
বিভাগ: মাস্টার্স ফাইনাল রাষ্ট্রবিজ্ঞান | বিষয়কোড: ৩১১৯০৩ | ১০০% কমন স্পেশাল সাজেশন
সারসংক্ষেপ (Quick Overview):
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোর্স হলো ‘সামাজিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক উন্নয়ন’ (Social Change and Political Development – বিষয়কোড: ৩১১৯০৩)। উন্নয়নশীল ও তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহে আধুনিকায়ন, আমলাতন্ত্রের ভূমিকা, সামরিক হস্তক্ষেপ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং লুসিয়ান পাই ও স্যামুয়েল হান্টিংটনের তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত ২০২৬ সালের সেরা স্পেশাল সাজেশন ও মডেল উত্তরপত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
সূচিপত্র (Table of Contents)
- ১. সিলেবাস বিশ্লেষণ ও মানবণ্টন রূপরেখা
- ২. ক-বিভাগ: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও ১০০% প্রামাণ্য উত্তরমালা
- ৩. খ-বিভাগ: সংক্ষিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি
- ৪. গ-বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি (Super Selective)
- ৫. সামাজিক পরিবর্তন বনাম রাজনৈতিক উন্নয়নের তুলনামূলক ছক
- ৬. পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিতকরণের স্পেশাল টেকনিক
- ৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
২. ক-বিভাগ: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও প্রামাণ্য উত্তরমালা
- প্রশ্ন: লুসিয়ান পাই (Lucian Pye) রাজনৈতিক উন্নয়নের কয়টি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন?
উত্তর: ৩টি (সমতা, সক্ষমতা ও পৃথকীকরণ – Equality, Capacity, Differentiation)। - প্রশ্ন: ‘Political Order in Changing Societies’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
উত্তর: স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন (১৯৬৮ সালে প্রকাশিত)। - প্রশ্ন: সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি কী?
উত্তর: প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক রূপান্তর। - প্রশ্ন: রাজনৈতিক ক্ষয় (Political Decay) ধারণাটি কার?
উত্তর: স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন। - প্রশ্ন: রাজনৈতিক আধুনিকীকরণের একটি বৈশিষ্ট্য লিখুন।
উত্তর: ক্ষমতার যুক্তিসঙ্গত বিন্যাস ও নাগরিক অংশগ্রহণের প্রসার।
৩. খ-বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি
- ১. রাজনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক আধুনিকায়নের মধ্যে পার্থক্য দেখান।
- ২. সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান প্রতিবন্ধকতাসমূহ কী কী?
- ৩. রাজনৈতিক উন্নয়নের সংকট হিসেবে ‘বৈধতার সংকট’ (Crisis of Legitimacy) ব্যাখ্যা করুন।
- ৪. তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের কারণ সংক্ষেপে লিখুন।
৪. গ-বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি
- ১. রাজনৈতিক উন্নয়ন কী? লুসিয়ান ডব্লিউ পাই প্রদত্ত রাজনৈতিক উন্নয়নের বৈশিষ্ট্য ও উপসর্গগুলো বিস্তারিত আলোচনা করুন। (১০০% কমন)
- ২. স্যামুয়েল হান্টিংটনের রাজনৈতিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ (Institutionalization) তত্ত্বটি মূল্যায়ন করুন।
- ৩. উন্নয়নশীল দেশের সামাজিক পরিবর্তনে আমলাতন্ত্র ও সুশীল সমাজের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব বিশ্লেষণ করুন।
- ৪. রাজনৈতিক উন্নয়নের পথে বিদ্যমান সংকটসমূহ (Crises of Political Development) বিশদভাবে আলোচনা করুন।
৫. সামাজিক পরিবর্তন বনাম রাজনৈতিক উন্নয়নের তুলনামূলক ছক
| মানদণ্ড | সামাজিক পরিবর্তন (Social Change) | রাজনৈতিক উন্নয়ন (Political Development) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | সামাজিক কাঠামো, রীতিনীতি ও সম্পর্কের রূপান্তর | রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও জনসমর্থনের বিস্তার |
| পরিধি | সমগ্র সমাজের সকল অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক | শাসনব্যবস্থা, নীতিনির্ধারণ ও নাগরিক অধিকারের দিক |
৭. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
লুসিয়ান পাই-এর উন্নয়ন সিন্ড্রোম কী?
৫.১ স্যামুয়েল হান্টিংটনের ‘রাজনৈতিক অবক্ষয়’ তত্ত্বের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
আমেরিকান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Political Order in Changing Societies’ (১৯৬৮)-এ উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, দ্রুত সামাজিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক গণতন্ত্র বা স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে না; বরং তা প্রায়শই রাজনৈতিক অবক্ষয় (Political Decay) ডেকে আনে।
হান্টিংটনের মতে, যখন একটি সমাজে মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও সামাজিক প্রত্যাশা (Social Mobilization) দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু সেই অনুপাতে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা (Institutionalization) বাড়ে না, তখনই রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, অভ্যুত্থান এবং কর্তৃত্ববাদের আবির্ভাব ঘটে। অতএব, একটি দেশের টেকসই রাজনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।
৫.২ উন্নয়ন তত্ত্বের সমকালীন পর্যালোচনা ও নির্ভরশীলতা তত্ত্ব (Dependency Theory)
পশ্চিমা আধুনিকায়ন তত্ত্ব দাবি করেছিল যে ঐতিহ্যবাহী সমাজগুলো শিল্পায়ন ও শিক্ষার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক সমাজে রূপান্তরিত হবে। কিন্তু রাউল প্রেবিশ (Raúl Prebisch) এবং আন্দ্রে গুন্ডার ফ্রাঙ্ক (Andre Gunder Frank)-এর ‘নির্ভরশীলতা তত্ত্ব’ এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে।
তাঁদের মতে, বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা একটি ‘কেন্দ্র’ (Metropolis/Core) এবং ‘প্রান্ত’ (Satellite/Periphery) কাঠামোতে বিভক্ত। প্রান্তিক অনুন্নত দেশগুলো থেকে কাঁচামাল ও সস্তা শ্রম কেন্দ্রে পাচার হয়, যার ফলে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সামাজিক পরিবর্তন ঘটলেও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বা কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। অতএব, জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ কৃষি ও দেশীয় শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য।