বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণ ও প্রতিকার — মাস্টার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান স্পেশাল হ্যান্ডনোট ২০২৬

Faruk Sir
0
মাস্টার্স শেষ পর্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞান | কোর্স কোড: ৩১১৯০৫ | শিক্ষাবর্ষ: ২০২৬
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণ স্বরূপ ও প্রতিকার মাস্টার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান হ্যান্ডনোট চিত্র: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংস সংস্কৃতির স্বরূপ ও উত্তরণের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা

সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা হলো এমন একটি বিধ্বংসী প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন, রাষ্ট্রক্ষমতা দখল কিংবা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে শারীরিক শক্তি, বলপ্রয়োগ, ভাঙচুর ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষকে নিয়ামক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ পর্বের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ্যক্রমের 'বাংলাদেশের রাজনীতি ও সরকার' কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য তাত্ত্বিক ও প্রয়োগমূলক বিষয়। নিচে রাজনৈতিক সহিংসতার ঐতিহাসিক পটভূমি, কাঠামোগত কারণসমূহ, বহুমুখী ক্ষতিকর প্রভাব, টেকসই গণতান্ত্রিক প্রতিকারের উপায় এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার স্পেশাল মডেল প্রশ্নোত্তর প্রামাণ্যভাবে বিশ্লেষণ করা হলো।

১. রাজনৈতিক সহিংসতার তাত্ত্বিক ধারণা ও সংজ্ঞা

রাজনৈতিক সহিংসতা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বহুল আলোচিত প্রত্যয়। যখন রাজনৈতিক দল, স্বার্থগোষ্ঠী বা রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো অংশ নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথ পরিহার করে শক্তিপ্রয়োগের আশ্রয় নেয়, তখন তাকে রাজনৈতিক সহিংসতা বলা হয়। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সামাজিক অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও ক্ষমতার বণ্টন প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এক ধরণের কাঠামোগত দ্বন্দ্ব।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজতাত্ত্বিকরা রাজনৈতিক সহিংসতাকে রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নিম্নে প্রখ্যাত তাত্ত্বিকদের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা তুলে ধরা হলো:

অধ্যাপক টেড রবার্ট গার (Ted Robert Gurr): তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Why Men Rebel'-এ উল্লেখ করেছেন, "রাজনৈতিক সহিংসতা হলো কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা তার প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত ক্ষোভ ও বঞ্চনাবোধ (Relative Deprivation) থেকে উৎসারিত সকল প্রকার ধ্বংসাত্মক শারীরিক আক্রমণ।"
অধ্যাপক স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন (Samuel P. Huntington): তাঁর কালজয়ী তত্ত্বে বলেছেন, "যখন একটি সমাজে জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও গণঅংশগ্রহণ দ্রুত বৃদ্ধি পায় কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সেই চাহিদাকে ধারণ করতে পারে না, তখন সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চরম সহিংসতার সৃষ্টি হয়।"

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সহিংসতা কেবল সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি দলীয় অন্তঃকোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, ছাত্র ও যুব সংগঠনের মধ্যকার সংঘাত এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রেও প্রায়শই প্রকাশিত হয়।

২. বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ঐতিহাসিক পটভূমি ও বিবর্তন

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার শেকড় গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক বিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যে। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনকাল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত এ দেশের জনগণকে নিজেদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের জন্য ক্রমাগত রাজপথে আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়েছে।

ঐতিহাসিক ধারা পর্যালোচনা করলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার তিনটি সুস্পষ্ট পর্ব লক্ষ্য করা যায়:

  • পাকিস্তান ঔপনিবেশিক পর্ব (১৯৪৭-১৯৭১): পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ও শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রতিবাদ ও স্বাধিকার আন্দোলন। এ পর্বে সহিংসতা মূলত জনগণের ওপর রাষ্ট্রযন্ত্রের অন্যায় দমন-পীড়নের ফলে প্রতিরোধ হিসেবে রূপ নিয়েছিল।
  • স্বাধীনতা-উত্তর সংঘাত ও সামরিক শাসন পর্ব (১৯৭২-১৯৯০): স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে চরমপন্থী রাজনৈতিক উপদলের সশস্ত্র তৎপরতা, ১৯৭৫ সালের নির্মম রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী দীর্ঘ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে সহিংসতার তীব্র উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
  • গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও দলীয় মেরুকরণ পর্ব (১৯৯১-বর্তমান): নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তিত হলেও দলীয় অসহিষ্ণুতা, জিরো-সাম পলিটিক্স (Zero-Sum Politics) এবং ক্ষমতার একক দখলদারিত্বের রাজনীতি সহিংসতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করে। হরতাল, অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং নির্বাচনী সহিংসতা এ পর্বের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে।
প্রাসঙ্গিক পাঠ্য নির্দেশিকা: রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের সম্পূর্ণ পাঠ্য তালিকা ও বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ জানতে আমাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনার্স পাঠ্য বইয়ের তালিকা ও বিষয় কোড নির্দেশিকাটি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

৩. বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার মূল কারণসমূহ

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণ কোনো একক উপাদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মনস্তাত্ত্বিক নানাবিধ জটিল উপাদানের সমন্বিত ফলাফল। অ্যাকাডেমিক বিশ্লেষণে প্রধান কারণগুলোকে নিম্নোক্তভাবে চিহ্নিত করা যায়:

ক. জিরো-সাম পলিটিক্স ও পরম অসহিষ্ণুতা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে 'বিজয়ী সবকিছু পাবে এবং পরাজিত সবকিছু হারাবে'—এই ধরনের দ্বিমুখী পরম দ্বন্দ্ব বিরাজমান। বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার মানসিকতা সহিংসতাকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে।

খ. গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা

নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, সংসদ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো রাষ্ট্রীয় অভিভাবক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না পারলে নাগরিক সমাজের সাংবিধানিক আস্থার সংকট তৈরি হয়। প্রাতিষ্ঠানিক বিচারহীনতার অনুভূতি থেকে রাজপথের সহিংসতা বৃদ্ধি পায়।

গ. রাজনীতির অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণ ও কায়েমি স্বার্থ

বর্তমান সময়ে রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে বৈষয়িক সম্পদ অর্জন ও ব্যবসায়িক একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের সহজতম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। পদ-পদবি ও আধিপত্য বজায় রাখার জন্য পেশিশক্তি ও অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজনীতিতে সন্ত্রাসী উপাদানের অনুপ্রবেশ ঘটছে।

ঘ. দলীয় আনুগত্য ও ছাত্র-যুব রাজনীতির অপব্যবহার

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষার দাবি ও অধিকারের পরিবর্তে দলীয় ক্ষমতার লেজুড়বৃত্তি ও প্রভাব বিস্তারের অসুস্থ প্রতিযোগিতা সংঘাতের জন্ম দেয়। ছাত্র সংগঠনগুলোকে প্রায়শই রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ঙ. নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক সংকট

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা ও নিরপেক্ষভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বারবার সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অভাব চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও প্রাণঘাতী সহিংসতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

৪. রাজনৈতিক সহিংসতার বিভিন্ন রূপ ও তাদের তুলনামূলক মাত্রা

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ বিভিন্ন ধাপে ও মাত্রায় ঘটে থাকে। নিম্নের সারণীতে সহিংসতার প্রধান রূপসমূহ এবং তাদের প্রভাব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

সহিংসতার ধরন প্রধান কারণ ও প্রেক্ষাপট প্রকাশের মাধ্যম সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রভাব
নির্বাচনী সহিংসতা ভোটকেন্দ্র দখল, ফলাফল পরিবর্তন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার সংক্রান্ত সংঘাত বুথ দখল, ব্যালট ছিনতাই, বিরোধী প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা গণতান্ত্রিক আস্থার পতন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ
আন্তঃদলীয় সংঘাত ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যকার আধিপত্যের লড়াই হরতাল, রাজপথ অবরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সংঘর্ষ নাগরিক জীবনে স্থবিরতা, যান চলাচলে বিঘ্ন ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি
অন্তর্দলীয় কোন্দল স্থানীয় কমিটি গঠন, চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা একই দলের দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধ, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও খুনোখুনি দলীয় শৃঙ্খলার অবক্ষয় এবং তৃণমূল পর্যায়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা
ক্যাম্পাস সহিংসতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখল, সিট বাণিজ্য ও প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠন দমন ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া, শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন অ্যাকাডেমিক সেশনজট সৃষ্টি ও উচ্চশিক্ষার শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মক ব্যাহত

৫. আর্থ-সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতিতে সহিংসতার নেতিবাচক প্রভাব

রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এটি কেবল প্রাণহানি ঘটায় না, বরং সমগ্র জাতীয় অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিতকে নড়বড়ে করে দেয়:

  • অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও বিনিয়োগ ঘাটতি: লাগাতার অস্থিরতা ও নাশকতার কারণে অভ্যন্তরীণ সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে, যার ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হয়।
  • মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভয়ের সংস্কৃতি: সহিংসতার সময় সাধারণ নাগরিকরা সংবিধান প্রদত্ত স্বাধীন চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিক শ্রেণী সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়।
  • সামাজিক অবক্ষয় ও তরুণ প্রজন্মের অনাগ্রহ: সংঘাতময় রাজনীতি দেখে মেধাবী তরুণ সমাজ দেশের সক্রিয় রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং মেধা পাচারের (Brain Drain) প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

৬. রাজনৈতিক সহিংসতা নিরসনে টেকসই প্রতিকার ও উত্তরণের উপায়

রাজনৈতিক সহিংসতাকে কেবল বলপ্রয়োগ বা পুলিশি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:

ক. রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অর্থবহ সংলাপ ও পারস্পরিক সমঝোতা

জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রধান সংকটগুলোতে দলগুলোকে নিয়মিত আলোচনায় বসতে হবে। সহনশীলতা ও সমঝোতার রাজনীতি চর্চা করে সংঘাতের পথ পরিহারের অঙ্গীকার করতে হবে।

খ. সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণ

নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশনকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার নিশ্চয়তা রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রধান রক্ষাকবচ। আর এ কারণেই নব্বইয়ের দশকে রাজপথের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে এবং সকল দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্তসমূহ কাঠামোর উদ্ভাবন ঘটেছিল।

গ. আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রয়োগ

সহিংসতার সাথে জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার বা রাজনৈতিক আশ্রয় বন্ধ করতে হবে।

ঘ. ক্যাম্পাস রাজনীতি সংস্কার ও শিক্ষাঙ্গন দখলমুক্তকরণ

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে। অস্ত্রবাজি ও হল দখলদারিত্ব কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

মাস্টার্স ও বিসিএস স্পেশাল অ্যাকাডেমিক মডেল প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১ (ক-বিভাগ): 'Why Men Rebel' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তর: বিখ্যাত আমেরিকান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সমাজতাত্ত্বিক অধ্যাপক টেড রবার্ট গার (Ted Robert Gurr)।

প্রশ্ন ২ (খ-বিভাগ): আপেক্ষিক বঞ্চনাবোধ (Relative Deprivation) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো জনগোষ্ঠী বা সামাজিক শ্রেণী যখন তাদের বর্তমান সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান এবং তাদের প্রাপ্য বা প্রত্যাশিত অবস্থানের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান লক্ষ্য করে অসন্তোষে নিমজ্জিত হয়, তখন সেই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে আপেক্ষিক বঞ্চনাবোধ বলা হয়।

প্রশ্ন ৩ (গ-বিভাগ): বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণ ব্যাখ্যাপূর্বক উত্তরণের টেকসই সুপারিশ উপস্থাপন করো।
উত্তর নির্দেশিকা: পরীক্ষায় এই প্রশ্নের উত্তরে ভূমিকা হিসেবে স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন ও টেড রবার্ট গারের তত্ত্ব উল্লেখ করতে হবে। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, জিরো-সাম পলিটিক্স, কায়েমি স্বার্থ ও ছাত্র রাজনীতির অপব্যবহার পয়েন্ট আকারে লিখে উপরে উল্লিখিত তুলনামূলক টেবিলটি যুক্ত করে টেকসই সংস্কারের প্রস্তাবনা দিয়ে ইতি টানতে হবে।

মাস্টার্স শেষ পর্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞান — সম্পূর্ণ হ্যান্ডনোট সিরিজ (কোর্স কোড: ৩১১৯০৫):

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস ও বিগত পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক হ্যান্ডনোটসমূহ ক্রমানুসারে পড়ুন:

মাস্টার্স শেষ পর্ব রাষ্ট্রবিজ্ঞান — সম্পূর্ণ হ্যান্ডনোট সিরিজ (কোর্স কোড: ৩১১৯০৫):

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস ও বিগত পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিক হ্যান্ডনোটসমূহ ক্রমানুসারে পড়ুন:

৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (FAQ)

রাজনৈতিক সহিংসতার প্রধান মনস্তাত্ত্বিক কারণ কী?

রাজনৈতিক সহিংসতার অন্যতম প্রধান মনস্তাত্ত্বিক কারণ হলো আপেক্ষিক বঞ্চনাবোধ এবং পরম অসহিষ্ণুতা, যেখানে প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কী ধরনের প্রভাব পড়ে?

রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস পায়, আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হয়, সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে এবং সাধারণ দিনমজুর ও ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়।

সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রাথমিক পদক্ষেপ কী?

প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর সব পক্ষের পূর্ণ আস্থা প্রতিষ্ঠা করা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দলনিরপেক্ষ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আইনের কঠোর ও সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!