের শক্তিতে চিরদিন টিকে থাকতে পারেনি। 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে দেখা যায়, সরকার কারফিউ জারি করে, সাঁজোয়া যান নামিয়ে এবং বুলেট ছুড়েও জনতার জাগরণ থামাতে পারেনি। কারণ শিক্ষার্থীদের রক্তে ভেজা স্লোগান আর দেওয়াল লিখন মানুষের আত্মায় সাহসের আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনীকে পরোয়া না করে রমিজের দেওয়াল লিখন পুরো জনপদকে জাগিয়ে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত রঙ-তুলির অহিংস শক্তির কাছেই জুলুমের পতন ঘটেছে।
অতএব, বন্দুকের গুলির চেয়ে মুক্তচিন্তার অক্ষর ও আঁকা ছবি অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী ও বিজয়ী। এই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি নিঃসন্দেহে সত্য।
৪. শীর্ষ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর ব্যাংক (খ-বিভাগ নিশ্চিত প্রস্তুতি)
- ১. "আমরা হারব না, আমাদের হারানো যাবে না"—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ তারুণ্যের অদম্য মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বোঝাতে এই উক্তিটি করা হয়েছে। যখন কোনো জাতি মৃত্যুকে তুচ্ছ করে রাজপথে নামে, তখন কোনো সামরিক বা রাষ্ট্রীয় শক্তি তাদের পদানত করতে পারে না। জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অকুতোভয় চেতনা এই অপরাজেয় সত্যকে প্রমাণ করেছে। - ২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা' বা 'নতুন গৌরবগাথা' বলা হয়েছে?
উত্তর: ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদ, স্বজনপ্রীতি ও ভোটাধিকার হরণের কারণে জাতি পুনরায় বন্দিত্বে নিমজ্জিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের গণজাগরণ দেশকে সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তি স্থাপন করেছে বলেই একে নতুন গৌরবগাথা বলা হয়েছে। - ৩. 'কারার ঐ লৌহকপাট' গানটি কীভাবে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের এই অমর বিপ্লবী গানটি রাজপথে স্লোগানের পাশাপাশি সমস্বরে গেয়ে শিক্ষার্থীরা ভয় ও শঙ্কাকে জয় করেছিল। গানটি আন্দোলনকারীদের রক্তের গতি বাড়িয়ে স্বৈরাচারের কারাগার ও আইনকে ভেঙে ফেলার অফুরন্ত প্রেরণা জুগিয়েছিল।
৫. ১৫টি নিশ্চিত কমন বহুনির্বাচনি (MCQ) প্রশ্ন ও সমাধান
| নং | প্রশ্ন | সঠিক উত্তর |
|---|---|---|
| ০১ | 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে কোন শতাব্দীর গণজাগরণের কথা বলা হয়েছে? | একবিংশ শতাব্দীর (২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ) |
| ০২ | রংপুরে বুক পেতে দিয়ে শহীদ হওয়া বীর তরুণের নাম কী? | আবু সাঈদ |
| ০৩ | শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন? | বিইউপি (BUP - বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস) |
| ০৪ | আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্টের বিজয়কে রূপকার্থে কী নাম দিয়েছিলেন? | ৩৬ জুলাই |
| ০৫ | শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের তারিখ কোনটি? | ১৬ জুলাই ২০২৪ |
| ০৬ | 'পানি লাগবে কারো, পানি?'—এটি কার অমর উক্তি? | শহীদ মুগ্ধ |
| ০৭ | শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট বন্ধের প্রতিবাদে কীসের মাধ্যমে বিপ্লবের বার্তা ছড়িয়েছিল? | গ্রাফিতি ও দেওয়াল লিখন |
| ০৮ | জুলাই আন্দোলনের প্রধান স্লোগানের মূল দাবি কী ছিল? | মেধাবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কোটা বৈষম্য বিলোপ |
| ০৯ | আন্দোলনে কাজী নজরুল ইসলামের কোন গানটি সর্বাধিক অনুপ্রেরণা দিয়েছিল? | কারার ঐ লৌহকপাট |
| ১০ | গণঅভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশের মানুষ কোন নতুন বোধে জাগ্রত হয়েছে? | ন্যায্যতা, সাম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার |
| ১১ | 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' রচনার মূল সুর কোনটি? | তারুণ্যের শক্তি ও দেশপ্রেম |
| ১২ | মুগ্ধর কাঁধে ঝোলানো ব্যাগে কী ছিল? | পানির বোতল ও বিস্কুট |
| ১৩ | আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের দেওয়ালে আঁকা চোখ ধাঁধানো ছবিগুলোকে কী বলা হয়? | গ্রাফিতি (Graffiti) |
| ১৪ | আবু সাঈদের অকুতোভয় দাঁড়ানোর ভঙ্গি জাতির কাছে কীসের প্রতীক হয়ে উঠেছে? | প্রতিবাদের মূর্ত প্রতীক |
| ১৫ | জুলাই আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় কত তারিখে? | ৫ আগস্ট ২০২৪ (৩৬ জুলাই) |
৬. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' থেকে কি ২০২৬ ও ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন আসবে?
উত্তর: হ্যাঁ, শতভাগ নিশ্চিত। এনসিটিবি কর্তৃক ২০২৬-২০২৭ নতুন সিলেবাসের বাংলা ১ম পত্রে এটি অন্তর্ভুক্ত থাকায় গদ্যাংশ বিভাগে সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি উভয় অংশেই এই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন থাকা বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন ২: এই অধ্যায়ের সৃজনশীলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিক কোনগুলো?
উত্তর: শহীদ আবু সাঈদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ, শহীদ মীর মুগ্ধর মানবিক ভ্রাতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতির সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ—এই তিনটি ক্ষেত্র সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ৩: অনুধাবনমূলক প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার উপায় কী?
উত্তর: উক্তিটির প্রেক্ষাপট ১ম প্যারায় ১ বাক্যে লিখবেন এবং ২য় প্যারায় জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ত্যাগের সাথে মিলিয়ে ২-৩ লাইনে ব্যাখ্যা করবেন।