
এক নজরে বাংলা ১ম পত্র গদ্যাংশ সৃজনশীল প্রস্তুতি ২০২৬-২০২৭: (SSC Bangla 1st Paper Prose Part 1 Creative Questions & Answers 2027) এসএসসি ও দাখিল বাংলা ১ম পত্রের সর্বশেষ ১০০ নম্বরের মানবণ্টন অনুযায়ী খ-বিভাগে গদ্যাংশ থেকে ৪টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকে, যেখান থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ন্যূনতম ২টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় (মান: ১০ × ২ = ২০ নম্বর)। আল ফাতাহ দাখিল ও এসএসসি ২০২৭ প্রশ্নপত্র সাজেশন বইয়ের আলোকে গদ্যাংশের প্রথম ভাগের সর্বাধিক কমন উপযোগী ৪টি মাস্টার অধ্যায় হলো ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'প্রত্যুপকার', রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সুভা', প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' এবং রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের 'নিরীহ বাঙালি'। এই বিশেষ নির্দেশিকায় প্রতিটি অধ্যায়ের প্রামাণ্য উদ্দীপক, (ক) জ্ঞানমূলক, (খ) অনুধাবনমূলক, (গ) প্রয়োগমূলক এবং (ঘ) উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের শতভাগ আদর্শ ও শিক্ষক-স্বীকৃত সমাধান সংযোজন করা হলো।
১. গদ্যাংশ সৃজনশীল প্রশ্নের গঠন ও ২০ এ ২০ পাওয়ার কৌশল
বোর্ড পরীক্ষায় গদ্যাংশের সৃজনশীলে কাঙ্ক্ষিত নম্বর নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি স্তরের সুনির্দিষ্ট প্যারার নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো:
| প্রশ্নের স্তর | মান | প্যারাগ্রাফ বিন্যাস | বোর্ড নির্দেশিত লেখার নিয়ম |
|---|---|---|---|
| (ক) জ্ঞানমূলক প্রশ্ন | ১ নম্বর | ১টি বাক্য | সরাসরি মূল তথ্য ১টি পূর্ণ বাক্যে নির্ভুল বানানে লিখতে হবে। |
| (খ) অনুধাবনমূলক প্রশ্ন | ২ নম্বর | ২টি প্যারা | ১ম প্যারায় মূল প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এবং ২য় প্যারায় পাঠ্যবইয়ের আলোকে তাৎপর্য ব্যাখ্যা। |
| (গ) প্রয়োগমূলক প্রশ্ন | ৩ নম্বর | ৩টি প্যারা | ১ম প্যারায় মূল সাদৃশ্য/বৈসাদৃশ্য, ২য় প্যারায় মূল পাঠের বিষয়বস্তু এবং ৩য় প্যারায় উদ্দীপকের সাথে তুলনামূলক সমন্বয়। |
| (ঘ) উচ্চতর দক্ষতা | ৪ নম্বর | ৪টি প্যারা | ১ম প্যারায় সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত, ২য় প্যারায় পাঠ্যবইয়ের বিস্তৃত বিশ্লেষণ, ৩য় প্যারায় উদ্দীপকের যৌক্তিকতা ও ৪র্থ প্যারায় সমাপনী মূল্যায়ন। |
হেল্পট্রিকবিডি বিশেষ শিক্ষামূলক রিসোর্স লিংক:
• সম্পূর্ণ ১০০ নম্বরের মাস্টার গাইড: SSC & Dakhil Bangla 1st Paper Final Suggestion 2026-2027
• নতুন কারিকুলামের জুলাই গণঅভ্যুত্থান গাইড: আমাদের নতুন গৌরবগাথা সৃজনশীল ও MCQ গাইড
• কবিতাংশের সৃজনশীল ও ভাবার্থ সমাধান: SSC বাংলা ১ম পত্র কবিতাংশ সৃজনশীল গাইড
• ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনি ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নব্যাংক: SSC বাংলা ১ম পত্র MCQ ও SAQ প্রশ্নব্যাংক
• ইংরেজি ১ম পত্রের পূর্ণাঙ্গ সাজেশন: SSC English 1st Paper Final Suggestion 2027
• ইংরেজি ২য় পত্রের পূর্ণাঙ্গ সাজেশন: SSC English 2nd Paper Grammar & Writing Suggestion
• পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশিকা: এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নিয়মাবলি ও নির্দেশিকা
• চাকরি ও বিসিএস প্রস্তুতি কৌশল: বিসিএস প্রিলিমিনারি ২০০ নম্বরের মানবণ্টন ও বুক লিস্ট
২. প্রত্যুপকার — সৃজনশীল প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ মডেল উত্তর (Prottupokar CQ Solution 2027)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'আখ্যানমঞ্জরী' গ্রন্থের অন্তর্গত 'প্রত্যুপকার' ঐতিহাসিক সত্য ও নীতিশিক্ষার এক অনুপম নিদর্শন। খলিফা মামুন, আলী ইবনে আব্বাস এবং দামেস্কের বন্দি ব্যক্তির মধ্যকার কৃতজ্ঞতাবোধ এই গল্পের মূল বিষয়।
মডেল উদ্দীপক:
গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বর জব্বার শিকদারের রাজনৈতিক শত্রুরা তার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলে তিনি নিঃস্ব হয়ে রাতের আঁধারে পাশের গ্রামে পালিয়ে যান। সেখানে আকবর নামের এক সাধারণ কৃষক তাকে নিজের ঘরে আশ্রয় দেন এবং দীর্ঘদিন সেবাযত্ন করে নিরাপদে রাখেন। কয়েক বছর পর ক্ষমতার পরিবর্তন হলে আকবর একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জব্বার শিকদারের আদালতে বন্দি হিসেবে হাজির হন। জব্বার শিকদার তাকে চিনতে পেরে নিজের চেয়ার ছেড়ে নেমে আসেন এবং আকবরের পূর্বের নিঃস্বার্থ উপকারের কথা স্মরণ করে তাকে সসম্মানে মুক্তি ও পুরস্কার প্রদান করেন।
সৃজনশীল প্রশ্নাবলি ও আদর্শ সমাধান:
- (ক) খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র কে ছিলেন? (মান - ১)
উত্তর: খলিফা মামুনের অতিশয় প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস। - (খ) "তিনি আকার, প্রকার ও দর্শনে তাহা বুঝিতে পারিলেন"—উক্তিটির তাৎপর্য কী? (মান - ২)
উত্তর: বন্দি ব্যক্তির চেহারা ও শারীরিক লক্ষণ দেখেই আলী ইবনে আব্বাস বুঝতে পেরেছিলেন যে লোকটি কোনো সাধারণ অপরাধী নয়, বরং এক সম্ভ্রান্ত ও ভদ্র বংশীয় পুরুষ।
খলিফা মামুন যখন এক ব্যক্তিকে বন্দি করে আলী ইবনে আব্বাসের জিম্মায় দেন, তখন আলী ইবনে আব্বাস লোকটির চেহারা, শারীরিক গঠন ও মার্জিত আচার-আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তার দৃষ্টি ও ভদ্র অভিব্যক্তি প্রমাণ করেছিল যে তিনি নীচ প্রকৃতির চোর বা ডাকাত নন, বরং কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার। এই সত্যটি প্রকাশ করতেই আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে। - (গ) উদ্দীপকের জব্বার শিকদারের আচরণে 'প্রত্যুপকার' গল্পের কোন ঐতিহাসিক চরিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো। (মান - ৩)
উত্তর: উদ্দীপকের জব্বার শিকদারের আচরণে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতাবোধ ও খলিফা মামুনের ন্যায়পরায়ণতার দিকটি মূর্ত হয়ে উঠেছে।
'প্রত্যুপকার' গল্পে দেখা যায়, দামেস্কের শাসনকর্তা যখন আলী ইবনে আব্বাসকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন এক অপরিচিত ব্যক্তি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে এক মাস নিজের ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন এবং পথখরচ দিয়ে নিরাপদে পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই আশ্রয়দাতা যখন খলিফার দরবারে বন্দি হন, তখন আলী ইবনে আব্বাস নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে খলিফার ক্রোধের মুখে দাঁড়িয়ে সেই ঋণ শোধ করার উদ্যোগ নেন।
উদ্দীপকের জব্বার শিকদারও বিপদের দিনে আকবরের নিঃস্বার্থ আশ্রয়ের কথা ভুলে যাননি। ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেও তিনি উপকারের প্রতিদান দিয়ে আকবরকে সসম্মানে মুক্তি দিয়েছেন। সুতরাং উপকারের বিনিময়ে উপকার করার যে নৈতিক শিক্ষা, জব্বার শিকদারের সিদ্ধান্তে ঠিক সেই প্রত্যুপকারের প্রতিফলন ঘটেছে। - (ঘ) "উপকার করা সহজ, কিন্তু চরম বিপদের মুখে উপকারের প্রতিদান দেওয়া মহত্ত্বের সর্বোচ্চ পরীক্ষা"—গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো। (মান - ৪)
উত্তর: মন্তব্যটি শতভাগ যথার্থ; কারণ মানুষ যখন অনুকূল পরিবেশে থাকে তখন উপকার করা সহজ হলেও নিজের জীবন বা স্বার্থের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যুপকার করাই প্রকৃত মনুষ্যত্বের পরিচায়ক।
'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা যখন বন্দি হন, তখন খলিফা মামুন তার ওপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ছিলেন। খলিফার রোষানলে পড়া যেকোনো ব্যক্তির পক্ষ নেওয়া নিজের নিশ্চিত মৃত্যুকে ডেকে আনার শামিল ছিল। তবুও আলী ইবনে আব্বাস বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে খলিফাকে বলেছিলেন, 'ইনি অপরাধী নন, ইনি আমার জীবনদাতা।' এমনকি প্রয়োজনে বন্দির পরিবর্তে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার প্রস্তাব দেন। এই পরম আত্মত্যাগ খলিফার মতো কঠোর শাসককেও মুগ্ধ ও মানবিক করে তোলে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, জব্বার শিকদার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আকবরের প্রতিদান দিয়ে প্রকৃত সুবিচার নিশ্চিত করেছেন। উভয়েই দেখিয়েছেন যে, ক্ষমতার দম্ভের চেয়ে কৃতজ্ঞতাবোধ অনেক বড়।
অতএব, নিঃস্বার্থ প্রত্যুপকার কেবল ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করে না, তা সমাজের পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্বকে চিরস্থায়ী রূপ দেয়। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রত্যুপকার অধ্যায়ের শীর্ষ জ্ঞান ও অনুধাবন প্রশ্নাবলি:
- ১. জ্ঞানমূলক: আলী ইবনে আব্বাস আশ্রয়দাতার বাড়িতে কতদিন অবস্থান করেছিলেন? (উত্তর: এক মাস); 'প্রত্যুপকার' শব্দের অর্থ কী? (উত্তর: উপকারের বিনিময়ে উপকার করা); খলিফা মামুন বন্দি ব্যক্তিকে কার জিম্মায় দিয়েছিলেন? (উত্তর: আলী ইবনে আব্বাসের জিম্মায়)।
- ২. অনুধাবনমূলক: 'ধৃত ব্যক্তির দয়া ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় পেয়ে খলিফা অতিশয় আহ্লাদিত হলেন কেন?' (উত্তর: খলিফা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে শত্রুতাবশত নীচ লোকের মিথ্যে অপবাদে এক মহানুভব ব্যক্তিকে বন্দি করা হয়েছিল। সত্য প্রকাশ পাওয়ায় তিনি আনন্দিত হয়ে তাকে ক্ষমা করেন।)
৩. সুভা — সৃজনশীল প্রশ্ন ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ (Shuva Story Creative Question & Answer)
মডেল উদ্দীপক:
হাসান সাহেবের দুই মেয়ের পর একটি ছেলে হলে তার নাম রাখেন যুবরাজ। মেয়েরা পড়ালেখায় খুবই ভালো হলেও যুবরাজ কোনো কিছুই মনে রাখতে পারে না এবং কোনো কিছুই গুছিয়ে বলতে পারে না। দিনদিন সে যত বড় হচ্ছে হাসান সাহেবের দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। একদিন তার এক বন্ধু রফিক হাসানকে পরামর্শ দিয়ে বললেন, 'ছেলেটিকে ঘরে অবহেলা করে আটকে রেখো না। শহরের বিশেষায়িত স্কুলে প্রশিক্ষণ দিলে সেও একদিন স্বাবলম্বী হবে।'
সৃজনশীল প্রশ্নাবলি ও উত্তর:
- (ক) প্রতাপ সুভাকে কী বলে ডাকত? (মান - ১)
উত্তর: প্রতাপ সুভাকে আদর করে 'সু' বলে ডাকত। - (খ) "আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি"—সুভার এমন ভাবনার কারণ কী? (মান - ২)
উত্তর: বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সমাজ ও পরিবারের অবহেলা এবং করুণামিশ্রিত হতাশাদৃষ্টির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই সুভা এমনটি ভেবেছিল।
সুভার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন এবং বাবা বাণীকণ্ঠ তাকে স্নেহ করলেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সর্বদা গভীর দুঃখে থাকতেন। সমাজের এই নীরব প্রত্যাখ্যান সুভার সংবেদনশীল মনকে প্রতিনিয়ত ব্যথিত করত। তাই সে চেয়েছিল সবাই যেন তাকে ভুলে যায়, যাতে তাকে আর কারো অপমানের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতে না হয়। - (গ) উদ্দীপকের যুবরাজের সমস্যার সাথে 'সুভা' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো। (মান - ৩)
উত্তর: উদ্দীপকের যুবরাজের সাথে 'সুভা' গল্পের সুভার শারীরিক ও মানসিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে অক্ষম ছিল। মুখের ভাষার অভাবে সে বোবা প্রকৃতির সাথে এবং গোয়ালের সর্বশী ও পাঙ্গুলি গাভীর সাথে আত্মিক বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। পরিবারের দৃষ্টিতে সে ছিল এক নীরব ভারস্বরূপ। উদ্দীপকের যুবরাজও স্বাভাবিক শিশুদের মতো দ্রুত কথা গুছিয়ে বলতে ও মনে রাখতে পারে না। ফলে উভয়ের মাঝেই প্রতিবন্ধকতার কারণে পরিবারের হতাশার কারণ হওয়ার দিকটি স্পষ্টভাবে মিলে যায়। - (ঘ) "রফিক সাহেবের মানসিকতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুভাকেন্দ্রিক আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটেছে"—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। (মান - ৪)
উত্তর: উক্তিটি যথার্থ; কারণ প্রতিবন্ধী শিশুকে বোঝা না ভেবে আধুনিক মানবিক প্রশিক্ষণে স্বাবলম্বী করে তোলার যে আহ্বান, তা রফিক সাহেবের চিন্তায় প্রকাশ পেয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'সুভা' গল্পে তৎকালীন সমাজের নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরে দেখিয়েছেন কীভাবে একটি নিষ্পাপ বাক্প্রতিবন্ধী মেয়েকে বোঝা মনে করে গোপনে বিয়ে দিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল। লেখক সমাজের এই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চেয়েছিলেন। উদ্দীপকে রফিক সাহেব যুবরাজকে অবহেলা না করে আধুনিক স্পেশাল স্কুলে পাঠানোর যৌক্তিক পরামর্শ দিয়েছেন। তাই রফিক সাহেবের উদ্যোগ রবীন্দ্রনাথের মানবিক স্বপ্নেরই প্রতিফলন।
৪. বই পড়া — প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ ও সৃজনশীল গাইড (Boi Pora Essay CQ Suggestion)
মডেল উদ্দীপক:
অধ্যাপক আজহার সাহেব প্রতিদিন বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত পাঠাগার থেকে তরুণদের মুক্তচিন্তার বই উপহার দেন। তবে অভিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, 'ক্লাসের পড়া ফাঁকি দিয়ে এসব রূপকথা ও কবিতার বই পড়লে পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ হবে।' আজহার সাহেব বলেন, 'পরীক্ষায় এ-প্লাস পাওয়ার চেয়েও একজন ভালো মানুষ হওয়া জরুরি। স্কুলের বই পরীক্ষায় পাস করায়, আর লাইব্রেরির বই আত্মাকে জাগ্রত করে।'
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর:
- (ক) প্রমথ চৌধুরীর মতে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ কোনটি? (মান - ১)
উত্তর: প্রমথ চৌধুরীর মতে শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ হলো সাহিত্যচর্চা। - (খ) "সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত"—ব্যাখ্যা করো। (মান - ২)
উত্তর: নিজের আত্মচেষ্টা, কৌতূহল ও উপলব্ধির মধ্য দিয়ে অর্জিত জ্ঞানই মানুষকে প্রকৃত শিক্ষিত করে তোলে বিধায় লেখক এই উক্তিটি করেছেন। শিক্ষক কেবল জ্ঞানের পথ দেখাতে পারেন, কিন্তু শিক্ষার্থীকে নিজের ইচ্ছাতেই জ্ঞান আহরণ করতে হয়। - (গ ও ঘ) মূল বিশ্লেষণ: পাঠ্যবইয়ের মুখস্থ শিক্ষার জাঁতাকল আত্মাকে বিকলাঙ্গ করে। পক্ষান্তরে লাইব্রেরিতে মানুষ নিজের রুচি অনুযায়ী স্বশিক্ষিত হওয়ার অপার সুযোগ পায়। অভিভাবকের বস্তুগত সংকীর্ণতার বিপরীতে আজহার সাহেবের মুক্ত জ্ঞানচর্চার দর্শনই প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধের মূল বাণী।
৫. নিরীহ বাঙালি — বাঙালি চরিত্রের বিশ্লেষণ ও CQ (Niriho Bangali Creative Question)
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালি সমাজের অলসতা, শারীরিক দুর্বলতা এবং কর্মবিমুখ মানসিকতার ওপর তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
মডেল উদ্দীপক:
তরুণ গ্র্যাজুয়েট সুমন লেখাপড়া শেষ করে কোনো কঠিন কাজ বা মাঠে গিয়ে পরিশ্রম করতে রাজি নয়। সে ঘরে বসে আরাম-আয়েশে দিন কাটায় এবং সামান্য কাজের চাপ এলেই অসুস্থতার বাহানা তোলে। তার বড় ভাই তৌফিক তাকে ধমক দিয়ে বলেন, 'শুধু গায়ের চামড়া আর আরামপ্রিয়তা নিয়ে বসে থাকলে জীবনে উন্নতি হবে না। পৃথিবীর যে জাতি শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছে, তারাই বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে।'
সৃজনশীল প্রশ্নাবলি ও সমাধান:
- (ক) বাঙালির চরিত্রে কিসের অভাব লক্ষ্য করা যায়? (মান - ১)
উত্তর: বাঙালির চরিত্রে শারীরিক পরিশ্রম, কষ্টসহিষ্ণুতা এবং মানসিক দৃঢ়তার অভাব লক্ষ্য করা যায়। - (খ) "কুসুমের সৌকুমার্য বলিলে কি বোঝানো হয়েছে?" (মান - ২)
উত্তর: ফুলের মতো অতিরিক্ত কোমল ও সামান্য আঘাতেই নুয়ে পড়া নরম স্বভাবকে বোঝাতে লেখিকা এই রূপকটি ব্যবহার করেছেন।
বাঙালি জাতি নিজেদের জন্মগতভাবেই অত্যন্ত নরম ও আরামপ্রিয় মনে করে। একটু রোদ বা বৃষ্টিতেই তারা কাতর হয়ে পড়ে। রোকেয়া ব্যঙ্গ করে বলেছেন, এই ফুলসুলভ দুর্বলতা কোনো গর্বের বিষয় নয়, এটি জাতির পঙ্গুত্বের লক্ষণ। - (গ) উদ্দীপকের সুমনের আচরণে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের কোন রূপটি ফুটে উঠেছে? (মান - ৩)
উত্তর: সুমনের আরামপ্রিয়তা ও কায়িক পরিশ্রমের প্রতি অনীহার দিকটিতে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বর্ণিত অলস ও কর্মবিমুখ বাঙালির রূপটি ফুটে উঠেছে।
প্রবন্ধে রোকেয়া আক্ষেপ করে বলেছেন, বাঙালি জাতি ঘুম ও অলসতাকে পরম সুখ মনে করে। তারা ঘরে বসে আয়েশ করতে ভালোবাসে কিন্তু প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে নিজের ভাগ্য গড়তে চায় না। উদ্দীপকের সুমনও লেখাপড়া শেষ করে কোনো কঠিন দায়িত্ব নিতে নারাজ। ফলে সুমনের মানসিকতায় রোকেয়ার সমালোচিত অলস বাঙালির চরিত্রটি স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে। - (ঘ) "তৌফিক সাহেবের ক্ষোভই বেগম রোকেয়ার সংস্কার চেতনার মূল প্রতিধ্বনি"—উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো। (মান - ৪)
উত্তর: উক্তিটি সর্বাংশে সত্য; কারণ রোকেয়া বাঙালি জাতিকে আলস্য ও আরামের খাঁচা ভেঙে বিশ্বমঞ্চে স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চেয়েছিলেন।
লেখিকা কেবল ব্যঙ্গ করেই ক্ষান্ত হননি; তিনি চেয়েছেন বাঙালি যেন শারীরিক চর্চা, খেলাধুলা, কৃষি ও বাণিজ্যে অংশ নিয়ে কঠোর পরিশ্রমে ব্রতী হয়। তৌফিক সাহেবও তার ছোট ভাইকে বোঝাতে চেয়েছেন যে পরিশ্রমহীন আরাম কখনো জাতিকে বড় করতে পারে না। অতএব, তৌফিক সাহেবের মনোভাব রোকেয়ার সংস্কারবাদী আহ্বানকেই ধারণ করে।
৬. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: গদ্যাংশের 'প্রত্যুপকার' গল্পটির মূল লেখক কে?
উত্তর: গল্পটির মূল উৎস আরবি ইতিহাস হলেও বাংলায় এটি অনুবাদ ও সংকলন করেছেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর 'আখ্যানমঞ্জরী' গ্রন্থে।
প্রশ্ন ২: 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা কোন বিষয়টিকে তীব্র ব্যঙ্গ করেছেন?
উত্তর: বাঙালির অতিমাত্রায় আরামপ্রিয়তা, শারীরিক দুর্বলতা, অলসতা এবং কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি না নেওয়ার মানসিকতাকে লেখিকা ব্যঙ্গ করেছেন।
প্রশ্ন ৩: বোর্ড পরীক্ষায় গদ্যাংশ থেকে কয়টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক?
উত্তর: মোট ৪টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে, যার মধ্য থেকে পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই ন্যূনতম ২টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে (প্রতিটির মান ১০ নম্বর)।