

আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু লিরিক্স সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্যাবলী, সিলেবাস ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সূচিপত্র
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পবিত্র সত্তা ও তাঁর একত্ববাদের (তাওহিদ) প্রশংসায় অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার এক চিরন্তন আধ্যাত্মিক সুর হলো ‘আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু’। সুফি সাধক ও বুজুর্গানে দ্বীনের মজলিসে এই যিকিরটি মানুষের নফসের কালিমা দূর করে এবং আল্লাহর স্মরণে আত্মাকে নির্মল প্রশান্তি দান করে।
তাওহিদের মৌলিক সাক্ষ্য ও হৃদয়ের আর্তি এতে ছন্দোবদ্ধ রূপ লাভ করেছে। এই আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু লিরিক্স যথাযথভাবে অনুসরণ করলে পরীক্ষায় সর্বোত্তম ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
“আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর পরম ধারক ও পরিচালক।” (সূরা আল-বাকারা: ২৫৫)
‘আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু’ সম্পূর্ণ দীর্ঘ যিকির লিরিক্স (সকল মূল ও বিস্তৃত অন্তরা)
(তাওহিদের মূল কলিমা কোরাস)
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু!
ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু! এই আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু লিরিক্স যথাযথভাবে অনুসরণ করলে পরীক্ষায় সর্বোত্তম ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
(১ম অন্তরা: রহমান ও রহিম)
তুমি রহমান তুমি রহিম, তুমি যে আলিমুল হাকিম,
তোমার কুদরতে চলে নিখিল এই বিশ্ব জাহান চিরদিন!
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু!
(২য় অন্তরা: নিখিল জাহানের তাসবীহ)
চাঁদ-তারা আর সূর্য হাসে তোমারি মহিমার ইশারায়,
গাছের পাতা নদীর ধারা তোমারি পবিত্র গুণ গায়!
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু!
(৩য় অন্তরা: পাপীর মিনতি ও ক্ষমা)
পাপী বান্দা আমি প্রভু ক্ষমা করো আমার অপরাধ,
তোমার নামের জিকির দিয়ে পূর্ণ করো মনের সাধ!
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু!
(৪র্থ অন্তরা: জলে-স্থলে তোমারই জয়জয়কার)
জলে-স্থলে অন্তরীক্ষে তোমারি যে মহিমা অপার,
তুমি ছাড়া এই দুনিয়ায় নাই তো কোনো আশ্রয় আর!
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু!
(৫ম অন্তরা: খালেক ও রাজ্জাকের মহিমা)
তুমি খালেক তুমি মালেক তুমিই মোদের পরওয়ারদিগার,
ক্ষুদ্র কীট হতে মানবকুল সবার আহার যোগাও সার!
মায়ের কোলের চেয়েও বেশি দয়া তোমার বান্দার প্রতি,
তোমার নামের জিকিরেই তো অন্তরে জ্বলে পরম জ্যোতি!
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু!
(৬ষ্ঠ অন্তরা: নিশিরাতের একাকী মোনাজাত)
নিশিরাতে ডাকি তোমায় অশ্রু ঝরে দু’নয়নে,
তোমার নামের মধুর সুবাস ছড়িয়ে দাও মোর মনে!
দিলের কালিমা দূর করে দাও দাও অন্তরে ঈমানের নূর,
তোমার প্রেমেই মাতিয়ে রাখো দুনিয়ার সব মোহ কর দূর!
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু!
(৭ম অন্তরা: দিনের কাজে রাতের মাঝে জিকিরের সাধনা)
দিনের কাজে রাতের মাঝে তোমার স্মরণ থাকে যেন,
তোমার নামের নূরের ছোয়ায় অন্তর সদা হাসে যেন!
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু নূরু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ,
জীবন শেষে এই কলিমায় ধন্য করো ওগো আল্লাহ!
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু!
(৮ম অন্তরা: শেষ নিঃশ্বাসে কলিমা শাহাদাত ও কবর)
দম ফুরিয়ে যখন যাবে বন্ধ হবে এই দুটি চোখ,
জবান দিয়ে জারি রেখো কলিমা শাহাদাতের শ্লোক!
কবরের সেই আঁধার ঘরে তুমি ছাড়া কেহ নাই,
দয়ার চাদরে ঢেকে রেখো ওগো মাবুদ মোর সাঁই!
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু!
ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হু!
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু লিরিক্স – পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদিসে যিকরুল্লাহর মর্যাদা
আল্লাহর পবিত্র নাম স্মরণ করা মুমিনের অন্তরের খাদ্য। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ১৫২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে— “অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।”
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হযরত আবু মুসা আশ’আরী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন—
“যে ব্যক্তি তার প্রতিপালককে স্মরণ করে এবং যে ব্যক্তি স্মরণ করে না, তাদের উভয়ের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো।”
(সহীহ বুখারী: ৬৪০৭, সহীহ মুসলিম: ৭৭৯)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি জিকির করে সে আত্মিকভাবে জীবিত, আর যে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে থাকে তার অন্তর মৃত দেহের সমতুল্য। নিয়মিত জিকির অন্তরের মরচে দূর করে এবং পাপের অন্ধকার থেকে হৃদয়কে মুক্ত রাখে।
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু লিরিক্স – তাওহিদের মূল তত্ত্ব: নফি ও ইসবাতের গভীর দর্শন
যিকিরের মূল ভিত্তি হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাক্যাংশ। সুফি ও ইসলামী দার্শনিকগণ এটিকে দুটি শক্তিশালী ভাগে ব্যাখ্যা করেছেন:
- নফি (না-বাচক): ‘লা ইলাহা’ — কোনো সত্য উপাস্য নেই। এটি মানুষের হৃদয় থেকে পার্থিব ধন-সম্পদের অহংকার, ক্ষমতার দম্ভ, লোকদেখানো ভাব এবং নফসের কুপ্রবৃত্তিকে সমূলে বিনাশ করে দেয়।
- ইসবাত (হ্যাঁ-বাচক): ‘ইল্লাল্লাহ’ — একমাত্র আল্লাহ ছাড়া। এটি শূন্য ও পবিত্র হৃদয়ে একমাত্র স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব, ভালোবাসা ও বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করে।
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু লিরিক্স – আল্লাহর গুণবাচক নামের বরকত ও হৃদয়ের প্রশান্তি
ক্বাসিদার চরণগুলোতে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ আসমাউল হুসনার উল্লেখ রয়েছে— রহমান (পরম দয়াময়), রহিম (অতিশয় কৃপাশীল), আলিম (সর্বজ্ঞানী) এবং হাকিম (পরম প্রজ্ঞাময়)। সূরা আর-রা’দের ২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন— “জেনে রাখ, আল্লাহর যিকিরেই অন্তরসমূহ পরম শান্তি লাভ করে।” নিয়মিত জিকিরে মানুষের উদ্বেগ, হতাশা ও মানসিক বিষণ্ণতা দূর হয়ে আধ্যাত্মিক একাগ্রতা ও অন্তরের স্থিরতা তৈরি হয়।
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু লিরিক্স – যিকিরের বিভিন্ন স্তর ও পদ্ধতি
ইসলামী চিন্তাবিদগণ যিকিরকে তিনটি প্রধান স্তরে বিভক্ত করেছেন:
- যিকরে লিসানী (মৌখিক যিকির): জিহ্বা ও কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার বা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উচ্চারণ করা।
- যিকরে কলবী (অন্তরের যিকির): জিহ্বা নিশ্চুপ রেখে অন্তরের গভীরে আল্লাহর মহিমা ও কুদরত নিয়ে ধ্যানমগ্ন হওয়া।
- যিকরে আমলী (কর্মগত যিকির): জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর আদেশ মানা ও নিষেধ বর্জন করে চলা। এটিই হলো জিকিরের সর্বোচ্চ ও পূর্ণাঙ্গ রূপ।
আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহু লিরিক্স – সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
অফিসিয়াল তথ্যাবলী ও প্রাসঙ্গিক নীতিমালার জন্য বাংলাদেশ – উইকিপিডিয়া উন্মুক্ত বিশ্বকোষ ভিজিট করতে পারেন।