জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (National University, Bangladesh)-এর অধীনে স্নাতক (সম্মান), ডিগ্রি (পাস) এবং মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রকাশের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক পদ্ধতিতে জিপিএ (GPA) ও সম্মিলিত সিজিপিএ (CGPA) গণনা করা। ক্রেডিট পদ্ধতির জটিল নিয়ম, নন-ক্রেডিট আবশ্যিক ইংরেজি বিষয় এবং ইনকোর্স ও ব্যবহারিক নম্বরের প্রভাবে ম্যানুয়ালি রেজাল্ট হিসাব করতে গিয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিভ্রান্ত হন। শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তি দূর করতে হেল্পট্রিকবিডি নিয়ে এলো দেশের প্রথম সম্পূর্ণ ইন্টারেক্টিভ ও স্বয়ংক্রিয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিজিপিএ ক্যালকুলেটর ২০২৬। এই টুলের মাধ্যমে শিক্ষার্থী কেবল তাদের প্রাপ্ত লেটার গ্রেড বা নম্বর ইনপুট দিয়েই নয়, বরং ডিপার্টমেন্টভিত্তিক অফিসিয়াল সিলেবাস অটো-লোড এবং রেজাল্ট টেক্সট কপি-পেস্ট করে মুহূর্তে নির্ভুল সিজিপিএ ও ক্লাস (First Class / Second Class) যাচাই করতে পারবেন।
এনইউ সিজিপিএ ক্যালকুলেটরের মূল বৈশিষ্ঠ্য একনজরে | Tool Overview
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪.০০ স্কেল ভিত্তিক এই ক্যালকুলেটরে রয়েছে: ১. ইয়ার-ওয়াইজ লাইভ স্লাইডার সিজিপিএ ক্যালকুলেটর, ২. ডিপার্টমেন্ট ও সিলেবাস অটো-লোড সুবিধা সহ বিষয়ভিত্তিক জিপিএ গণনা, ৩. টার্গেট ফার্স্ট ক্লাস (৩.০০) প্ল্যানার এবং ৪. মানোন্নয়ন (Improvement) পরীক্ষার প্রভাব সিমুলেটর। এছাড়া ফলাফল সরাসরি অফিসিয়াল প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও গ্রেড শিট আকারে শতভাগ প্রফেশনাল ১-পাতা A4 PDF হিসেবে প্রিন্ট বা সংরক্ষণের সুবিধা যুক্ত রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিজিপিএ ক্যালকুলেটর ২০২৬
অনার্স, ডিগ্রি পাস ও মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, নির্ভুল ও তাৎক্ষণিক রেজাল্ট মূল্যায়ন ব্যবস্থা
বার্ষিক জিপিএ ইনপুট দিন
ইনপুট বা স্লাইডার ব্যবহার করুনফলাফল ড্যাশবোর্ড
স্নাতক (সম্মান)জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাতিষ্ঠানিক ট্রান্সক্রিপ্ট প্রিভিউ
| শিক্ষার্থীর নাম: | পরীক্ষার্থী (Examinee) | মোট অর্জিত ক্রেডিট: | 128 Credits |
| কলেজ / প্রতিষ্ঠান: | জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ | মোট গ্রেড পয়েন্ট: | 0.00 |
| সেশন / রেজি. নং: | ২০২০-২১ (নিয়মিত) | চূড়ান্ত অর্জিত CGPA: | 0.00 (আউট অব ৪.০০) |
| ডিগ্রি ও শিক্ষাবর্ষ: | স্নাতক (সম্মান) চার বছর | একাডেমিক শ্রেণি/ক্লাস: | - |
| ক্রমিক | শিক্ষাবর্ষ / কোর্স বিবরণ | ক্রেডিট ঘণ্টা | লেটার গ্রেড | পয়েন্ট (GP) | মোট পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|---|
| সর্বমোট ফলাফল সারসংক্ষেপ: | 128 | - | 0.00 | 0.00 | |
ভেরিফিকেশন কি: HTBD-NU26-VAL
মূল্যায়ন স্ট্যাটাস: সিস্টেম ভেরিফাইড (PASS)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিজিপিএ ক্যালকুলেটর কী ও কেন এটি ব্যবহার করবেন?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান), তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) এবং এক বা দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের ফলাফল মূল্যায়নে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। সনাতন শতকরা নম্বরের পরিবর্তে এখন প্রতিটি কোর্সে গ্রেড পয়েন্ট (GP) এবং বছর শেষে গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ (GPA) হিসাব করা হয়। চার বছরের সমস্ত কোর্সের সমন্বয়ে তৈরি হয় ফাইনাল কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ বা সিজিপিএ (CGPA)।
অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, চার বছরের জিপিএ সাধারণ যোগ করে চার দিয়ে ভাগ করলেই বুঝি সিজিপিএ পাওয়া যায়। এটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা! কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোর্সের ক্রেডিট সমান নয়। কোনো কোর্স ৪ ক্রেডিটের (১০০ নম্বর), কোনো কোর্স ২ ক্রেডিটের (৫০ নম্বর) আবার ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার ক্রেডিট ভিন্ন হয়ে থাকে। ক্রেডিট-ওয়েটেড পদ্ধতি অনুসরণ না করে হিসাব করলে ফলাফলে বড় ধরনের গরমিল দেখা দেয়। হেল্পট্রিকবিডির এই ক্যালকুলেটরটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল একাডেমিক অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ক্রেডিট-ওয়েটেড এভারেজ ফর্মুলা ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শতভাগ নির্ভুল ফলাফল প্রদর্শন করে।
সরাসরি ফ্র্যাকশনাল বা কাস্টম পয়েন্ট ইনপুট সুবিধা: অনেক শিক্ষার্থী তাদের নির্দিষ্ট পরীক্ষার নম্বরপত্র অনুযায়ী বা মানোন্নয়ন পর্যালোচনায় ড্রপডাউনের বাঁধা-ধরা লেটার গ্রেডের বাইরে যেকোনো কাস্টম ফ্র্যাকশনাল পয়েন্ট (যেমন: ৩.৪৫, ৩.১৮, ৩.৬০ ইত্যাদি) সরাসরি ইনপুট দিয়ে রেজাল্ট পরীক্ষা করতে চান। হেল্পট্রিকবিডি ক্যালকুলেটরে প্রতিটি কোর্সের পাশে লেটার গ্রেডের পাশাপাশি সরাসরি পয়েন্ট (GP) টাইপ করার স্বতন্ত্র ঘর যুক্ত করা হয়েছে। লেটার গ্রেড সিলেক্ট করলে পয়েন্ট ঘরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পয়েন্ট বসে যায়, আবার সরাসরি পয়েন্ট টাইপ করলে ক্যালকুলেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই সুনির্দিষ্ট পয়েন্টের ভিত্তিতে শতভাগ নির্ভুল ক্রেডিট-ওয়েটেড সিজিপিএ নির্ধারণ করে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল গ্রেডিং স্কেল ও মার্কস বণ্টন ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইউজার ফ্রেন্ডলি ৪.০০ পয়েন্ট স্কেল অনুসরণ করে। নিম্নে শতকরা নম্বর, লেটার গ্রেড এবং অর্জিত গ্রেড পয়েন্টের অফিসিয়াল তালিকা প্রদান করা হলো:
| শতকরা নম্বর (%) | লেটার গ্রেড (Letter Grade) | গ্রেড পয়েন্ট (GP) | একাডেমিক মূল্যায়ন |
|---|---|---|---|
| ৮০% থেকে ১০০% | A+ | 4.00 | অসামান্য (Outstanding) |
| ৭৫% থেকে ৭৯% | A | 3.75 | চমৎকার (Excellent) |
| ৭০% থেকে ৭৪% | A- | 3.50 | অতি উত্তম (Very Good) |
| ৬৫% থেকে ৬৯% | B+ | 3.25 | উত্তম (Good) |
| ৬০% থেকে ৬৪% | B | 3.00 | সন্তোষজনক (Satisfactory) |
| ৫৫% থেকে ৫৯% | B- | 2.75 | পাস (Above Average) |
| ৫০% থেকে ৫৪% | C+ | 2.50 | সাধারণ (Average) |
| ৪৫% থেকে ৪৯% | C | 2.25 | গড়পড়তা (Below Average) |
| ৪০% থেকে ৪৪% | D | 2.00 | নিম্ন পাস (Poor Pass) |
| ৪০% এর নিচে | F | 0.00 | অকৃতকার্য (Fail) |
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও ডিভিশন নির্ধারণের নীতিমালা
চাকরির পরীক্ষায় বা উচ্চশিক্ষায় আবেদনের ক্ষেত্রে প্রায়ই প্রথম শ্রেণি (First Class) বা দ্বিতীয় শ্রেণি (Second Class)-এর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ থাকে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ স্কেল অনুযায়ী ক্লাস সমতুল্যতার নিয়ম নিম্নরূপ:
- প্রথম শ্রেণি (First Class): সিজিপিএ ৩.০০ থেকে ৪.০০ (CGPA 3.00 to 4.00)। এই রেঞ্জে থাকলে শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ বলে গণ্য হন।
- দ্বিতীয় শ্রেণি (Second Class): সিজিপিএ ২.২৫ থেকে ২.৯৯ (CGPA 2.25 to 2.99)। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষার্থী এই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হন।
- তৃতীয় শ্রেণি (Third Class): সিজিপিএ ২.০০ থেকে ২.২৪ (CGPA 2.00 to 2.24)। এটি স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের ন্যূনতম পাস মানদণ্ড।
- ফেল বা ডিগ্রি অপ্রাপ্ত: সিজিপিএ ২.০০-এর নিচে পেলে শিক্ষার্থী কোনো ডিগ্রি অর্জন করতে পারবেন না। তাকে মানোন্নয়ন বা রি-অ্যাডমিশনের মাধ্যমে সিজিপিএ ২.০০ এ উন্নীত করতে হবে।
সিজিপিএ হিসাব করার গাণিতিক ফর্মুলা ও বাস্তব উদাহরণ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল রেগুলেশন অনুযায়ী সিজিপিএ নির্ণয়ের মৌলিক সূত্রটি হলো:
বা, CGPA = ∑ (Credit × Grade Point) ÷ ∑ (Total Credits)
বাস্তব উদাহরণ: ধরি একজন শিক্ষার্থী চার বছরে মোট ১২৮ ক্রেডিট সম্পন্ন করেছেন।
• ১ম বর্ষ (৩২ ক্রেডিট): জিপিএ ৩.১০ → ক্রেডিট পয়েন্ট = ৩২ × ৩.১০ = ৯৯.২০
• ২য় বর্ষ (৩২ ক্রেডিট): জিপিএ ২.৮৫ → ক্রেডিট পয়েন্ট = ৩২ × ২.৮৫ = ৯১.২০
• ৩য় বর্ষ (৩২ ক্রেডিট): জিপিএ ৩.০০ → ক্রেডিট পয়েন্ট = ৩২ × ৩.০০ = ৯৬.০০
• ৪র্থ বর্ষ (৩২ ক্রেডিট): জিপিএ ৩.২০ → ক্রেডিট পয়েন্ট = ৩২ × ৩.২০ = ১০২.৪০
মোট ক্রেডিট পয়েন্ট: ৯৯.২০ + ৯১.২০ + ৯৬.০০ + ১০২.৪০ = ৩৮৮.৮০
ফাইনাল CGPA: ৩৮৮.৮০ ÷ ১২৮ = ৩.০৩ (First Class / ১ম শ্রেণি)!
নন-ক্রেডিট আবশ্যিক ইংরেজি ও ব্যবহারিক বিষয়ের নিয়মাবলী
অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ নম্বরের একটি ইংরেজি আবশ্যিক (Non-Credit English, কোর্স কোড: ২২১১০৯) বিষয় থাকে। অনেক শিক্ষার্থীই দুশ্চিন্তায় থাকেন যে এতে খারাপ করলে বুঝি সিজিপিএ কমে যাবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পষ্ট নীতিমালা হলো:
- ইংরেজি আবশ্যিক বিষয়ের ক্রেডিট সংখ্যা ০ (Zero Credit)। তাই এতে আপনি A+ পান বা D পান, এটি আপনার বার্ষিক জিপিএ বা সার্বিক সিজিপিএ-তে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
- তবে পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩৩ নম্বর পেয়ে পাস করা বাধ্যতামূলক। কোনো শিক্ষার্থী ফেল করলে তাকে পরবর্তী ব্যাচের সাথে পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হবে। অন্যথায় অনার্স পাসের চূড়ান্ত মূল সনদপত্র প্রদান করা হবে না।
- বিজ্ঞান অনুষদের ক্ষেত্রে ব্যবহারিক ও ইনকোর্স পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্র্যাকটিক্যাল সাধারণত ২ বা ৪ ক্রেডিটের হয়ে থাকে এবং এতে ভালো গ্রেড (A বা A+) পাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ, যা সামগ্রিক সিজিপিএ অনেক বৃদ্ধি করে।
মানোন্নয়ন (Improvement) পরীক্ষার সুযোগ ও সর্বোচ্চ গ্রেড সীমা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো কোর্সে খারাপ ফলাফল হলে তা শুধরে নেওয়ার জন্য মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। তবে এর কিছু কড়া নিয়ম রয়েছে:
- শুধুমাত্র C (২.২৫), D (২.০০) অথবা F (০.০০) গ্রেড প্রাপ্ত কোর্সেই মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়া যায়। কোনো বিষয়ে C+ (২.৫০) বা তার বেশি গ্রেড থাকলে আর মানোন্নয়ন দেওয়া যায় না।
- মানোন্নয়ন পরীক্ষায় যত ভালো নম্বরই পান না কেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সর্বোচ্চ B+ গ্রেড (গ্রেড পয়েন্ট ৩.২৫) প্রদান করা হবে। শিক্ষার্থী ১০০ তে ৯০ পেলেও তার গ্রেড B+ হিসেবেই গণনায় আসবে।
- যদি মানোন্নয়ন পরীক্ষায় আগের চেয়ে কম গ্রেড আসে, তবে পূর্বের ভালো গ্রেডটিই রেজাল্ট শিটে বহাল রাখা হয়।
সিজিপিএ ৩.০০+ (ফার্স্ট ক্লাস) নিশ্চিত করার ৫টি পরীক্ষিত মাস্টার টিপস
চার বছরের অনার্স যাত্রায় অনেক শিক্ষার্থী শুরুতে হেলাফেলা করে ৩য় বা ৪র্থ বর্ষে এসে সিজিপিএ বাড়ানোর জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েন। আপনি যদি প্রথম শ্রেণি নিশ্চিত করতে চান, তবে নিচের কৌশলগুলো মেনে চলুন:
- ১ম ও ২য় বর্ষ থেকেই ৩.০০ টার্গেট রাখুন: ১ম ও ২য় বর্ষের সিলেবাস তুলনামূলক সহজ থাকে। এই সময়ে ৩.১০ থেকে ৩.২০ তুলে রাখলে পরবর্তীতে কঠিন বর্ষগুলোতেও সিজিপিএ ৩.০০-এর নিচে নামে না।
- ইনকোর্স ও টার্ম পেপারে পুরো নম্বর আদায়: প্রতিটি ১০০ নম্বরের বিষয়ে ২০ নম্বর থাকে ইনকোর্সে। শিক্ষকদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে এবং যথাসময়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে ২০-এ ১৮-১৯ নিশ্চিত করতে হবে।
- 'F' গ্রেড কোনো অবস্থাতেই আসতে দেবেন না: একটি F গ্রেড পুরো বছরের জিপিএ এক ধাক্কায় ০.৪০ থেকে ০.৫০ নামিয়ে দেয়। ন্যূনতম পাস মার্ক ৪০ যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে।
- বোর্ডের বিগত ৫ বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত পরীক্ষায় প্রায় ৬০-৭০% প্রশ্ন পূর্ববর্তী বছরগুলোর ফাইনাল পরীক্ষা থেকে ঘুরেফিরে আসে। বিগত ৫ বছরের বোর্ড প্রশ্ন মুখস্থের মতো আয়ত্ত করুন।
- পয়েন্ট ও চার্টভিত্তিক খাতা উপস্থাপন: ঢালাও প্যারাগ্রাফ লেখার চেয়ে উত্তরপত্রে সাব-হেডিং, বুলেট পয়েন্ট, ডাটা চার্ট এবং উদ্ধৃতি ব্যবহার করলে পরীক্ষক সর্বোচ্চ নম্বর প্রদান করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিজিপিএ সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট কত ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়?
চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) কোর্সে সাধারণত প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৩২ ক্রেডিট করে ৪ বছরে সর্বমোট ১২৮ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়। কিছু বিশেষ বিভাগে ব্যবহারিক বেশি থাকায় ক্রেডিট সামান্য কম-বেশি হতে পারে।
২. সিজিপিএ কত পেলে ১ম শ্রেণি বা ফার্স্ট ক্লাস গণ্য হবে?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ফাইনাল সিজিপিএ ৩.০০ (CGPA 3.00) বা তার বেশি অর্জন করলে তা প্রথম শ্রেণি (First Class) হিসেবে গণ্য হবে। ২.২৫ থেকে ২.৯৯ পর্যন্ত ২য় শ্রেণি এবং ২.০০ থেকে ২.২৪ পর্যন্ত ৩য় শ্রেণি।
৩. নন-ক্রেডিট ইংরেজি ফেল করলে কি সিজিপিএ ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
না, ইংরেজি আবশ্যিক বিষয়ের ক্রেডিট সংখ্যা ০ হওয়ায় এতে অর্জিত গ্রেড সিজিপিএ গণনায় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে স্নাতক সনদ পাওয়ার জন্য এতে ন্যূনতম ৩৩ নম্বর পেয়ে পাস করা বাধ্যতামূলক।
৪. ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিলে কি A+ পাওয়া সম্ভব?
না, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী মানোন্নয়ন পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে ৯০ নম্বর পেলেও সর্বোচ্চ B+ গ্রেড (গ্রেড পয়েন্ট ৩.২৫) প্রদান করা হয়।
৫. কোনো বর্ষে এফ (F) গ্রেড থাকলে কি সিজিপিএ হিসাব করা সম্ভব?
হ্যাঁ, তবে F গ্রেডের গ্রেড পয়েন্ট হলো ০.০০। এটি মোট ক্রেডিটের সাথে যুক্ত হয়ে গড় সিজিপিএ ব্যাপকভাবে হ্রাস করে। পরবর্তী বর্ষে পরীক্ষা দিয়ে F গ্রেড ক্লিয়ার করলে নতুন গ্রেড পয়েন্ট যুক্ত হয়ে সিজিপিএ বৃদ্ধি পাবে।
৬. ডিগ্রি (পাস) কোর্সের সিজিপিএ কি একই নিয়মে গণনা করা হয়?
হ্যাঁ, ডিগ্রি (পাস) কোর্সেও একই ৪.০০ পয়েন্ট গ্রেডিং স্কেল কার্যকর। তবে ডিগ্রি কোর্স ৩ বছর মেয়াদি হওয়ায় মোট ক্রেডিট সাধারণত ৮৪ থেকে ৯০ ক্রেডিট হয়ে থাকে।
৭. পরবর্তী বর্ষে প্রমোশনের জন্য ন্যূনতম সিজিপিএ কত লাগে?
অনার্স ১ম বর্ষ থেকে ২য় বর্ষে প্রমোশনের জন্য ন্যূনতম CGPA ২.০০ এবং ৩টি বিষয়ে পাস প্রয়োজন। পরবর্তী বর্ষগুলোতেও ন্যূনতম সিজিপিএ ২.০০ বজায় রাখা আবশ্যক।
৮. মাস্টার্স কোর্সের সিজিপিএ স্কেল কি ভিন্ন?
না, মাস্টার্স ফাইনাল বা প্রিলিমিনারিতেও একই ৪.০০ স্কেল ব্যবহৃত হয়। মাস্টার্স ফাইনালে সাধারণত ৩২ থেকে ৩৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়।
৯. হেল্পট্রিকবিডি সিজিপিএ ক্যালকুলেটর কি অফলাইনে কাজ করে?
হ্যাঁ, একবার পেজটি লোড হয়ে গেলে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও এটি ক্লায়েন্ট-সাইড জাভাস্ক্রিপ্ট দ্বারা সম্পূর্ণ অফলাইনে মসৃণভাবে গণনা সম্পন্ন করতে পারে।
১০. ব্রাউজার রিফ্রেশ করলে কি আমার ইনপুট করা রেজাল্ট মুছে যাবে?
না! আমাদের ক্যালকুলেটরে লোকাল স্টোরেজ (LocalStorage) অটো-সেভ ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে পেজ বন্ধ বা রিফ্রেশ করলেও আপনার ইনপুট করা রেজাল্ট সম্পূর্ণ নিরাপদ সংরক্ষিত থাকবে।
১১. লেটার গ্রেড ছাড়া কি সরাসরি দশমিক বা কাস্টম পয়েন্ট দিয়ে সিজিপিএ হিসাব করা যায়?
হ্যাঁ! আমাদের ক্যালকুলেটরে প্রতিটি বিষয়ের জন্য লেটার গ্রেডের পাশাপাশি "পয়েন্ট (GP)" ঘর রয়েছে। আপনি চাইলে লেটার গ্রেড ড্রপডাউন স্পর্শ না করেই যেকোনো ফ্র্যাকশনাল বা সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট (যেমন: ৩.৫৫, ৩.১২, ২.৮৫ ইত্যাদি) সরাসরি লিখে মুহূর্তেই সঠিক সিজিপিএ গণনা করতে পারবেন।