রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বলতে কী বোঝায়?

প্রশ্ন: রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বলতে কী বোঝায়? What does the participation of women in politics mean?
ভূমিকা
রাজনৈতিক অংশগ্রহণ মূলত সেই সকল কার্যাবলিকে বুঝায় যার দ্বারা সরকারি সিদ্ধান্তসমূহকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। রাজনৈতিক অংশগ্রহণে মূলত নাগরিক স্বেচ্ছায় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে অংশগ্রহণ করে এবং বিভিন্ন কাজের সাথে নিজেকে সংযুক্ত করে। যেমন: মিছিল, মিটিং, সভা, ভোটদান ইত্যাদি। এগুলো দ্বারা সরকারি কাজগুলোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। আর এসব কাজে নারীর অংশগ্রহণই হলো রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ।
রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কী?
রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বিষয়টি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করা যায়। এর মূল অর্থ হলো সমাজের সার্বিক উন্নয়নের জন্য রাজনীতিতে নারীর অধিক অংশগ্রহণ এবং সকল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে 'ইউরোপিয়ান নেটওয়ার্ক অব এক্সপার্টস'-এর অভিমত হলো যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সকল স্তরে নারী ও পুরুষের ভারসাম্যপূর্ণ অংশগ্রহণ উন্নততর শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করে। এর ফলে শাসনব্যবস্থায় ভারসাম্য ফিরে আসে এবং গণতন্ত্র সুসংহত হয়।
নারীর পৃথক ইতিহাস নারীকে বিভিন্ন বিষয়ে নিজস্ব ও ভিন্ন রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। যার কারণে নারীর আচরণ, মূল্যবোধ ও ধারণা পৃথক ধরনের। সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ নতুন রাজনৈতিক সংহতি এবং ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে নতুন ধারণা প্রদান করে। এক্ষেত্রে নারীরা বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক স্থাপনে গুণগত মানের উপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন, কারণ নারীরা সাধারণত পুরুষের তুলনায় কম ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে থাকেন।
আরও পড়ুন:
নারীর অংশগ্রহণের কারণ ও গুরুত্ব
ডঃ নাজমা চৌধুরী জাতিসংঘের একটি গবেষণা রিপোর্টে নারীর অংশগ্রহণের ৫টি প্রধান কারণ দেখিয়েছেন। সেগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. গণতন্ত্র ও সমতা
রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ গণতন্ত্র ও সমতার প্রশ্ন। তবে পাশাপাশি এটি নাগরিক অধিকারেরও প্রশ্ন। সুতরাং গণতন্ত্র, সমতা ও নাগরিক অধিকারের দিক থেকে জনসংখ্যার অনুপাতে রাজনীতিতে তাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি অনস্বীকার্য।
২. স্বার্থের ভিন্নতা
নারী রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টি নারী-পুরুষের স্বার্থের ভিন্নতার উপর প্রতিষ্ঠিত। নারী তাদের মৌলিক সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে সম্যকভাবে ওয়াকিবহাল। কিন্তু রাজনীতিতে যদি তাদের যথার্থ প্রতিনিধি না থাকে, তবে তারা স্বার্থ উত্থাপন ও সংরক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
৩. মানব সম্পদের ব্যবহার
দেশের মানব সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার জন্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নারীরা জনসংখ্যার অর্ধেক, তাই তাদের বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
৪. গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বৈধতা
নারীর দুর্বল উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। কেননা রাজনৈতিক কাঠামো ও প্রক্রিয়ায় অপ্রতুল উপস্থিতির কারণে নারী সমাজ ও রাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যে বিরাট ব্যবধান থেকে যায়।
৫. রাজনীতির ফোকাস পরিবর্তন
রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের ফলে রাজনীতির মূল ফোকাসে পরিবর্তন এবং বিস্তৃতি ঘটবে। কেননা নারীর জীবনে যে বিষয়গুলো বা সমস্যার সাথে সম্পর্কিত, যে বিষয়গুলো ব্যক্তিগত বলে পরিচিত এবং রাজনীতির বাইরে বলে গণ্য হতো, সেগুলোও রাজনীতির বিষয়বস্তু হয়ে উঠবে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং রাজনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে। একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। অতএব, রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের জন্য তাদের আরও বেশি উৎসাহিত ও সুযোগ প্রদান করতে হবে।
পরীক্ষার প্রস্তুতি ও টিপস
- প্রশ্ন ধরন ও মান: এই প্রশ্নটি সাধারণত সংক্ষিপ্ত (৪ নম্বর) বা রচনামূলক (১০ নম্বর) হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরীক্ষায় আসতে পারে।
- উত্তর লেখার কৌশল: ভূমিকা দিয়ে শুরু করুন। এরপর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং ডঃ নাজমা চৌধুরীর ৫টি কারণ পয়েন্ট আকারে লিখুন। শেষে একটি সুন্দর উপসংহার দিন।
- সতর্কতা: 'রাজনৈতিক অংশগ্রহণ' এবং 'নারীর ক্ষমতায়ন' ধারণা দুটি গুলিয়ে ফেলবেন না। ডঃ নাজমা চৌধুরীর গবেষণা রিপোর্টের উল্লেখ করলে উত্তরটি বেশি নম্বর পাওয়ার যোগ্য হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কী?
উত্তর: নাগরিকের স্বেচ্ছায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে (যেমন ভোটদান, সভা-সমাবেশ) যুক্ত হয়ে সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বলে।
প্রশ্ন: রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ কেন জরুরি?
উত্তর: গণতন্ত্র সুসংহত করতে, নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে এবং নারীদের সমস্যাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি।
প্রশ্ন: ডঃ নাজমা চৌধুরী কে?
উত্তর: ডঃ নাজমা চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং গবেষক, যিনি নারী অধিকার ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে জাতিসংঘের হয়ে গবেষণা করেছেন।