জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ডিজিটালাইজেশন ও একিউএ গ্লোবাল চুক্তি: পরীক্ষা ও মূল্যায়নে ঐতিহাসিক পরিবর্তন

Faruk Sir
0
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা ডিজিটালাইজেশন ও একিউএ গ্লোবাল চুক্তি ২০২৬
ছবি: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ডিজিটালাইজেশন ও যুক্তরাজ্যের একিউএ গ্লোবালের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর রূপরেখা

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল পরীক্ষা পরিচালনা, খাতা মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রকাশের সামগ্রিক প্রক্রিয়া আধুনিক, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা মূল্যায়ন সংস্থা একিউএ গ্লোবাল (AQA Global)-এর সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। দেশের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী এই আন্তর্জাতিক সংস্থার এটিই সর্বপ্রথম কৌশলগত অংশীদারিত্ব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তর ঘটবে, শিক্ষকদের খাতা দেখার মানবিক ভুল হ্রাস পাবে এবং শিক্ষার্থীদের অর্জিত যোগ্যতায় যুক্ত হবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অক্সফোর্ড একিউএ (OxfordAQA) অ্যাক্রেডিটেশন।

সংক্ষেপে মূল ঘোষণা ও তাৎপর্য | Quick Summary

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর ক্যাম্পাসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং একিউএ গ্লোবালের আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালক শন ক্রোলি (Sean Crowley)-এর উপস্থিতিতে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এর মূল লক্ষ্য পরীক্ষা পদ্ধতিকে প্রযুক্তিনির্ভর করা, সেশনজট স্থায়ীভাবে দূর করা, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ঝুঁকি কমানো এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রিকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য সরাসরি আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করা।

অফিসিয়াল তথ্যসূত্র: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সংগৃহীত ও বিশ্লেষিত

একনজরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও একিউএ গ্লোবাল চুক্তি রূপরেখা | Strategic Framework

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বৃহত্তম উচ্চশিক্ষা পরিবার। সারা দেশে দুই হাজারেরও বেশি অধিভুক্ত কলেজে প্রায় ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এত বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা পরিচালনা করা একটি অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রশাসনিক কাজ। নিচে সম্পাদিত চুক্তির মূল তথ্যগুলো একনজরে তুলে ধরা হলো:

মূল বিষয় চুক্তির মূল বিবরণ শিক্ষার্থীদের বাস্তব সুফল
চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (বাংলাদেশ) ও একিউএ গ্লোবাল (যুক্তরাজ্য) বিশ্বমানের ব্রিটিশ কারিগরি ও মূল্যায়ন সহযোগিতা প্রাপ্তি
চুক্তির আনুষ্ঠানিক তারিখ ০১ অক্টোবর ২০২৬ চলমান শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর
ডিজিটালাইজেশনের পরিধি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন, ওএমআর ট্র্যাকিং ও খাতা মূল্যায়ন মানবিক ভুল দূরীকরণ ও উত্তরপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সনদে অক্সফোর্ড একিউএ (OxfordAQA) অ্যাক্রেডিটেশন সংযোজন বিদেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার ও আন্তর্জাতিক চাকরিতে বিশেষ অগ্রাধিকার
বাস্তবায়ন কৌশল প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কোর্সে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু ঝুঁকিমুক্ত ও নির্ভরযোগ্যভাবে সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ
জাতীয় শিক্ষানীতি সমন্বয় বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (BNQF) এবং আউটকাম বেজড এডুকেশন (OBE) বাস্তবায়ন

একিউএ গ্লোবাল (AQA Global) আসলে কী ও তাদের বৈশ্বিক ভূমিকা | About AQA

যুক্তরাজ্যের Assessment and Qualifications Alliance (AQA) হলো বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং যুক্তরাজ্যের সর্ববৃহৎ অ্যাকাডেমিক অ্যাসেসমেন্ট বোর্ড। যুক্তরাজ্যের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ৬০ শতাংশেরও বেশি GCSE এবং A-Level পরীক্ষা এই সংস্থার অধীনে পরিচালিত হয়।

বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস (Oxford University Press)-এর সাথে যৌথভাবে একিউএ পরিচালনা করে OxfordAQA, যা মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও ইউরোপের শীর্ষ আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্মত কারিকুলাম ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এই সংস্থার চুক্তি নিছক কোনো সাধারণ আইটি চুক্তি নয়, বরং এটি যুক্তরাজ্যের শতবর্ষের পরীক্ষিত অ্যাকাডেমিক মানদণ্ডকে সরাসরি বাংলাদেশের কলেজগুলোতে নিয়ে আসার একটি সাহসী উদ্যোগ।

পরীক্ষা ও মূল্যায়নে যে ৫টি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে | 5 Transformative Impacts

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় বাস্তবভিত্তিক বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে:

১. খাতা মূল্যায়নে মানবিক ভুল (Human Error) শূন্যে নামানো

সনাতন পদ্ধতিতে শিক্ষকরা যখন হাজার হাজার খাতা ম্যানুয়ালি মূল্যায়ন করেন, তখন অনেক সময় প্রশ্নের নম্বর যোগে ভুল হওয়া, কোনো উত্তরের মার্কস মিস হওয়া বা ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাটে অসঙ্গতি দেখা দেয়। একিউএ গ্লোবালের সহায়তায় ডিজিটাল স্ক্রিনিং ও সেন্ট্রাল ট্যাবুলেশন চালু হলে কম্পিউটারাইজড ভ্যালিডেশনের মাধ্যমে নম্বর হিসাবের অসঙ্গতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরা পড়বে। এর ফলে নিরীক্ষায় নম্বর পরিবর্তনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কমে যাবে।

২. দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রকাশ ও সেশনজট নিরসন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সংকট ছিল সময়মতো পরীক্ষা শেষ হলেও খাতা পাঠানো, মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে প্রধান কেন্দ্রে নম্বর পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়া। ডিজিটাল পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় মার্কস সরাসরি অনলাইনে সাবমিট ও ভেরিফাই হবে। ফলে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে, যা সেশনজট সম্পূর্ণ দূর করতে সহায়ক হবে।

৩. সনদে অক্সফোর্ড একিউএ (OxfordAQA) স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় আক্ষেপ ছিল যে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক সময় বাংলাদেশের কলেজ ডিগ্রির ক্রেডিট সরাসরি মানতে গড়িমসি করত। একিউএ গ্লোবালের ইন্টারন্যাশনাল ডিরেক্টর নিশ্চিত করেছেন, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সনদে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে যুক্তরাজ্য, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি পাওয়া বহুগুণ সহজ হবে।

৪. আউটকাম বেজড এডুকেশন (OBE) ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশ্নপদ্ধতি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাতার পর পাতা লিখে পাস করার সনাতন ধারা বদলে দেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়নে বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (BNQF) এবং আউটকাম বেজড এডুকেশন (OBE) কাঠামো কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনে বিষয়টির প্রয়োগ কতটা শিখেছে, তা মূল্যায়নের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।

৫. উত্তরপত্র ডিজিটাল আর্কাইভিং ও জালিয়াতি রোধ

পরীক্ষার উত্তরপত্র নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ডিজিটালি স্ক্যান করে ক্লাউড সার্ভারে এনক্রিপ্ট করে সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে উত্তরপত্র গায়েব হয়ে যাওয়া, খাতা পরিবর্তন বা নম্বর জালিয়াতির সব অপচেষ্টা চিরতরে বন্ধ হবে। যেকোনো শিক্ষার্থী চ্যালেঞ্জ করলে তার ডিজিটাল স্ক্রিপ্ট স্বচ্ছভাবে রিভিউ করা সম্ভব হবে।

পাইলট প্রকল্পের রূপরেখা: কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এই ডিজিটাল রূপান্তর?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসেন জানিয়েছেন, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে একবারে এই পদ্ধতি চাপিয়ে দিলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। তাই অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে একটি পাইলট প্রকল্প (Pilot Project) হাতে নেওয়া হয়েছে:

  • প্রাথমিক পর্যায়: শুরুতে নির্দিষ্ট একটি প্রফেশনাল বা স্নাতক (অনার্স) কোর্সকে পাইলট হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। সেখানে প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত সব ধাপ একিউএ গ্লোবালের সহায়তায় ডিজিটাল সিস্টেমে পরিচালিত হবে।
  • ফিডব্যাক ও ত্রুটি সংশোধন: পাইলট প্রজেক্টে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে তা চিহ্নিত করে সফটওয়্যার ও প্রটোকল আরও পরিমার্জন করা হবে।
  • পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন: পাইলট প্রকল্পের সন্তোষজনক সাফল্যের পর ধাপে ধাপে নিয়মিত স্নাতক (অনার্স), ডিগ্রি (পাস) এবং স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ের সকল নিয়মিত পরীক্ষায় এটি কেন্দ্রীয়ভাবে সম্প্রসারণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ও শীর্ষ প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

"জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এত বড় পরিসরে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছ হোক। একই সঙ্গে যেখানে মানবিক ভুলের সুযোগ রয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটিও কমিয়ে আনতে হবে। একিউএ গ্লোবালের সঙ্গে এই সহযোগিতা সেই সুযোগ তৈরি করেছে।"

— অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

"এই সহযোগিতার বিষয়টি শুধু পরীক্ষা পদ্ধতির উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের অর্জিত যোগ্যতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সুযোগও এখানে রয়েছে। অক্সফোর্ড একিউএ-এর অ্যাক্রেডিটেশন শিক্ষার্থীদের সনদে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে তা দেশে ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।"

— শন ক্রোলি (Sean Crowley), আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালক, একিউএ গ্লোবাল

অফিসিয়াল তথ্যসূত্র ও প্রজ্ঞাপন লিংক | Official Notice Link

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর কর্তৃক জারি করা মূল নথি:

শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ) | Frequently Asked Questions

প্রশ্ন ১: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কি এখন সব পরীক্ষা অনলাইনে বা ঘরে বসে অনুষ্ঠিত হবে?
উত্তর: না, সব পরীক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে ঘরে বসে অনলাইনে হবে না। পরীক্ষা যথারীতি অনুমোদিত পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ডিজিটালাইজেশন মূলত প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা ও ট্র্যাকিং, ওএমআর শিটের নির্ভুল স্ক্যানিং, শিক্ষকদের খাতা দেখার নম্বর অনলাইনে দ্রুত সাবমিশন এবং স্বয়ংক্রিয় ট্যাবুলেশনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
প্রশ্ন ২: অক্সফোর্ড একিউএ (OxfordAQA) অ্যাক্রেডিটেশন থাকলে শিক্ষার্থীদের কী লাভ হবে?
উত্তর: অক্সফোর্ড একিউএ আন্তর্জাতিকভাবে একটি সম্মানজনক ও বিশ্বস্ত অ্যাকাডেমিক ব্র্যান্ড। এই সংস্থার অ্যাক্রেডিটেশন সনদে যুক্ত থাকলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, ক্রেডিট ট্রান্সফার এবং আন্তর্জাতিক চাকরির আবেদনে কোনো প্রকার অতিরিক্ত মূল্যায়ন বাধার সম্মুখীন হবেন না।
প্রশ্ন ৩: এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার ফলে কি সেশনজট কমে আসবে?
উত্তর: হ্যাঁ, নিশ্চিতভাবেই সেশনজট ব্যাপক হারে কমে আসবে। আগে যেখানে শিক্ষকদের খাতা দেখা ও পোস্টাল মাধ্যমে খাতা পাঠানোর কারণে ৩ থেকে ৫ মাস সময় লাগত, ডিজিটাল মার্কিং ও রিয়েল-টাইম ডাটা এন্ট্রির ফলে পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে।
প্রশ্ন ৪: বর্তমান অনার্স ও ডিগ্রি কোর্সের শিক্ষার্থীরা কি এই সুবিধা পাবে?
উত্তর: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে শুরুতে একটি নির্দিষ্ট কোর্স দিয়ে পাইলট প্রজেক্ট পরিচালিত হবে। পাইলট প্রকল্পের সফল সমাপনী ও কারিগরি পর্যালোচনার পর পর্যায়ক্রমে সকল নিয়মিত অনার্স ও ডিগ্রি বর্ষের পরীক্ষার্থীদের এই ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রশ্ন ৫: ফলাফল চ্যালেঞ্জ বা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসবে?
উত্তর: উত্তরপত্র ডিজিটালি সংরক্ষিত ও ট্র্যাক করায় কোনো শিক্ষার্থী ফল চ্যালেঞ্জ করলে অতি দ্রুত সেন্ট্রাল ডিজিটাল রেকর্ড দেখে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। ফলে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি সম্পূর্ণ দূর হবে।
ফারুক স্যার (মো. ওমর ফারুক)

ফারুক স্যার (মো. ওমর ফারুক)

শিক্ষাবিদ ও অ্যাকাডেমিক গবেষক | প্রতিষ্ঠাতা, HelpTrickBD

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা পাঠ্যক্রম পর্যালোচনায় দীর্ঘ এক দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অ্যাকাডেমিক মেন্টর ও শিক্ষা গবেষক।

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!