রাসূল (স.) এর প্রেমে সিদ্দিকে আকবরের কান্না
সহকারী অধ্যাপক
%20%E0%A6%8F%E0%A6%B0%20%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%BE%20%E0%A6%93%20%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%97.webp)
ইসলামের ইতিহাসে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর প্রতি হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর ভালোবাসা এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন রাসূল (স.)-এর আজীবনের সাথী, হিজরতের সঙ্গী এবং বিপদের বন্ধু। নিজের জান-মাল সবকিছু তিনি রাসূলের কদমে উৎসর্গ করেছিলেন। এই প্রবন্ধে আমরা জানব তাঁর শৈশব, রাসূলের প্রেমে তাঁর কান্নার ঘটনা এবং হিজরতের সময় তাঁর অসামান্য আত্মত্যাগের কাহিনী।
পরিচয়
- নাম: আবদুল্লাহ
- উপনাম: আবু বকর
- উপাধি: সিদ্দীক ও আতিক
- পিতার নাম: ওসমান (উপনাম: আবু কুহাফা)
- মাতার নাম: সালমা (উপনাম: উম্মুল খাইর)
- জন্ম: আমুল ফিলের প্রায় আড়াই বছর পর মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। (খুতবাতে মুহররম)
শৈশবকাল ও মূর্তিপূজার বিরোধিতা
আ'লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত আলাইহির রাহমাহ ওয়ার রিদওয়ান স্বীয় কিতাব تنزية المكانة الحيدرية এর ১৩ পৃষ্ঠায় লিখেন যে, আবু বকর সিদ্দিক রা.-এর পিতা আবু কুহাফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (তিনি পরবর্তীতে সাহাবী হয়েছেন) জাহেলী যুগে তাকে শৈশবে মুর্তিআলয়ে নিয়ে যান এবং মুর্তিগুলোর দিকে দেখিয়ে বলেন- هذه الهتك السم العلى فاسجد لها "এগুলো তোমার বুলন্দ, মর্যাদাবান খোদা। এগুলোকে সেজদা কর।"
পিতার নির্দেশ শুনে শিশু সিদ্দিকে আকবর একটি মূর্তির কাছে গিয়ে বললেন - إنِّي جائع فاطعمني "আমি ক্ষুর্ধাত, আমাকে খাদ্য দাও" কিন্তু মুর্তি কোনো উত্তর দিল না। আবার বললেন- اني عار فاکسنی "আমি বস্ত্রহীন, আমাকে কাপড় পরিধান করাও।" এবারও মুর্তির পক্ষ হতে কোনো কথা আসল না। তখন এ শিশু একটি পাথর হাতে নিয়ে বলল- এখন আমি তোমাকে পাথর মারছি ان كنت الها فامنع نفسك "তুমি যদি খোদা হও, তবে তুমি নিজেকে বাঁচাও।"
এবারও মুর্তির কোনো প্রতিক্রিয়া দেখতে না পেয়ে শিশু সিদ্দিকে আকবর হাতে থাকা পাথর খুব জোরে জোরে উক্ত মুর্তির গায়ে মারতে লাগলেন। মুর্তি মাটিতে পড়ে গেল। তখন পিতা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন- "হে আমার ছেলে! তুমি এটা কি করলে?" তিনি উত্তরে বললেন- "তাই করেছি, যা আপনি দেখেছেন।"
অতঃপর পিতা পুত্রকে নিয়ে মাতা উম্মুল খাইর রাদ্বিয়াল্লাহ আনহা (তিনি পরবর্তীতে সাহাবী হয়েছেন) 'র নিকট এসে সকল ঘটনা খুলে বললেন। মাতা সবকিছু শুনে বললেন- "হে আবু কুহাফা! আপনি এ বাচ্চাকে কিছু বলবেন না। কেননা এ একজন অসাধারণ-শিশু। এ শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয় তখন আমার নিকট কেউ ছিলনা, হঠাৎ-আমি এক গায়েবী আওয়াজ শুনলাম
অনুবাদ: হে আল্লাহর সত্যিকার বান্দিনী! তুমি জাহান্নাম হতে মুক্ত সন্তানের শুভসংবাদ গ্রহণ কর। আসমানে তাঁর নাম সিদ্দীক। তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথী ও বন্ধু।"
সিদ্দীকে আকবর ও কুরআনের আয়াত
আল ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী রহ. তাঁর স্বীয় কিতাব تاريخ الخلفاء এবং ফক্কিহে মিল্লাত মুফতি জালালুদ্দিন আহমদ আমজাদী স্বরচিত কিতাব خطبات محرم এর মধ্যে লিখেছেন যে, সিদ্দিকে আকবর রাদ্বিয়াল্লাহ আনহুর শানে অনেক আয়াতে কারিমা নাযিল হয়েছে। যেমন:
১। সত্যের সাক্ষ্যদাতা
অর্থ: "যিনি সত্যকে নিয়ে এসেছেন এবং যিনি সে সত্যকে বিশ্বাস করেছেন। তারাই মুত্তাকি।" (সূরা যুমার: ৩৩)
এ আয়াতে الذي جاء দ্বারা উদ্দেশ্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং وصدق به দ্বারা সিদ্দিকে আকবর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উদ্দেশ্য।
২। গুহার সাথী
অর্থ: "হে মুসলমানরা, তোমরা যদি তাঁকে (আমার রাসূল দ. কে) সহযোগিতা না কর, তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবেন। যখন কাফেররা তাঁদের দুজনকে বের করে দিল, তখন তাঁরা সওর গুহায় ছিলেন। এসময় একজন অপর সঙ্গীকে বললেন- চিন্তা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথেই আছেন।" (সূরা তাওবা: ৪০)
এ আয়াত ঐতিহাসিক হিজরত এর প্রতি ইঙ্গিত করে নাজিল করা হয়েছে, যখন উভয়ে সওর গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। উপরিউক্ত আয়াতাংশে ثاني اثنين এবং صاحبه দ্বারা রাসূল (স.) এবং আবু বকর সিদ্দিক রা. কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
৩। নিঃস্বার্থ দান
অর্থ: "এবং তার নিকট কারো এমন কোনো অনুগ্রহ নেই, যার প্রতিদান দিতে হবে, শুধু আপন প্রতিপালকের সন্তুষ্টি কামনা করে, যিনি সবচেয়ে মহান।" (সূরা লায়ল: ১৯-২০)
উপরিউক্ত আয়াতে কারিমাদ্বয়ের শানে নুযূলে কানযুল ঈমান (বঙ্গানুবাদ) এর ১০৮৩ পৃষ্ঠায় লিখা আছে- সিদ্দিকে আকবর রা. হযরত বেলাল রা.-কে তার মালিকের দেয়া তীব্র কষ্ট ও শাস্তি থেকে মুক্ত করতে চড়ামূল্যে খরিদ করে আযাদ করে দেন। এ দেখে কাফিররা আশ্চর্যান্বিত হয়ে সমালোচনা করে বলতে লাগলো- হযরত বেলাল ইতিপূর্বে আবু বকরের প্রতি কোনো ইহসান করেছেন তা শোধ করার জন্য মূলত আবুবকর এরূপ কাজ করেছেন। তখন আল্লাহ পাক এ আয়াত নাযিল করেন।
হাদিসে পাকে সিদ্দিকে আকবর
হযরত সৈয়্যদুনা আবুবকর সিদ্দিক রা.-এর শানে, ফজিলতে ও মানকাবাতে অসংখ্য হাদিসে পাক রয়েছে। পাঠকের জ্ঞাতার্থে এবং বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে নিম্নে কয়েকটি উপস্থাপন করা হলো:
১। হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন- নিশ্চয় আমার সম্মানিত পিতা আবু বকর রা. রাসুলুল্লাহ-এর খেদমতে হাজির হন। তখন তিনি বললেন- "তুমি জাহান্নামের আগুন হতে মুক্ত।" হযরত আয়েশা রা. বলেন- সেদিন হতে তাঁকে (আমার পিতাকে) আতিক নামে নামকরণ করা হয়। (তিরমিযী শরীফ ও মেশকাত শরীফ ৫৫৬ পৃষ্ঠা)
২। হযরত আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহ আনহা বলেন- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৈয়্যেদুনা আবু বকর সিদ্দিক রা. কে খেতাব করে বলেন:
অর্থ: "হে আবু বকর! আমার উম্মত হতে যারা বেহেশতে প্রবেশ করবে, অবশ্যই তুমি তাদের প্রথম হবে।" (আবু দাউদ এবং মেশকাতুল মাসাবীহ, পৃষ্ঠা ৫৫৬)
৩। হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- "আবু বকরকে ভালোবাসো এবং তার শোকর আদায় করা আমার প্রত্যেক উম্মতের উপর ওয়াজিব।" (تاريخ الخلفاء পৃষ্ঠা ৮০)
রাসূল (স.)-এর প্রেমে সিদ্দিকে আকবরের কান্না
সৈয়্যেদুনা আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহ আনহু ছিলেন রাসূল প্রেমে পরিপূর্ণ। তিনি ছিলেন ফানাফির রাসূল। ফানাফির রাসূলের তিনি প্রথম ও প্রধান দৃষ্টান্ত। প্রসিদ্ধ মতানুসারে তিনি রাসুল'র প্রেমে তিনবার কান্না করেছেন।
১। সর্বস্ব দানের কান্না
সিদ্দিকে আকবর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন বড় দানশীল। তিনি রাসূলে পাকের মহব্বতে অকাতরে দান করেন। এমন কি যাবতীয় স্বর্ণমুদ্রা কিংবা রোপ্যাদি নবীর কদমে সোপর্দ করেন। হযরত আয়েশা রা. ও হযরত ওরওয়া বিন যুবাইর রা. বলেন- নিশ্চয়ই আবু বকর রা. ইসলাম গ্রহণ করেন। যেদিন তিনি ইসলাম ধর্ম কবুল করেন, সেদিন তাঁর চল্লিশ হাজার দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) কিংবা চল্লিশ হাজার দেরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) ছিল। সবগুলো তিনি রাসূলে পাক-এর চরণে সোর্পদ করেন। ফলে রাসুলুল্লাহ খুশি হয়ে একদিন নবুয়তের জবানে ঘোষণা দিলেন-
অর্থ: "কারো মাল-সম্পদ আমার এত উপকারে আসেনি, আবু বকরের সম্পদ আমার যত উপকারে এসেছে।"
রাসূলে পাকের উপরিউক্ত বাণী শুনে আবু বকর রা. কেঁদে দিলেন এবং বললেন- "ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি এবং আমার মাল আপনারই জন্য।" (تاريخ الخلفاء পৃষ্ঠা-৩৫ এবং মেশকাতুল মাসাবীহ ৫৫৫ পৃষ্ঠা)
২। বিদায়ের ইঙ্গিতে কান্না
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম রাহমাতুল্লাহি আলাইহিমা হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর বর্ণনা-সংকলন করেন। তিনি বলেন, একদিন রাসুল মানুষদেরকে ভাষণ প্রদান করেন এবং বলেন- "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা একজন বান্দাকে দুনিয়া ও তাঁর (আল্লাহর) কাছে যা রয়েছে তার মধ্যে ইখতিয়ার দিলেন। তবে সে বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা গ্রহণ করেছেন।"
এ বাণী শুনে আবু বকর রা. অঝোরে কেঁদে দিলেন এবং বললেন- نفديك باباتنا وأمهاتنا "আমাদের পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ করছি ইয়া রাসুলাল্লাহ!" (تاريخ الخلفاء পৃষ্ঠা ৩৭ এবং সহীহ বুখারী পৃষ্ঠা ৫৫২)। দেখুন! উপরিউক্ত বর্ণনায় সিদ্দিকে আকবর রা. রাসূলে পাক-এর দুনিয়াবী বিদায়ের কথা বুঝতে পেরে শোকে কান্না করেছেন।
৩। হিজরতের সাথী হওয়ার আনন্দে কান্না
সিদ্দিকে আকবর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ-এর বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারতেন না। সর্বদা রাসূলে পাকের সঙ্গে থাকতেন। একদিন দ্বিপ্রহরের সময় রাসূল সিদ্দিকে আকবরের ঘরের দিকে আসছেন। তিনি ঘর হতে বের হয়ে দেখলেন সত্যিই তো রাসূলে পাক আসছেন। অতঃপর রাসূলে পাক বললেন- "আমাকে হিজরতের আদেশ দেওয়া হয়েছে।"
তখন সিদ্দিকে আকবর রা. আবেদন পেশ করে বলেন- "ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ, আমাকে কি আপনার হিজরতের সাথী বানাবেন?" রাসুল বললেন- “হ্যাঁ”।
রেওয়াতে এসেছে এ শুভ ঘোষণা শুনে সিদ্দিকে আকবর আনন্দে কেঁদে দিলেন। হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বললেন- "মানুষ যে খুশিতে কাঁদেন এটা আমি প্রথম দেখেছি। এ ধরনের চিত্র ইতিপূর্বে আমি দেখিনি।" (সহীহ বুখারী শরীফ, ৫৫৩ পৃষ্ঠা)
জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসা
কোনো মুসলমান রাসুল (স.) কে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে না পারলে পূর্ণাঙ্গ মুমিন হবে না। নিজের প্রাণের চেয়েও রাসূলে পাককে বেশি ভালোবাসার প্রমাণ দেখিয়েছেন সৈয়্যেদুনা আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।
সওর গুহায় আত্মত্যাগ
হিজরতের সময় সিদ্দিকে আকবর রা. যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে গারে সওর-এ প্রবেশের আগ মূহুর্তে বলেন- "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আল্লাহর শপথ, আপনি আমার আগে গারে প্রবেশ করবেন না। কেননা উহাতে যদি কোনো কষ্টদায়ক বস্তু তথা সাপ-বিচ্ছু থাকে, তাহলে সে কষ্ট যেন আমার কাছে পৌঁছে, আপনি যাতে মাহফুজ থাকেন।" (মিশকাতুল মাসাবীহ পৃ. ৫৫৬)
সিদ্দিকে আকবর গারে প্রবেশ করে দেখলেন উহার পাশে কতগুলো ছিদ্র। নিজের পরনের কাপড় ছিঁড়ে সবকটি ছিদ্রের মুখ বন্ধ করলেন আর দুইটি ছিদ্র অবশিষ্ট রয়ে গেল। তখন তিনি নিজের দু'পায়ের গোড়ালি দিয়ে ছিদ্র দুটি বন্ধ করে দিলেন। অতঃপর রাসূল গুহায় প্রবেশ করে আবু বকর রা. এর কোলে মস্তক মোবারক রেখে ঘুমিয়ে পড়েন।
পায়ে গর্ত হতে সাপ দংশন করে কিন্তু সিদ্দিকে আকবর রাসূলে পাক-এর ঘুম ভেঙ্গে যাবে এ ভয়ে নড়াচড়া পর্যন্ত করলেন না। বিষের তীব্র ব্যথায় চক্ষু হতে অশ্রু বেয়ে রাসুল এর মুখ মোবারকে পড়লে তিনি জাগ্রত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন! "হে আবু বকর! তোমার কী হয়েছে?" তিনি উত্তরে বললেন- "আমি দংশিত হয়েছি।" তখন রাসূলে পাক নিজের থুথু মোবারক ঐ দংশিত স্থানে লাগিয়ে দিলেন। এতে সাথে সাথে বিষ চলে গেল, সুবহানাল্লাহ। (মিশকাতুল মাসাবীহ, পৃষ্ঠা ৪৫৬)
দেখুন সাপের কামড়ে বিষের যন্ত্রণায় সিদ্দিকে আকবরের চোখ হতে অশ্রু বেয়ে পড়ছে কিন্তু রাসুলুল্লাহ-এর ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে এ ভয়ে তিনি নড়াচড়া পর্যন্ত করলেন না, তিনি নিজের জীবনের চাইতেও রাসূলে পাকের আরাম অধিক প্রাধান্য দিয়েছিলেন।
প্রেম-ভালোবাসার বদৌলতে সৈয়্যেদুনা আবু বকর 'সিদ্দিক' হয়েছেন, 'আফজালুন নাস বা'দাল আম্বিয়া' হয়েছেন। তিনি দুনিয়াতে যেমন সর্বদা রাসূল পাক-এর সঙ্গে থাকতেন, আলমে বারযখেও তিনি রসুলুল্লাহ-এর সাথেই আছেন, ময়দানে হাশরেও থাকবেন, বেহেশতেও রাসূলে পাকের সাথে থাকবেন। আল্লাহপাক আমাদেরও সিদ্দিকে আকবর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মতো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি প্রেম-মহব্বত-তা'যিম দান করুন। আমীন।
- হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা.