এসএসসি ও দাখিল বাংলা ১ম পত্র কবিতাংশ সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক ২০২৬-২০২৭ (SSC Bangla 1st Paper Poetry CQ Question Bank & Full Solution)

Faruk Sir
0
এসএসসি ও দাখিল বাংলা ১ম পত্র কবিতাংশ সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক ২০২৬-২০২৭
এসএসসি ও দাখিল বাংলা ১ম পত্র কবিতাংশ সকল সৃজনশীল উদ্দীপকের ৪ স্তরের পূর্ণাঙ্গ নির্ভুল সমাধান ২০২৬-২০২৭

বাংলা ১ম পত্রের কবিতাংশ সৃজনশীল (Poetry CQ) অংশে পূর্ণ নম্বর তুলতে হলে কবিতার রূপক অর্থ, অন্তর্নিহিত সুর ও উদ্দীপকের ভাবার্থের মধ্যে সুষম মেলবন্ধন ঘটানো আবশ্যক। আল ফাতাহ দাখিল ও এসএসসি ২০২৭ প্রশ্নপত্র সাজেশনের আলোকে তৈরি এই কবিতাংশ সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংকে বন্দনা, কপোতাক্ষ নদ, প্রাণ, জীবন বিনিময়, উমর ফারুক, তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা এবং বোশেখ পর্যন্ত ১০টি কবিতার প্রতিটি উদ্দীপকের ৪ স্তরের পূর্ণাঙ্গ উত্তর সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্ন ক্লিক-টু-রিভিল ড্রপডাউনে সাজানো হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা নিজে আগে উত্তর ভেবে পরে মিলিয়ে নিতে পারে।

কবিতাংশ সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার পরীক্ষিত কৌশল ও মানবণ্টন (Poetry CQ Exam Strategy)

কবিতাংশে অধিকাংশ শিক্ষার্থী যে ভুলটি করে তা হলো উদ্দীপকের সাথে কবিতার চরণের মেলবন্ধন না ঘটিয়ে সাধারণ গদ্যের মতো উত্তর লেখা। কবিতাংশে পূর্ণ ১০ এ ১০ পেতে হলে কবিতার অন্তর্নিহিত দর্শন ও রূপক ভাবার্থের ওপর জোর দিতে হবে:

প্রশ্নের স্তর মান প্যারা সংখ্যা কবিতাংশের জন্য বিশেষ পরীক্ষক টিপস
(ক) জ্ঞানমূলক ১ নম্বর ১টি পূর্ণ বাক্য কবির নাম, মূল কাব্যগ্রন্থের নাম অথবা নির্দিষ্ট চরণের তথ্য সরাসরি ১ বাক্যে লিখবেন।
(খ) অনুধাবনমূলক ২ নম্বর ২টি প্যারা ১ম প্যারা: চরণের অন্তর্নিহিত রূপক অর্থ। ২য় প্যারা: কবি কোন ভাব বা দর্শনের কারণে চরণটি ব্যক্ত করেছেন তার ৪-৫ লাইনের ব্যাখ্যা।
(গ) প্রয়োগমূলক ৩ নম্বর ৩টি প্যারা ১ম প্যারা: মূল কবিতার কোন ভাব ফুটে উঠেছে। ২য় প্যারা: পাঠ্য কবিতার মূল বক্তব্য ও চরণ। ৩য় প্যারা: উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্য/বৈসাদৃশ্যের তুলনামূলক মূল্যায়ন।
(ঘ) উচ্চতর দক্ষতা ৪ নম্বর ৪টি প্যারা ১ম প্যারা: সিদ্ধান্তের স্পষ্ট অবস্থান। ২য় প্যারা: কবির সামগ্রিক জীবনদর্শন। ৩য় প্যারা: উদ্দীপকের পরিসর কতটুকু। ৪র্থ প্যারা: কবিতা ও উদ্দীপকের সার্বিক বিচার।

সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি লিংক (Study Hub):

• আপনি কি কবিতাংশ বহুনির্বাচনি প্রস্তুতি খুঁজছেন? দেখুন: এসএসসি বাংলা ১ম পত্র কবিতাংশ বহুনির্বাচনি প্রশ্নব্যাংক (২৪২টি MCQ)
• গদ্যাংশ সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক: এসএসসি ও দাখিল বাংলা ১ম পত্র গদ্যাংশ সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক
• সম্পূর্ণ ১০০ নম্বরের মাস্টার গাইড: SSC বাংলা ১ম পত্র চূড়ান্ত সুপার সাজেশন ও নতুন মানবণ্টন ২০২৭

অধ্যায়ভিত্তিক কবিতাংশ সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক ও সমাধান (Chapter-wise Poetry CQ Bank)

নিচে আল ফাতাহ দাখিল সাজেশন ও শীর্ষ বোর্ড পরীক্ষার আলোকে প্রতিটি কবিতার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপক এবং প্রতিটি প্রশ্নের ক, খ, গ, ঘ স্তরের পূর্ণাঙ্গ নির্ভুল সমাধান তুলে ধরা হলো:

কবিতা ০১: বন্দনা — শাহ মুহম্মদ সগীর

মূল থিম: স্রষ্টার মহিমা ও অপার করুণা, নবী-রাসূল ও পিতামাতার প্রতি অসীম ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা।
সৃজনশীল প্রশ্ন নং ১ (আল ফাতাহ দাখিল ২০২৭ ও শীর্ষ মাদরাসা বোর্ড প্রশ্ন)
উদ্দীপক:
হাফিজ সাহেব দীর্ঘদিন ধরে এক মক্তবে শিক্ষকতা করেন। তিনি প্রতিদিন ভোরে শিক্ষার্থীদের মহান আল্লাহর প্রশংসাগীতি শেখান এবং পিতা-মাতার চরণতলে জান্নাত থাকার ধর্মীয় সত্যটি হৃদয়ঙ্গম করান। তিনি বলেন, 'যে সন্তান পিতা-মাতার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারল না, স্রষ্টার সন্তুষ্টি তার জন্য অসম্ভব।' তাঁর এক ছাত্র সাব্বির বড় হয়ে পিতা-মাতার সেবা করতে করতে নিজের জীবন অতিবাহিত করে এবং সকলের শ্রদ্ধার পাত্র হয়।
মডেল উত্তর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেখুন (Click to View Answer)
ক (জ্ঞানমূলক): শাহ মুহম্মদ সগীর কোন শতাব্দীর কবি ছিলেন? ১ নম্বর
উত্তর: শাহ মুহম্মদ সগীর চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রাচীন-মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
খ (অনুধাবনমূলক): 'দ্বিতীয়ে প্রণাম করো মাও বাপ পাও'—চরণটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখ। ২ নম্বর
উত্তর: কবি শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর কাব্যের প্রারম্ভে এক অদ্বিতীয় মহান স্রষ্টার বন্দনার পরেই দ্বিতীয় স্থানে পিতা-মাতার প্রতি প্রণাম ও ভক্তি নিবেদনের নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ পিতা-মাতা হলেন দুনিয়াতে সন্তানের অস্তিত্ব, লালন-পালন ও আত্মিক বিকাশের মূল অবলম্বন। স্রষ্টার পরই পিতা-মাতার স্থান—এই শাশ্বত সত্যটি বোঝাতেই চরণটি রচিত।
গ (প্রয়োগমূলক): উদ্দীপকের হাফিজ সাহেবের উপদেশে 'বন্দনা' কবিতার কোন মূল স্তবকের ভাব প্রতিফলিত হয়েছে? ৩ নম্বর
উত্তর: উদ্দীপকের হাফিজ সাহেবের উপদেশে 'বন্দনা' কবিতার দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত পিতা-মাতার প্রতি অকৃত্রিম ভক্তি ও ঋণ স্বীকারের মূল স্তবকের ভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

কবি শাহ মুহম্মদ সগীর 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্যের বন্দনা অংশে বলেছেন যে, পিতা-মাতার আশীর্বাদ ছাড়া মানুষ পৃথিবীতে সফল হতে পারে না। পিতা-মাতা কত কষ্টে সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন, আহার যোগান এবং তিলে তিলে বড় করে তোলেন।

উদ্দীপকের হাফিজ সাহেবও শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতার সন্তুষ্টিকে স্রষ্টার সন্তুষ্টির মাধ্যম হিসেবে শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং, পিতা-মাতার অনন্য মর্যাদার দিক থেকে উদ্দীপক ও কবিতা একই শিক্ষাকে ধারণ করেছে।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতা): 'সাব্বিরের জীবনাদর্শ যেন বন্দনা কবিতার নীতিশিক্ষার বাস্তব সার্থকতা'—উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর। ৪ নম্বর
উত্তর: উক্তিটি সর্বাংশে সত্য ও যুক্তিযুক্ত। কাব্যের নীতিবাক্য যখন মানুষের আচরণে মূর্ত হয়, তখনই তা প্রকৃত সার্থকতা লাভ করে।

'বন্দনা' কবিতায় কবি কেবল পিতামাতার প্রশংসা করেননি, বরং তাদের চরণসেবা করার জন্য আত্মিক আকুলতা প্রকাশ করেছেন। যে সন্তান পিতামাতার সেবা করে, সে ইহকাল ও পরকালে শান্তিময় জীবন লাভ করে।

উদ্দীপকের সাব্বির শিক্ষক হাফিজ সাহেবের অনুপ্রেরণায় সারাজীবন পিতামাতার সেবায় নিবেদিত থেকে সমাজে শ্রদ্ধার পাত্র হয়েছে। সে কাব্যের উপদেশকে নিজের জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছে।

অতএব, কবি শাহ মুহম্মদ সগীর বন্দনা কবিতায় পিতা-মাতার প্রতি যে পরম আনুগত্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন, সাব্বিরের জীবনে তারই সফল বাস্তবায়ন ঘটেছে—তাই উক্তিটি যথার্থ।

কবিতা ০২: কপোতাক্ষ নদ — মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মূল থিম: প্রবাসজীবনে স্বদেশের নদীর প্রতি গভীর স্মৃতিবেদনা, দেশপ্রেম এবং বাংলা চতুর্দশপদী (সনেট)-এর অনুপম সুর।
সৃজনশীল প্রশ্ন নং ১ (বোর্ড পরীক্ষা ও আল ফাতাহ চূড়ান্ত মডেল টেস্ট)
উদ্দীপক:
বহু বছর ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন স্থপতি আরিয়ান। টেমস নদীর তীরের আধুনিক শহর, সুরম্য অট্টালিকা ও ঐশ্বর্য তাকে মুগ্ধ করলেও তার মন পড়ে থাকে বরিশালের ধানসিঁড়ি নদীর পাড়ে। শৈশবে বন্ধুদের সাথে ধানসিঁড়ির স্বচ্ছ জলে সাঁতার কাটার স্মৃতি তাকে প্রবাসের নির্জন রাতে ব্যাকুল করে তোলে। তিনি ভাবেন, 'আর কি কখনো ফিরতে পারব সেই রূপসী নদীর কোলে!'
মডেল উত্তর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেখুন (Click to View Answer)
ক (জ্ঞানমূলক): 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার অন্ত্যমিল বিন্যাস কোনটি? ১ নম্বর
উত্তর: 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার অষ্টকের মিলবিন্যাস হলো কখকখ কখখক এবং ষষ্ঠকের মিলবিন্যাস হলো গঘঙ গঘঙ।
খ (অনুধাবনমূলক): 'দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে'—চরণটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন? ২ নম্বর
উত্তর: কবি কপোতাক্ষ নদের জলধারাকে জন্মভূমি মায়ের বুকের দুধের সাথে তুলনা করেছেন। শৈশবে শিশু যেমন মায়ের স্তন্যদুগ্ধ পান করে জীবন ও পুষ্টি ধারণ করে, কবিও তেমনি কপোতাক্ষের স্নিগ্ধ জল পান করে তৃষ্ণা নিবারণ ও আত্মিক প্রশান্তি লাভ করেছিলেন। জন্মভূমির সাথে কবির এই নাড়ির টান বোঝাতেই চরণটি প্রযুক্ত হয়েছে।
গ (প্রয়োগমূলক): উদ্দীপকের আরিয়ানের স্মৃতিবেদনা 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির কোন অনুভূতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ৩ নম্বর
উত্তর: উদ্দীপকের আরিয়ানের স্মৃতিবেদনা 'কপোতাক্ষ নদ' সনেটে মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রবাসে বসে স্বদেশের নদীকে কাতরভাবে স্মরণ করার গভীর স্মৃতিকাতরতা ও দেশপ্রেমের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।

কবি ফ্রান্সে বসে দূর প্রবাসে যখন নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছিলেন, তখন শত নদীর জল দেখলেও শৈশবের কপোতাক্ষের জলের মতো তৃপ্তি তিনি কোথাও পাননি। কল্পনায় তিনি সেই নদীর কলকল ধ্বনি শুনতে পেতেন।

উদ্দীপকের আরিয়ানও টেমস নদীর বিলাসবহুল পরিবেশে থেকেও শৈশবের ধানসিঁড়ি নদীর স্মৃতির টান ভুলতে পারছেন না। মাতৃভূমির স্মৃতির এই তীব্র আকুলতাই আরিয়ান ও মধুসূদন দত্তকে এক সূত্রে গেঁথেছে।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতা): 'ঐশ্বর্য কখনো শেকড়ের টানকে ম্লান করতে পারে না—কপোতাক্ষ নদ কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।' ৪ নম্বর
উত্তর: উক্তিটি অত্যন্ত চিরন্তন ও মানবীয় সত্যকে প্রকাশ করে। মানুষের জন্মমাটি ও শেকড়ের বন্ধন পৃথিবীর সকল পার্থিব ঐশ্বর্যের চেয়েও শক্তিশালী।

মধুসূদন দত্ত ইংরেজি সাহিত্যের মোহে দেশ ত্যাগ করেছিলেন এবং ইউরোপের আধুনিক সভ্যতায় নিজেকে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রবাসের চাকচিক্য তাঁর অন্তরের স্বদেশপ্রেম ও কপোতাক্ষের মায়াকে বিন্দুমাত্র ম্লান করতে পারেনি। তিনি নতজানু হয়ে কপোতাক্ষের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন নদীটি তাঁকে স্নেহের ডোরে স্মরণ রাখে।

উদ্দীপকের আরিয়ানও লন্ডনের প্রবাসজীবনে বিলাসবহুল জীবন পেয়েও ধানসিঁড়ির স্মৃতি ভুলতে পারেননি।

সুতরাং, ভৌগোলিক দূরত্ব বা বৈষয়িক সমৃদ্ধি যাই থাকুক না কেন, শেকড়ের আত্মিক টান কখনোই বিনষ্ট হয় না—উভয় ক্ষেত্রেই এই সত্য দীপ্তমান।

কবিতা ০৩: প্রাণ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মূল থিম: মর্ত্যপ্রীতি, মানুষের আনন্দ-বেদনার মাঝে অমরত্ব লাভ এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মাঝে বেঁচে থাকার ব্যাকুল বাসনা।
সৃজনশীল প্রশ্ন নং ১ (শীর্ষ বোর্ড ও ক্যাডেট কলেজ টেস্ট সাজেশন)
উদ্দীপক:
একজন প্রবীণ চিত্রশিল্পী তাঁর জীবনের শেষ প্রদর্শনীতে দাঁড়িয়ে বললেন, 'আমি স্বর্গের কল্পিত সুখের চিত্র আঁকিনি; আমি এঁকেছি এই মাটির মানুষের ঘাম, কৃষকের মুখের হাসি, শিশুদের দুষ্টুমি আর দিগন্তবিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠ। এই মাটির পৃথিবীর মানুষ যদি আমার ছবির মাঝে তাদের ভালোবাসার আশ্রয় খুঁজে পায়, তবেই আমার সৃষ্টি অমর হবে।'
মডেল উত্তর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেখুন (Click to View Answer)
ক (জ্ঞানমূলক): 'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত? ১ নম্বর
উত্তর: 'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
খ (অনুধাবনমূলক): 'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে'—কবির এই আকুলতার কারণ ব্যাখ্যা কর। ২ নম্বর
উত্তর: কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই রূপ-রস-গন্ধভরা পৃথিবীর অপার সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ। তিনি অনন্তকালের স্বর্গে গিয়ে বিলীন হতে চান না, বরং এই রক্ত-মাংসের মানুষের হাসি-কান্না, আলো-ছায়া ও প্রকৃতির অপরূপ আনন্দের মাঝে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকতে চান। পার্থিব জীবনের প্রতি এই গভীর মর্ত্যপ্রীতির কারণেই কবির এই উচ্চারণ।
গ (প্রয়োগমূলক): উদ্দীপকের প্রবীণ চিত্রশিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গিতে 'প্রাণ' কবিতার কোন দর্শন ফুটে উঠেছে? আলোচনা কর। ৩ নম্বর
উত্তর: উদ্দীপকের চিত্রশিল্পীর শিল্পদর্শনে 'প্রাণ' কবিতায় ব্যক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানুষের মাঝে গান বেঁধে অমরত্ব খোঁজার দর্শনটি ফুটে উঠেছে।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতায় বলেছেন, তিনি মানুষের হৃদয়ে আসন পেতে চান। যদি তিনি মানুষের সুখ-দুঃখে সুর মিলিয়ে নিত্যনতুন আনন্দের ডালা সাজাতে পারেন, তবেই মৃত্যুকে জয় করে মানবহৃদয়ে তিনি চিরঞ্জীব থাকবেন।

উদ্দীপকের শিল্পীও স্বর্গের অলীক কল্পনার বদলে মর্ত্যের সাধারণ মানুষের জীবন ও মাটির সৌন্দর্যকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলে মানুষের মনে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন। এটি 'প্রাণ' কবিতার মূল দর্শনেরই শিল্পরূপ।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতা): 'মানুষের মাঝেই অমরত্ব নিহিত—প্রাণ কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য মূল্যায়ন কর।' ৪ নম্বর
উত্তর: উক্তিটি শিল্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য ও মানবজীবনের আসল অর্থকে সার্থকভাবে সংজ্ঞায়িত করে।

শারীরিক মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু কর্ম ও সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষ যুগে যুগে অমর হয়ে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বুঝেছিলেন, মানবসংসার ছেড়ে কোনো আধ্যাত্মিক নির্জনতায় মুক্তি নেই; মুক্তি আছে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের আনন্দ-বেদনায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মাঝে।

উদ্দীপকের চিত্রশিল্পীও পার্থিব মানুষের শ্রম ও ভালোবাসার চিত্র এঁকে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান পেতে চেয়েছেন।

অতএব, মানবপ্রেম ও সৃষ্টির দ্বারা মানুষের মনে স্থান করে নেওয়ার মাধ্যমেই মানুষ অবিনশ্বর হয়ে ওঠে—'প্রাণ' কবিতা ও উদ্দীপক উভয়েই এই অমোঘ সত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।

কবিতা ০৪: জীবন বিনিময় — গোলাম মোস্তফা

মূল থিম: পিতার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, সন্তানের প্রতি পিতৃস্নেহের চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা ও সম্রাট বাবরের ঐতিহাসিক ঘটনা।
সৃজনশীল প্রশ্ন নং ১ (আল ফাতাহ দাখিল ২০২৭ ও বোর্ড মডেল প্রশ্ন)
উদ্দীপক:
এক দরিদ্র রিকশাচালক কাশেমের একমাত্র পুত্র দুরারোগ্য কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। চিকিৎসকরা জানালেন, দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন না করলে তাকে বাঁচানো যাবে না। কাশেম নিজের জীবনের সমস্ত ঝুঁকি নিয়ে নিজের একটি কিডনি পুত্রকে দান করেন এবং অস্ত্রোপচারের সময় বলেন, 'আমার জীবনের আর কী মূল্য আছে, আমার ছেলেটা বেঁচে থাকলে আমার স্বপ্ন বেঁচে থাকবে।' সফল অস্ত্রোপচারের পর কাশেম দুর্বল শরীরে ছেলের সুস্থ মুখের দিকে তাকিয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন।
মডেল উত্তর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেখুন (Click to View Answer)
ক (জ্ঞানমূলক): সম্রাট বাবর তাঁর অসুস্থ পুত্র হুমায়ুনকে বাঁচাতে কার পরামর্শে প্রার্থনায় বসেছিলেন? ১ নম্বর
উত্তর: সম্রাট বাবর বিশিষ্ট দরবেশ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানী মীর আবুল বাশার পরামর্শে প্রার্থনায় বসেছিলেন।
খ (অনুধাবনমূলক): সম্রাট বাবর কেন নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়ার শপথ নিয়েছিলেন? বুঝিয়ে লেখ। ২ নম্বর
উত্তর: পুত্র হুমায়ুনের জীবন যখন চরম সংকটাপন্ন এবং কোনো ওষুধে কাজ হচ্ছিল না, তখন আধ্যাত্মিক পরামর্শ অনুযায়ী বাবর বুঝতে পারেন যে পুত্রের আরোগ্যের জন্য তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করতে হবে। বাবর উপলব্ধি করেন পৃথিবীতে তাঁর নিজের জীবনের চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই। তাই পুত্রের প্রাণের বিনিময়ে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করার শপথ নেন।
গ (প্রয়োগমূলক): উদ্দীপকের রিকশাচালক কাশেমের আত্মত্যাগে 'জীবন বিনিময়' কবিতার কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য মেলে? ৩ নম্বর
উত্তর: উদ্দীপকের কাশেমের আত্মত্যাগে 'জীবন বিনিময়' কবিতায় বর্ণিত মোগল সম্রাট বাবরের স্বীয় জীবনের বিনিময়ে পুত্র হুমায়ুনকে নবজীবন দান করার অবিস্মরণীয় পিতৃস্নেহের সাদৃশ্য মেলে।

কবিতায় দেখা যায়, বাবর রুগ্ণ হুমায়ুনের শয্যাপাশে প্রদক্ষিণ করে পরম করুণাময়ের কাছে নিজের জীবন দিয়ে পুত্রের রোগমুক্তির মোনাজাত করেছিলেন। অলৌকিকভাবে পুত্র সুস্থ হয়ে ওঠে এবং বাবর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

উদ্দীপকের কাশেমও সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে নিজের অঙ্গ দান করে জীবনের চরম ঝুঁকি গ্রহণ করেছেন। এই নিঃস্বার্থ অপত্য স্নেহ বাবরের আত্মত্যাগেরই এক আধুনিক রূপ।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতা): 'পিতৃস্নেহের কাছে রাজমুকুট ও ছিন্ন বসনের কোনো পার্থক্য নেই—উক্তিটি জীবন বিনিময় কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে প্রমাণ কর।' ৪ নম্বর
উত্তর: উক্তিটি পিতৃত্বের শাশ্বত ও বৈষম্যহীন মহিমাকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরে।

সম্রাট বাবর ছিলেন পরাক্রমশালী মোগল সাম্রাজ্যের অধিপতি। ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও রাজমুকুট কোনো কিছুই তাঁর কাছে পুত্রের জীবনের চেয়ে বড় ছিল না। সন্তানের বিপদে তিনি রাজবেশ ভুলে এক ব্যাকুল পিতার বেশে খোদার দরবারে কেঁদে নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে উদ্দীপকের কাশেম ছিন্নবসনের নিঃস্ব রিকশাচালক। কিন্তু পুত্রের জীবনের জন্য তাঁর ত্যাগের গভীরতা সম্রাট বাবরের চেয়ে একবিন্দুও কম নয়। তিনিও নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করে সন্তানকে বাঁচিয়েছেন।

অতএব, ধনী বা নির্ধন—সন্তানের প্রতি পিতার ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের গভীরতা একই শাশ্বত ধারায় প্রবাহিত। রাজপ্রাসাদ কিংবা কুঁড়েঘর, সর্বত্রই পিতার হৃদয় অভিন্ন আত্মদানে মহিমান্বিত।

কবিতা ০৫: উমর ফারুক — কাজী নজরুল ইসলাম

মূল থিম: সাম্যবাদী নেতৃত্ব, ন্যায়পরায়ণতা, প্রজাবাৎসল্য এবং হযরত উমর (রা.)-এর অনন্য মানবতাবোধ।
সৃজনশীল প্রশ্ন নং ১ (শীর্ষ বোর্ড ও মাদরাসা প্রশ্নব্যাংক)
উদ্দীপক:
একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের গভর্নর রাতের বেলা সাধারণ ছদ্মবেশে হেঁটে হেঁটে দুর্ভিক্ষপীড়িত বস্তিবাসীদের খোঁজ নিতেন। একদিন তিনি দেখলেন, এক বৃদ্ধা নারী ক্ষুধার্ত সন্তানদের কান্না থামাতে হাঁড়িতে শুধু পানি ও পাথর ফুটিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। গভর্নর তৎক্ষণাৎ সরকারি গুদামে গিয়ে নিজের কাঁধে আটার বস্তা তুলে নিয়ে সেই কুটিরে পৌঁছে দেন এবং বাচ্চাদের নিজ হাতে রুটি বানিয়ে খাওয়ান। অনুসারীরা বস্তা বহন করতে চাইলে তিনি বলেন, 'পরকালে কি আমার পাপের বোঝা তোমরা বহন করবে?'
মডেল উত্তর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেখুন (Click to View Answer)
ক (জ্ঞানমূলক): হযরত উমর (রা.) ইসলামের কততম খলিফা ছিলেন? ১ নম্বর
উত্তর: হযরত উমর (রা.) ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ছিলেন।
খ (অনুধাবনমূলক): উটের রশি ধরে খলিফা হেঁটেছিলেন এবং ভৃত্য উটের পিঠে চড়েছিল কেন? বুঝিয়ে লেখ। ২ নম্বর
উত্তর: জেরুজালেম যাত্রাকালে খলিফা উমর (রা.) ও তাঁর ভৃত্যের জন্য মাত্র একটি উট ছিল। সমতার নীতি বজায় রাখতে তাঁরা পালাক্রমে উটে চড়ার সিদ্ধান্ত নেন। শহরের প্রবেশমুখে যখন ভৃত্যের চড়ার পালা আসল, তখন ভৃত্য খলিফাকে চড়তে অনুরোধ করলেও খলিফা ন্যায়ের দাবিতে অনড় থেকে নিজে উটের রশি টেনে হেঁটে শহরে ঢোকেন। এই সাম্য ও ইনসাফের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্যই ঘটনাটি ঘটেছিল।
গ (প্রয়োগমূলক): উদ্দীপকে বর্ণিত গভর্নরের কার্যক্রমে 'উমর ফারুক' কবিতার কোন ঐতিহাসিক মহান ঘটনাটি চিত্রিত হয়েছে? ৩ নম্বর
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত গভর্নরের কার্যাবলীতে 'উমর ফারুক' কবিতায় উল্লিখিত খলিফা উমর (রা.)-এর রাতের আঁধারে প্রজাদের খবর নেওয়া এবং নিজ কাঁধে আটার বস্তা বয়ে নিয়ে ক্ষুধার্ত সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার ঘটনাটি চিত্রিত হয়েছে।

নজরুল তাঁর কবিতায় দেখিয়েছেন, অর্ধপৃথিবীর শাসক হয়েও উমর (রা.) কোনো অহংকার করতেন না। প্রজাদের ক্ষুধার হাহাকার দেখে তিনি নিজের কাঁধে আটার বোঝা বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং কুটিরে আগুন জ্বেলে নিজে রুটি বানিয়ে খাইয়েছিলেন।

উদ্দীপকের গভর্নরও ঠিক একইভাবে নিজের কাঁধে আটা বহন করে উমরের সেই কালজয়ী প্রজাবাৎসল্যের আদর্শকেই মূর্ত করেছেন।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতা): 'শাসক যখন সেবক হয়, তখনই পৃথিবীতে স্বর্গ নেমে আসে—উমর ফারুক কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।' ৪ নম্বর
উত্তর: উক্তিটি রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও মানবসভ্যতার এক কালোত্তীর্ণ চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে।

ইতিহাসের অধিকাংশ শাসক রাজপ্রাসাদে বসে বিলাসিতায় মত্ত থেকে প্রজাদের ওপর জুলুম চালিয়েছে। কিন্তু হযরত উমর (রা.) প্রমাণ করেছিলেন যে ক্ষমতার মূল অর্থ হলো জনগণের সেবা ও জবাবদিহিতা। তিনি সামান্যতম অন্যায়ের জন্যও নিজেকে অপরাধী মনে করতেন এবং ভৃত্যের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উদ্দীপকের গভর্নরও শাসকের অহংকার চূর্ণ করে সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মানবতার বিজয় ঘটিয়েছেন।

সুতরাং, শাসনক্ষমতাকে ভোগের বস্তু না বানিয়ে জনসেবা ও ইনসাফের আমানত হিসেবে গ্রহণ করলেই সমাজ বৈষম্যহীন ও শান্তির নীড়ে পরিণত হতে পারে—উভয় ক্ষেত্রেই এই দর্শন সুস্পষ্ট।

কবিতা ০৬: সেইদিন এই মাঠ — জীবনানন্দ দাশ

মূল থিম: মানুষের মরণশীলতা বনাম প্রকৃতির অবিনশ্বরতা ও রূপ-সৌন্দর্যের চিরন্তন প্রবাহ।
সৃজনশীল প্রশ্ন নং ১ (বোর্ড প্রশ্ন ও আল ফাতাহ চূড়ান্ত মডেল টেস্ট)
উদ্দীপক:
ইতিহাসের কত পরাক্রমশালী রাজা-বাদশাহ ও প্রতাপশালী সেনাপতি চিরতরে মাটির নিচে সমাহিত হয়েছেন। একসময়ের মুখরিত সাম্রাজ্য আজ ধুলায় বিলীন, কোনো প্রাসাদের চিহ্নও অবশিষ্ট নেই। কিন্তু নদী আজও তেমনি কলতান তুলে সাগরে ছুটে চলেছে, শরতের কাশফুল আজও বাতাসে দোলে আর সন্ধ্যার আকাশে নক্ষত্রেরা তেমনি আলো ছড়িয়ে যায়। মানুষ মরে যায়, কিন্তু পৃথিবীর সৌন্দর্য কখনো ফুরায় না।
মডেল উত্তর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেখুন (Click to View Answer)
ক (জ্ঞানমূলক): 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কোন প্রাচীন নগরীগুলোর ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে? ১ নম্বর
উত্তর: 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় ব্যাবিলন ও আসিরিয়া নগরীর ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে।
খ (অনুধাবনমূলক): 'এশিরিয়া ধূলা আজ—বেবিলন ছাই হয়ে আছে'—চরণটির অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা কর। ২ নম্বর
উত্তর: অতীতের অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও বিলাসবহুল আসিরীয় এবং ব্যাবিলনীয় সভ্যতা তাদের দম্ভ ও সামরিক শক্তি নিয়ে চিরতরে ধ্বংস হয়ে আজ ছাই ও ধূলিকণায় পরিণত হয়েছে। মানুষের তৈরি সাম্রাজ্য ও অহংকার যতই প্রতাপশালী হোক না কেন, কালের করাল গ্রাসে তা একদিন ধ্বংস হতে বাধ্য—এই নশ্বরতার রূপ বোঝাতেই কবি চরণটি লিখেছেন।
গ (প্রয়োগমূলক): উদ্দীপকের ভাবার্থ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার কোন মূল স্তবকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ৩ নম্বর
উত্তর: উদ্দীপকের মূল প্রতিপাদ্য 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার কেন্দ্রীয় সুর—'ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু ঘটলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক ছন্দ চিরন্তন'—এর সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

জীবনানন্দ দাশ কবিতায় গভীর বিষাদের সাথে উচ্চারণ করেছেন যে, একদিন তিনি হয়তো পৃথিবীতে থাকবেন না, কিন্তু এই মাঠ থাকবে, চালতাফুলে শিশিরের গন্ধ থাকবে, লক্ষ্মীপেঁচাটি তার খড়ির সুর বাজাবে এবং নদী বয়ে চলবে।

উদ্দীপকেও সাম্রাজ্যের ধ্বংস ও মানুষের মৃত্যুর বিপরীতে নদী ও কাশফুলের চিরন্তন বেঁচে থাকার রূপটি সমান্তরালভাবে বর্ণিত হয়েছে।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতা): 'সভ্যতার নশ্বরতার বিপরীতে প্রকৃতির শাশ্বত রূপই কবিতার মূল শিক্ষা—উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ কর।' ৪ নম্বর
উত্তর: উক্তিটি জীবনানন্দীয় জীবনদর্শনের গভীরতম উপলব্ধিকে তুলে ধরে।

মানুষ নিজেকে প্রকৃতির অধিপতি মনে করে বড় বড় প্রাসাদ ও সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। কিন্তু মহাকালের তুলনায় মানুষের অহংকার বালির বাঁধের মতোই ঠুনকো। আসিরিয়া ও ব্যাবিলন ছাই হয়ে গেলেও চালতাফুলের ওপর শিশিরের রূপ ও গন্ধ এক মুহূর্তের জন্যও হারিয়ে যায়নি। প্রকৃতি চিরতরুণ ও অফুরন্ত প্রাণের ধারক।

উদ্দীপকেও রাজা-বাদশাহদের বিলীন হওয়ার বিপরীতে প্রকৃতির অবিরাম প্রবাহকে তুলে ধরা হয়েছে।

অতএব, মানুষ মরণশীল এবং মানবসৃষ্ট সভ্যতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু নিসর্গের সৌন্দর্য ও মহাজাগতিক প্রবাহ শাশ্বত ও অবিনশ্বর—এটাই কবিতার চূড়ান্ত সত্য।

কবিতা ০৭: বৃষ্টি — ফররুখ আহমদ

মূল থিম: তৃষ্ণার্ত পৃথিবীর পুনর্জীবন, বৃষ্টির স্নিগ্ধ পরশ ও প্রকৃতির সজীব উল্লাস।
সৃজনশীল প্রশ্ন নং ১ (বোর্ড মডেল টেস্ট ও দাখিল প্রশ্ন সাজেশন)
উদ্দীপক:
টানা তিন মাস তীব্র তাপদাহে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছিল। খাল-বিল শুকিয়ে পানিশূন্য, গাছে গাছে শুকিয়ে যাওয়া পাতার আর্তনাদ। অবশেষে আষাঢ়ের কালো মেঘে আকাশ ঢেকে গেল এবং মুষলধারে নামল বৃষ্টি। সেই বারিধারায় স্নান করে রুক্ষ মাটি তার প্রাণ ফিরে পেল, কৃষকের মুখে হাসির বন্যা নামল এবং রাখাল বালকেরা বর্ষার জলে উল্লাসে মেতে উঠল।
মডেল উত্তর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেখুন (Click to View Answer)
ক (জ্ঞানমূলক): কবি ফররুখ আহমদ কোন ঐতিহ্যের কবি হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত? ১ নম্বর
উত্তর: কবি ফররুখ আহমদ মুসলিম রেনেসাঁ ও ইসলামী ঐতিহ্যের কবি হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
খ (অনুধাবনমূলক): বৃষ্টি নামার পর চরাচরে যে আনন্দ জেগে ওঠে তা বুঝিয়ে লেখ। ২ নম্বর
উত্তর: তীব্র দাবদাহে প্রকৃতির গাছপালা, পশুপাখি ও মেঠোপথ যখন নির্জীব হয়ে পড়েছিল, তখন বৃষ্টির আগমনে চারিদিকে সজীবতার জোয়ার আসে। তৃষ্ণার্ত মাটি জল পেয়ে নবপ্রাণ লাভ করে এবং বৃক্ষরাজি ধুয়ে-মুছে উজ্জ্বল সবুজ বর্ণ ধারণ করে। প্রকৃতি যেন তার সকল ক্লান্তি ধুয়ে ফেলে নতুন উৎসবে মেতে ওঠে।
গ (প্রয়োগমূলক): উদ্দীপকের কৃষকের উল্লাস 'বৃষ্টি' কবিতার কোন অনুভূতিকে ধারণ করে? ৩ নম্বর
উত্তর: উদ্দীপকের কৃষকের উল্লাস 'বৃষ্টি' কবিতায় বর্ণিত বৃষ্টির সঞ্জীবনী ধারায় মৃতপ্রায় পৃথিবীর নবজীবন লাভের আনন্দঘন অনুভূতিকে ধারণ করে।

ফররুখ আহমদ তাঁর কবিতায় বৃষ্টির ছন্দময় পতনকে প্রকৃতির মুক্তি ও জাগরণ হিসেবে দেখেছেন। মেঘের ডাকে চরাচর জেগে ওঠে এবং রুক্ষ পৃথিবীর বক্ষে সবুজ জীবনের সঞ্চার ঘটে।

উদ্দীপকেও দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর বৃষ্টির আগমনে কৃষকের মুখে যে স্বস্তির হাসি ফুটেছে, তা কবিতার সেই সঞ্জীবনী চেতনারই প্রতিফলন।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতা): 'বৃষ্টি কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, তা পুনর্জাগরণের প্রতীক—মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।' ৪ নম্বর
উত্তর: উক্তিটি কবিতার গভীর ব্যঞ্জনাকে সফলভাবে ব্যাখ্যা করে।

বৃষ্টি শুধুই মেঘের ঘনীভূত জলবিন্দু নয়; তা হলো জড়তা, হতাশা ও রুক্ষতার অবসান ঘটিয়ে নতুনের আবাহন। কবি বৃষ্টির শব্দের মাঝে শুষ্ক হৃদয়ে প্রাণের স্পন্দন শুনতে পান। যেমন করে বর্ষার জল মাটিকে উর্বর করে নতুন ফসলের জন্ম দেয়, তেমনি মানুষের মনেও তা আশার নতুন আলো জ্বালিয়ে দেয়।

উদ্দীপকের শুষ্ক মাঠে বৃষ্টির মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পাওয়ার চিত্রটি এই সত্যেরই বাস্তব রূপ।

সুতরাং, বৃষ্টিকে রূপক অর্থে হতাশাগ্রস্ত সমাজে নবজাগরণ ও নবজীবনের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করা সম্পূর্ণ সঙ্গত ও যুক্তিযুক্ত।

কবিতা ০৮: আমি কোনো আগন্তুক নই — আহসান হাবীব

মূল থিম: স্বদেশের সাথে চিরকালীন আত্মিক আত্মীয়তা, শেকড়ের অস্তিত্বের গভীর প্রত্যয় ও মাতৃভূমির সাথে একাত্মতা।
সৃজনশীল প্রশ্ন নং ১ (বোর্ড পরীক্ষা ও আল ফাতাহ দাখিল সাজেশন)
উদ্দীপক:
বহু বছর পর নিজের পিতৃভিটায় ফিরে এসেছেন বৃদ্ধ রমিজ উদ্দিন। বাড়ির উঠোন, পুরোনো শিউলিতলা, পাশের বাঁশঝাড় আর পুকুরঘাটের শ্যাওলা যেন তাঁকে এক পলকেই চিনে ফেলল। রমিজ উদ্দিন মাটি ছুঁয়ে বললেন, 'আমি এখানে কোনো অতিথি হয়ে আসিনি; এই মাটির ধূলিকণায় আমার শৈশবের ঘ্রাণ লেগে আছে, এই জমিনের প্রতিটি ঘাস আমার চিরকালের চেনা আপনজন।'
মডেল উত্তর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেখুন (Click to View Answer)
ক (জ্ঞানমূলক): 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবি কার সাক্ষী রেখে নিজের অস্তিত্বের কথা বলেছেন? ১ নম্বর
উত্তর: কবি আসমানের তারা, মাঠের ধূলি, নিশীথ বাঁশবাগান ও কদম আলীকে সাক্ষী রেখে নিজের অস্তিত্বের কথা বলেছেন।
খ (অনুধাবনমূলক): 'আমি কোনো আগন্তুক নই'—কবির এই দৃঢ় প্রত্যয়ের কারণ কী? ২ নম্বর
উত্তর: কবি এই বাংলায় কোনো অপরিচিত বিদেশি বা ক্ষণিকের অতিথি হিসেবে আসেননি। তিনি এই দেশের মাটির সাথে নাড়ির টানে যুক্ত। এ দেশের নিসর্গ, মানুষ, পাখি ও নদী তাঁর অন্তরের অংশ। স্বদেশের সাথে তাঁর এই চিরন্তন ও রক্তের সম্পর্ক প্রকাশ করতেই তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
গ (প্রয়োগমূলক): উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিনের বক্তব্যে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কোন মূল সুরটি প্রকাশ পেয়েছে? ৩ নম্বর
উত্তর: উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিনের বক্তব্যে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কেন্দ্রীয় সুর—'স্বদেশের মাটি ও প্রকৃতির সাথে নাড়ির টান এবং আত্মিক আত্মীয়তাবোধ'—সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

কবি আহসান হাবীব নিজেকে এই চরাচরের চিরকালের চিরচেনা সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি কোনো আগন্তুক নন, এই জমিনের জল-হাওয়াতেই তাঁর অস্তিত্ব প্রোথিত।

উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিনও পিতৃভিটায় ফিরে এসে নিজেকে কোনো বহিরাগত বা মেহমান মনে করেননি, বরং মাটির ধূলিকণাকে নিজের অস্তিত্বের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই গভীর দেশপ্রেমের দিক থেকে উভয় ভাব সমান্তরাল।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতা): 'মাটির সাথে মানুষের আত্মিক বন্ধনই দেশপ্রেমের আসল নির্যাস—কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।' ৪ নম্বর
উত্তর: উক্তিটি দেশপ্রেমের গভীরতম অর্থকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করে।

দেশপ্রেম কোনো বাহ্যিক স্লোগান বা আনুষ্ঠানিকতা নয়; তা হলো নিজের ভিটা, মাটি, নিসর্গ এবং সাধারণ মানুষের সাথে অন্তরের অবিচ্ছেদ্য সংযোগ। কবি যেভাবে জোনাকি, বাঁশবাগান আর কদম আলীর পাশে দাঁড়িয়ে নিজেকে চিরকালের ঘরের মানুষ হিসেবে দাবি করেছেন, তা নিখাদ মাটির টানেরই জয়গান।

উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিনও আধুনিকতার কৃত্রিমতা ছেড়ে শেকড়ের টানে ফিরে এসে মাটির সাথে সেই রক্তের সম্পর্ককে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন।

অতএব, মাটির সাথে এই আত্মিক একাত্মতাই সত্যিকার দেশপ্রেমের মূল প্রাণভোমরা—উভয় দৃষ্টান্তেই তা উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে।

কবিতা ০৯: তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা — শামসুর রাহমান

মূল থিম: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার অনিবার্য আগমন।
সৃজনশীল প্রশ্ন নং ১ (শীর্ষ বোর্ড ও দাখিল চূড়ান্ত প্রশ্নব্যাংক)
উদ্দীপক:
১৯৭১ সালের এক কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একটি শান্ত গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। এক অবলা নারী তার স্বামী ও দুই সন্তানকে চোখের সামনে হারিয়ে পাগলিনী বেশে পুড়ে যাওয়া উঠোনে বিলাপ করতে থাকে। গ্রামের এক সাহসী তরুণ রুস্তম তার ভাঙা রাইফেল কাঁধে তুলে নিয়ে শপথ করে, 'আমাদের রক্ত ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এই বাংলার আকাশে আমরা বিজয়ের রক্তিম সূর্য ছিনিয়ে আনবই।'
মডেল উত্তর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেখুন (Click to View Answer)
ক (জ্ঞানমূলক): 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় কার কপালে সিঁদুর মুছে গেল? ১ নম্বর
উত্তর: 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতায় সাকিনা বিবির কপালে সিঁদুর মুছে গেল।
খ (অনুধাবনমূলক): কবি কেন স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য আর কত রক্ত দিতে হবে বলে আক্ষেপ করেছেন? ২ নম্বর
উত্তর: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বাঙালি জাতিকে যে অপরিসীম আত্মত্যাগ, নির্যাতন ও রক্তগঙ্গা পেরোতে হয়েছিল, তার গভীর ট্র্যাজেডি তুলে ধরতেই কবি এই আক্ষেপ করেছেন। লাখো শহীদের রক্ত, মা-বোনের অশ্রু ও ধ্বংসস্তূপের যে মূল্য দিতে হয়েছে, তা স্মরণ করেই কবির এই ব্যাকুল উচ্চারণ।
গ (প্রয়োগমূলক): উদ্দীপকের গ্রামের অবলা নারীর আর্তনাদ 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার কোন চরিত্রের ট্র্যাজেডিকে স্মরণ করিয়ে দেয়? ৩ নম্বর
উত্তর: উদ্দীপকের অবলা নারীর আর্তনাদ শামসুর রাহমানের কবিতায় বর্ণিত স্বামীহারা সাকিনা বিবি এবং পিতা-মাতাহারা অবোধ শিশুর ট্র্যাজিক হাহাকারকে হুবহু স্মরণ করিয়ে দেয়।

কবি তাঁর কবিতায় দেখিয়েছেন, স্বাধীনতার রক্তমূল্য দিতে গিয়ে সাকিনা বিবির কপালের সিঁদুর মুছে গেছে এবং হরিদাসী সর্বস্ব হারিয়েছে। উঠোনে দাঁড়িয়ে অবলা নারী যেভাবে বিলাপ করছে, তা কবিতার সেই আত্মবলিদানের দৃশ্যকেই জীবন্ত করে তোলে।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতা): 'রুস্তমের প্রত্যয়ই তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা কবিতার মূল বার্তা—উক্তিটি মূল্যায়ন কর।' ৪ নম্বর
উত্তর: উক্তিটি সার্বিক পর্যালোচনায় অত্যন্ত নির্ভুল ও তাৎপর্যপূর্ণ।

কবিতাটি কেবল ধ্বংস ও কান্নার আলেখ্য নয়; এর মূল শক্তি হলো সকল প্রতিকূলতা ও রক্তক্ষয় পেরিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের অটল ও দৃঢ় সংকল্প। কবি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন—পৃথিবীর কোনো শক্তিই বাঙালির স্বাধীনতাকে রুখতে পারবে না, রক্তে ভেসে হলেও স্বাধীনতা আসবেই।

উদ্দীপকের তরুণ রুস্তমও স্বজন হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে রাইফেল হাতে বিজয়ের শপথ নিয়েছে। এই অপরাজেয় লড়াইয়ের চেতনাই হলো স্বাধীনতার মূল প্রেরণা।

সুতরাং, রুস্তমের আপসহীন প্রত্যয়ই শামসুর রাহমানের কবিতার শাশ্বত রণধ্বনিকে ধারণ করেছে—তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য।

কবিতা ১০: বোশেখ — আল মাহমুদ

মূল থিম: কালবৈশাখীর প্রলয়ঙ্করী রূপ, পুরাতন ও জীর্ণতার বিনাশ এবং নতুনের বিপ্লবী সৃজন।
সৃজনশীল প্রশ্ন নং ১ (বোর্ড মডেল প্রশ্ন ও আল ফাতাহ দাখিল সাজেশন)
উদ্দীপক:
চৈত্র শেষে চারদিকের প্রকৃতি যখন তীব্র গরমে মৃতপ্রায়, তখন উত্তর-পশ্চিম দিগন্তে কালো মেঘের গর্জন উঠল। কালবৈশাখীর উন্মত্ত ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়তে লাগল, ধূলিঝড়ে আকাশ আচ্ছন্ন হয়ে গেল। এই তাণ্ডব দেখে সাধারণ মানুষ ভীত হলেও এক কবি গাইলেন, 'ভেঙে ফেলো জীর্ণ-শীর্ণ পুরাতনকে, এই রুদ্র ঝড় আসুক সকল ভণ্ডামি ও অন্যায়কে উড়িয়ে দিতে, তবেই তো নতুন প্রাণের সূচনা হবে।'
মডেল উত্তর ও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেখুন (Click to View Answer)
ক (জ্ঞানমূলক): 'বোশেখ' কবিতার রচয়িতা আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কোন বিশেষ আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা? ১ নম্বর
উত্তর: আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ষাটের দশকের অন্যতম প্রধান কবি ও কথাসাহিত্যিক।
খ (অনুধাবনমূলক): কবি বৈশাখকে কেন প্রলয়ঙ্করী রুদ্র রূপে আহ্বান করেছেন? বুঝিয়ে লেখ। ২ নম্বর
উত্তর: বৈশাখ কেবল একটি ঋতু বা মাস নয়; তা হলো পুরাতন, জরাগ্রস্ত ও অসত্যকে চূর্ণ করার এক বিপ্লবী শক্তি। সমাজের স্থবিরতা ও অন্যায়ের জঞ্জাল দূর করে নতুন সৃষ্টির পথ তৈরি করতেই কবি বৈশাখকে সংহারক রুদ্র রূপে আহ্বান করেছেন।
গ (প্রয়োগমূলক): উদ্দীপকের কালবৈশাখীর তাণ্ডবে 'বোশেখ' কবিতার কোন রূপ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩ নম্বর
উত্তর: উদ্দীপকের কালবৈশাখীর ঝড়ে 'বোশেখ' কবিতায় চিত্রিত বৈশাখের প্রলয়ঙ্করী ও উন্মাতাল প্রাকৃতিক রূপ ফুটে উঠেছে।

আল মাহমুদ বৈশাখকে এক অজেয় শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখেছেন, যা আকাশ কাঁপিয়ে বিদ্যুৎ চমকে সমস্ত দুর্বলতা ও জড়তাকে ধ্বংস করে দেয়।

উদ্দীপকেও ঝড়ের আকাশ কাঁপানো তাণ্ডব প্রকৃতির সেই সংহারক ও অপ্রতিরোধ্য রূপটিকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
ঘ (উচ্চতর দক্ষতা): 'ধ্বংসের মাঝেই নতুন সৃষ্টির বীজ লুক্কায়িত—বোশেখ কবিতা ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।' ৪ নম্বর
উত্তর: উক্তিটি বৈশাখের চিরন্তন দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত এক ধ্রুব সত্য।

বাহ্যিকভাবে বৈশাখকে ধ্বংসাত্মক ও ভয়ংকর মনে হলেও তার আসল উদ্দেশ্য হলো নবজীবনের পথ প্রশস্ত করা। ঝড় যেমন পুরোনো শুকনো পাতা ও জীর্ণ ডালপালা ভেঙে প্রকৃতিকে নতুনের সাজে সাজিয়ে তোলে, তেমনি বিপ্লবী ঝড় সমাজ থেকে অন্যায় ও ভণ্ডামির অবসান ঘটায়।

উদ্দীপকের কবির গানেও ঝড়ের ধ্বংসলীলাকে জীর্ণতা মুক্তির উৎসব হিসেবে দেখা হয়েছে।

অতএব, বোশেখ হলো নবসৃষ্টির অগ্রদূত—ধ্বংসের ধ্বংসস্তূপের ওপর থেকেই যে নতুনের সূর্যোদয় ঘটে, কবিতা ও উদ্দীপক উভয়ই সেই বিপ্লবী সত্যের সাক্ষ্য দেয়।
ফারুক স্যার (মো. ওমর ফারুক)

ফারুক স্যার (মো. ওমর ফারুক)

শিক্ষাবিদ, বাংলা শিক্ষাক্রম গবেষক ও কনটেন্ট মেন্টর | প্রতিষ্ঠাতা, HelpTrickBD

বিগত ১২ বছরের অধিক সময় ধরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের পাঠদান ও বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। তাঁর রচিত সৃজনশীল কৌশল ও প্রশ্নব্যাংক প্রতি বছর হাজারো শিক্ষার্থীকে বাংলায় এ প্লাস (A+) অর্জনে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছে।

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!