নারীর ক্ষমতায়নে NGO দের ভূমিকা ও সুফল

Faruk Sir
0
নারীর ক্ষমতায়নে এনজিও (NGO) দের ভূমিকা ও সুফল

প্রশ্ন: নারীর ক্ষমতায়নে এনজিও (NGO) দের ইতিবাচক দিক সংক্ষেপে আলোচনা কর অথবা, নারীর ক্ষমতায়নে NGO এর সুফল তুলে ধর।

নারীর ক্ষমতায়নে এনজিও (NGO) দের ভূমিকা

ভূমিকা

সমাজ উন্নয়নের দুটি শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে নারী ও পুরুষ। কিন্তু আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত মূল্যায়ন করা হয় না। বর্তমানে সভ্যতার ক্রমবিকাশের ফলে মানুষজন ধীরে ধীরে নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। আর এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে অনুঘটক হিসেবে নারীর ক্ষমতায়নে NGO দের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এনজিও (NGO) দের ইতিবাচক দিক ও সুফল

সভ্যতার ক্রমোন্নতির ফলে বর্তমানে নারী-পুরুষের ব্যবধান দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এর পেছনে মূলত বিভিন্ন এনজিও (NGO) বা বেসরকারি সংস্থার নানামুখী পদক্ষেপ ও কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। নিম্নে এনজিওদের ইতিবাচক দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি

নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ক্ষুদ্রঋণ একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। বিভিন্ন এনজিও সংস্থা যে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প চালু করেছে, তা নারীদের কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে। এর ফলে তারা পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারছে, যা পরিবারে তাদের মর্যাদা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ: ক্ষুদ্রঋণ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সহায়তাই করে না, বরং নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।

২. নারী শিক্ষার বিকাশ

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং নারীর ক্ষমতায়নের চাবিকাঠি। বিভিন্ন এনজিও তাদের সুবিধাভোগী নারীদের প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ পরিচালনা করে থাকে। তাছাড়া এ সকল মায়েদের সন্তানদের সুশিক্ষার জন্যও এনজিওগুলো সহযোগিতা প্রদান করে, যার ফলে দেশে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৩. কুসংস্কার দূরীকরণ

বাংলাদেশের গ্রামাংলার অধিকাংশ মানুষ এখনও বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন। তারা নানা প্রাকৃতিক অপশক্তিসহ অবৈজ্ঞানিক বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে, আর এর প্রধান শিকার হয় নারীরা। বর্তমানে বিভিন্ন এনজিও গ্রামাঞ্চলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারের মাধ্যমে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের দ্বারা এই কুসংস্কার দূরীকরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।

৪. জন্মহার হ্রাস ও পরিবার পরিকল্পনা

একসময় নারীদের শুধুমাত্র সন্তান জন্মদানের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এনজিওগুলোর সহায়তায় নারীরা সচেতন ও স্বাবলম্বী হওয়ায় সন্তান নেওয়া বা না নেওয়ার ব্যাপারে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতে পারছে। পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার ফলে জন্মহার হ্রাসেও এনজিওরা সফল হয়েছে।

৫. নারী নির্যাতন হ্রাস

এনজিওগুলোর ব্যাপক ও বহুমুখী প্রচেষ্টার ফলে বর্তমানে বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে নারী নির্যাতন অনেকাংশে হ্রাস পাচ্ছে। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রীর মর্যাদাও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, যা পারিবারিক সহিংসতা ও নির্যাতন কমাতে সাহায্য করছে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায় যে, বিভিন্ন ধর্মীয়, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে নারী সমাজ যুগে যুগে লাঞ্ছিত ও নিপীড়িত হয়ে আসছিল। বর্তমান সভ্যতার উৎকর্ষতার যুগে বিভিন্ন এনজিও-এর যুগোপযোগী ও কল্যাণমুখী প্রচেষ্টার ফলে নারী সমাজ উন্নয়নের মূল ধারায় সংযুক্ত হয়েছে। নারীর এই অগ্রযাত্রায় এনজিও (NGO) দের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: NGO-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: NGO-এর পূর্ণরূপ হলো Non-Governmental Organization বা বেসরকারি সংস্থা।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে কোন এনজিওগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে?
উত্তর: ব্র্যাক (BRAC), গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, প্রশিকা এবং নারীপক্ষ ইত্যাদি সংস্থাগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

প্রশ্ন: ক্ষুদ্রঋণ কীভাবে নারীর ক্ষমতায়নে সাহায্য করে?
উত্তর: ক্ষুদ্রঋণ নারীদের নিজস্ব আয়ের উৎস তৈরি করে, যা তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশীদার করে এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দেয়।

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!