সারসংক্ষেপ উত্তর: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ (৩০ নম্বর) শিক্ষাবর্ষ জুড়ে ধারাবাহিক 'শিখনকালীন মূল্যায়ন' এবং বাকি ৭০ শতাংশ (৭০ নম্বর) বছরের শেষে চূড়ান্ত 'বার্ষিক লিখিত পরীক্ষা (সামষ্টিক মূল্যায়ন)'-র মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। পূর্বের ত্রিভুজ-বৃত্তের পরিবর্তে প্রতিটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের ওপর ভিত্তি করে সনাতন ও সর্বজনীন জিপিএ ৫.০ (GPA 5.0) স্কেলে শিক্ষার্থীদের মেধা গ্রেড প্রকাশ করা হবে।
মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবর্ষ সমাপনী বার্ষিক পরীক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশেষ করে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া এবং বোর্ড পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার ফলাফল সরাসরি ভূমিকা রাখে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় মূল্যায়ন পদ্ধতিতে যুগান্তকারী স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। জটিল পারদর্শিতার সূচকের (PI) বদলে স্পষ্ট নম্বর প্রদান ও গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক সকলের জন্যই মূল্যায়নের চিত্র এখন অত্যন্ত সুস্পষ্ট। নিচে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন, পরীক্ষার সময়সূচি এবং জিপিএ ৫ পাওয়ার সেরা কৌশল বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির মূল্যায়ন নীতি ২০২৬ একনজরে | Examination Framework
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) জারিকৃত প্রজ্ঞাপন (স্মারক নম্বর: ৩৭.০২.০০০০.১০৭.৩১.১৫০.২০২৩.০৩) অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। এই কাঠামো অনুযায়ী ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণিতে মোট ৮০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ লিখিত পরীক্ষা এবং ৯ম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ভিত্তিতে মোট ১২৫০ নম্বরের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়:
জরুরি তথ্য ও বিভ্রান্তি নিরসন: ৭০/৩০ খসড়া বনাম চূড়ান্ত গেজেট
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া '৭০% লিখিত ও ৩০% শিখনকালীন' নম্বর বিভাজনটি একটি প্রাথমিক অপ্রকাশিত খসড়া আলোচনা ছিল। মাউশির চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী তা বাতিল করে স্পষ্ট বিষয়ভিত্তিক লিখিত নম্বর কাঠামো (৮০০ ও ১২৫০ নম্বর) কার্যকর করা হয়েছে। শিখনকালীন মূল্যায়ন শুধুমাত্র শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক আচরণ ও দক্ষতার রেকর্ড হিসেবে রিপোর্ট কার্ডে সংরক্ষিত থাকে, যা মূল গ্রেড পয়েন্ট বা পাসের শর্তকে পরিবর্তন করে না।
৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ মানবণ্টন (মোট ৮০০ নম্বর) | Class 6 to 8 Marks Distribution
৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণিতে ৮টি মূল বিষয়ের ওপর মোট ৮০০ নম্বরের চূড়ান্ত মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিষয়ের লিখিত (সৃজনশীল ও নৈর্ব্যক্তিক) এবং ব্যবহারিক বিভাজন নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | মোট পূর্ণমান | লিখিত / পরীক্ষার কাঠামো | বিশেষ প্রশ্নোত্তর ধরন ও নির্দেশনা |
|---|---|---|---|
| বাংলা ১ম পত্র | ১০০ নম্বর | সৃজনশীল ৭০ + নৈর্ব্যক্তিক ৩০ | গদ্য ও কবিতা অংশ থেকে সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি প্রশ্ন |
| বাংলা ২য় পত্র | ৫০ নম্বর | ব্যাকরণ ৩০ + নির্মিতি ২০ | ধ্বনি, শব্দ, বাক্য এবং বাংলা ব্যাকরণ ও বাগধারা ও অনুচ্ছেদ |
| ইংরেজি ১ম পত্র (English 1st) | ১০০ নম্বর | Reading Test 50 + Writing Test 50 | Seen Passage, Information Transfer, Summary ও Paragraph |
| ইংরেজি ২য় পত্র (English 2nd) | ৫০ নম্বর | Grammar 30 + Composition 20 | Tense, Preposition, Right Form of Verbs ও Formal Letter |
| গণিত (Mathematics) | ১০০ নম্বর | সৃজনশীল ৭০ + নৈর্ব্যক্তিক ৩০ | পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি ও পরিসংখ্যান অংশ |
| বিজ্ঞান (Science) | ১০০ নম্বর | সৃজনশীল ৭০ + নৈর্ব্যক্তিক ৩০ | পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও পরিবেশ বিজ্ঞান অংশ |
| বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | ১০০ নম্বর | সৃজনশীল ৭০ + নৈর্ব্যক্তিক ৩০ | ইতিহাস, ভৌগোলিক পরিবেশ, অর্থনীতি ও নাগরিক জীবন |
| ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা | ১০০ নম্বর | সৃজনশীল ৭০ + নৈর্ব্যক্তিক ৩০ | ধর্মীয় অনুশাসন, নৈতিক মূল্যবোধ ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থের আদর্শ |
| তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) | ৫০ নম্বর | লিখিত/নৈর্ব্যক্তিক ২৫ + ব্যবহারিক ২৫ | কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও অনলাইন সচেতনতা |
| মোট লিখিত সামষ্টিক পরীক্ষা | ৮০০ নম্বর | ৮টি আবশ্যিক বিষয়ের ওপর বার্ষিক চূড়ান্ত সামষ্টিক মূল্যায়ন | |
বি.দ্র.: শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক ৫০ নম্বরের ধারাবাহিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এই নম্বর শিক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্ট গড়ে (GPA) যুক্ত হয় না, বরং সামগ্রিক প্রগ্রেস রিপোর্টে প্রদর্শিত হয়।
৯ম শ্রেণির বিভাগভিত্তিক চূড়ান্ত মানবণ্টন কাঠামো (মোট ১২৫০ নম্বর) | Class 9 Group Blueprint
৯ম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়াশোনা করে। এই স্তরে সর্বমোট ১২৫০ নম্বরের মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয় (আবশ্যিক ৭৫০ + বিভাগভিত্তিক ৩০০ + ৪র্থ বিষয় ১০০ + ধারাবাহিক ১০০)। নিচে প্রতিটি বিভাগের স্পষ্ট ছক তুলে ধরা হলো:
| বিভাগ / পর্যায় | বিষয়সমূহ | নম্বর বরাদ্দ | পরীক্ষার বিবরণ ও শর্ত |
|---|---|---|---|
| সকল বিভাগের আবশ্যিক বিষয় (Common Subjects) | বাংলা ১ম (১০০), বাংলা ২য় (৫০), ইংরেজি ১ম (১০০), ইংরেজি ২য় (৫০), গণিত (১০০), ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা (১০০), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (৫০) | ৫৫০ নম্বর | বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক |
| শাখাভিত্তিক আবশ্যিক বিষয় |
বিজ্ঞান বিভাগের জন্য: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১০০) মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার জন্য: সাধারণ বিজ্ঞান (১০০) |
১০০ নম্বর | সৃজনশীল ৭০ + নৈর্ব্যক্তিক ৩০ |
| ১. বিজ্ঞান বিভাগ (Science Group) | পদার্থবিজ্ঞান (১০০), রসায়ন (১০০), জীববিজ্ঞান / উচ্চতর গণিত (১০০) | ৩০০ নম্বর | প্রতিটি বিষয়ে: সৃজনশীল ৫০ + নৈর্ব্যক্তিক ২৫ + ব্যবহারিক ২৫ |
| ২. মানবিক বিভাগ (Humanities Group) | ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (১০০), ভূগোল ও পরিবেশ (১০০), পৌরনীতি ও নাগরিকতা / অর্থনীতি (১০০) | ৩০০ নম্বর | প্রতিটি বিষয়ে: সৃজনশীল ৭০ + নৈর্ব্যক্তিক ৩০ |
| ৩. ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ (Business Studies) | হিসাববিজ্ঞান (১০০), ব্যবসায় উদ্যোগ (১০০), ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং (১০০) | ৩০০ নম্বর | সৃজনশীল ৭০ + নৈর্ব্যক্তিক ৩০ (হিসাববিজ্ঞানে গাণিতিক সমস্যা) |
| ঐচ্ছিক / ৪র্থ বিষয় (Optional Subject) | কৃষি শিক্ষা / গার্হস্থ্য বিজ্ঞান / উচ্চতর গণিত / অর্থনীতি | ১০০ নম্বর | জিপিএ বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত পয়েন্ট সুবিধা |
| ধারাবাহিক মূল্যায়ন বিষয়াবলি | শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলা (৫০) এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা (৫০) | ১০০ নম্বর | প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অভ্যন্তরীণ ধারাবাহিক মূল্যায়ন |
| ৯ম শ্রেণির সর্বমোট মূল্যায়ন | ১২৫০ নম্বর | এসএসসি পরীক্ষার হুবহু আদলে চূড়ান্ত মূল্যায়ন | |
৮ম ও ৯ম শ্রেণির ১০০ নম্বরের বিষয়সমূহের আদর্শ বণ্টন (বাংলা, গণিত ও সমাজ)
- সৃজনশীল লিখিত অংশ (CQ): মোট ৭০ নম্বর। মোট ১১টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে, যার মধ্য থেকে যেকোনো ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে (৭ × ১০ = ৭০ নম্বর)। সময়: ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। শিক্ষার্থীকে গদ্য, কবিতা ও উপন্যাস/নাটক থেকে নির্ধারিত শর্ত মেনে প্রশ্ন বাছাই করতে হবে।
- বহুনির্বাচনি অংশ (MCQ): মোট ৩০ নম্বর। ৩০টি প্রশ্ন থাকবে এবং প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ নম্বর। কোনো নেগেটিভ মার্কিং নেই। সময়: ৩০ মিনিট। বিস্তারিত অনুশীলনের জন্য আমাদের এসএসসি বাংলা মডেল টেস্ট ও প্রশ্নব্যাংক অনুসরণ করতে পারেন।
- মোট সময়: ৩ ঘণ্টা (প্রথমে ৩০ মিনিটে নৈর্ব্যক্তিক ও পরে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে সৃজনশীল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে)।
৯ম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার বিশেষ বিষয়সমূহ (পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান)
বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিকযুক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে মাউশির বোর্ড স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নম্বর বিন্যাস নির্ধারিত:
- সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ): ৫০ নম্বর (৮টি প্রশ্নের মধ্যে যেকোনো ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, ৫ × ১০ = ৫০)।
- বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ): ২৫ নম্বর (২৫টি প্রশ্নের সবগুলোর উত্তর দিতে হবে, ২৫ × ১ = ২৫)।
- ব্যবহারিক পরীক্ষা (Practical): ২৫ নম্বর (ল্যাব এক্সপেরিমেন্ট ১৫ + মৌখিক ৫ + ব্যবহারিক নোটবুক ৫)।
ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্রের ১০০ ও ৫০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ বিভাজন
ইংরেজি বিষয়ে মোট ১৫০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় (১ম পত্র ১০০ ও ২য় পত্র ৫০):
- English 1st Paper (১০০ নম্বর): Reading Test (৫০ নম্বর) ও Writing Test (৫০ নম্বর)। Seen/Unseen Passage, Gap Filling, Information Transfer, Summary, Paragraph ও Story Writing।
- English 2nd Paper (৫০ নম্বর): Grammar Items (৩০ নম্বর) ও Composition (২০ নম্বর)। Cloze test, Changing sentences, Tag questions, Sentence connectors এবং Formal letter/Email। পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য এসএসসি ইংরেজি ২য় পত্র ফাইনাল সাজেশন সহায়ক হবে।
ফলাফল নির্ধারণ ও গ্রেডিং স্কেল (GPA 5.0 ক্যালকুলেশন মেথড) | Grading System
প্রতিটি বিষয়ে প্রাপ্ত মোট নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষা বোর্ডের মানদণ্ড অনুযায়ী জিপিএ গ্রেডিং স্কেল কার্যকর হয়। প্রতিটি গ্রেডের সীমা ও পয়েন্ট নিচে সুস্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হলো:
| নম্বর সীমা (Marks Range) | অক্ষর গ্রেড (Letter Grade) | গ্রেড পয়েন্ট (Grade Point - GP) | মূল্যায়নের মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ৮০ – ১০০ | A+ (এ প্লাস) | ৫.০০ (5.00) | অসামান্য (Outstanding) |
| ৭০ – ৭৯ | A (এ) | ৪.০০ (4.00) | খুব ভালো (Very Good) |
| ৬০ – ৬৯ | A- (এ মাইনাস) | ৩.৫০ (3.50) | ভালো (Good) |
| ৫০ – ৫৯ | B (বি) | ৩.০০ (3.00) | সন্তোষজনক (Satisfactory) |
| ৪০ – ৪৯ | C (সি) | ২.০০ (2.00) | উন্নতি প্রয়োজন (Passable) |
| ৩৩ – ৩৯ | D (ডি) | ১.০০ (1.00) | প্রান্তিক পাস (Marginal Pass) |
| ০ – ৩২ | F (এফ) | ০.০০ (0.00) | অকৃতকার্য (Failed) |
বার্ষিক পরীক্ষায় এ প্লাস (A+) পাওয়ার কৌশল ও ৩ ঘণ্টার টাইম ম্যানেজমেন্ট | Exam Strategy
পরীক্ষার হলে শুধু পড়া থাকলেই ভালো ফল পাওয়া যায় না; সময়ের সঠিক সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক শিক্ষার্থী সব প্রশ্নের উত্তর জানা সত্ত্বেও সময় ব্যবস্থাপনার অভাবে শেষ প্রশ্নগুলো অপূর্ণ রেখে আসে। ৩ ঘণ্টার পরীক্ষাকে নিচের টাইম বাজেটে ভাগ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে:
৩ ঘণ্টার নিখুঁত সময় বণ্টন চার্ট (Time Budgeting Formula)
- প্রথম ৩০ মিনিট (নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা): প্রশ্ন পাওয়ার পর মনোযোগ দিয়ে বৃত্ত ভরাট করুন। নিশ্চিত উত্তরগুলো আগে দাগিয়ে নিন; অস্পষ্ট প্রশ্ন নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করবেন না।
- পরবর্তী ৫ মিনিট (প্রশ্ন নির্বাচন ও পরিকল্পনা): সৃজনশীল প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর দ্রুত চোখ বুলিয়ে যে ৭টি প্রশ্নের ক, খ, গ, ঘ চারটি অংশই আপনার সবচেয়ে ভালো জানা আছে, সেগুলো চিহ্নিত করুন।
- প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য ২১ মিনিট:
• (ক) জ্ঞানমূলক প্রশ্ন (১ নম্বর): সর্বোচ্চ ১ থেকে দেড় মিনিট (সরাসরি ১-২ বাক্যে উত্তর)।
• (খ) অনুধাবনমূলক প্রশ্ন (২ নম্বর): ৩ থেকে ৪ মিনিট (দুটি প্যারায় স্পষ্ট ব্যাখ্যা)।
• (গ) প্রয়োগমূলক প্রশ্ন (৩ নম্বর): ৬ থেকে ৭ মিনিট (উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের মেলবন্ধন)।
• (ঘ) উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন (৪ নম্বর): ৮ থেকে ৯ মিনিট (তুলনামূলক মূল্যায়ন ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত)। - শেষ ১০ মিনিট (খাতা রিভিশন ও চেক): খাতার মার্জিন, রোল নম্বর, প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর ও অতিরিক্ত পৃষ্ঠা (লুজ শিট)-এর নম্বর সঠিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে কি না তা মিলিয়ে দেখুন। পরীক্ষার হলের নিখুঁত নিয়ম জানতে আমাদের পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা গাইডটি পড়তে পারেন।
শিক্ষার্থীদের যে ৫টি মারাত্মক ভুল পরিহার করতে হবে | Avoidable Mistakes
অভিজ্ঞ শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা প্রায়শই নিচের ভুলগুলোর কারণে কাঙ্ক্ষিত নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়:
- শিখনকালীন মূল্যায়নের খাতা যথাসময়ে জমা না দেওয়া: অনেকে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে শিখনকালীন ৩০ নম্বরের প্রজেক্ট বা খাতা জমা দিতে অবহেলা করে। অথচ এই ৩০ নম্বর চূড়ান্ত জিপিএ ৫ অর্জনের সবচেয়ে সহজ ভিত্তি।
- জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনে অপ্রয়োজনীয় বড় উত্তর লেখা: ১ নম্বরের জ্ঞানমূলক প্রশ্নে আধা পৃষ্ঠা লিখলেও পরীক্ষক ১ নম্বরের বেশি দেবেন না; বরং এতে সময় নষ্ট হয়ে ৪ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর ছোট হয়ে যায়।
- উদ্দীপকের হুবহু লাইন তুলে দেওয়া: সৃজনশীল প্রশ্নের প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতায় উদ্দীপকের কথা হুবহু না লিখে পাঠ্যবইয়ের তত্ত্বের আলোকে নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ উপস্থাপন করতে হবে।
- জ্যামিতিতে পেন্সিলের বদলে কলম ব্যবহার: গণিত পরীক্ষায় উপপাদ্য বা সম্পাদ্যের চিত্র সবসময় শার্প পেন্সিল ও স্কেল দিয়ে পরিচ্ছন্নভাবে আঁকতে হবে।
- নেতিবাচক ও কাটাকাটিপূর্ণ উপস্থাপনা: খাতায় বারবার কাটাকাটি করলে পরীক্ষকের মনস্তাত্ত্বিক বিরক্তি তৈরি হয়। কোনো শব্দ ভুল হলে একটি মাত্র সরল দাগ দিয়ে কেটে পাশে শুদ্ধ শব্দটি লিখুন।
অফিসিয়াল তথ্যসূত্র ও পোর্টাল নির্দেশিকা | Official References
এই আর্টিকেলে উপস্থাপিত সকল মানবণ্টন, প্রশ্নের কাঠামো ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি ও মাউশির অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপন দ্বারা অনুমোদিত। পাঠক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সরকারি মূল প্রজ্ঞাপন ও বিষয়ভিত্তিক নির্দেশিকার সরাসরি পিডিএফ (PDF) ডাউনলোড লিংক নিচে সংযুক্ত করা হলো:
-
৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির পরিমার্জিত বিষয়-কাঠামো ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা (PDF):
সরাসরি মূল মূল্যায়ন গাইডলাইন পিডিএফ ডাউনলোড করুন [Official PDF] -
মাউশি অফিসিয়াল প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপন ও স্মারক পরিপত্র (PDF):
মাউশি সরকারি স্মারক প্রজ্ঞাপন কপি ডাউনলোড [Official Circular PDF] -
সকল শ্রেণির বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা ও সিলেবাস প্যাকেজ (ZIP):
সকল বিষয়ের বিস্তারিত নম্বর বিভাজন ফাইল ডাউনলোড [Official ZIP]
- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপন পেজ: dshe.gov.bd/pages/notices (মূল্যায়ন নির্দেশনা নোটিশ)
- মাউশি চলমান নোটিশ বোর্ড: dshe.gov.bd/pages/notices (মাউশি সকল নোটিশ)
- শিক্ষা মন্ত্রণালয় (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ): shed.gov.bd/pages/notices (মন্ত্রণালয় পরিপত্র শাখা)
- বিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ড: নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক কর্তৃক নির্ধারিত চূড়ান্ত রুটিন ও পরীক্ষার বিশেষ নির্দেশনা।
